
যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টারের একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় এক শিক্ষক ও দুই শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। এ ঘটনায় ১৪ বছর বয়সী এক ছাত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ম্যানচেস্টারের ব্ল্যাকলি এলাকায় অবস্থিত কো-অপ একাডেমিতে এ ঘটনা ঘটে। একাধিক ছুরিকাঘাতের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ। পরে সন্দেহভাজন হিসেবে বিদ্যালয়েরই এক ১৪ বছর বয়সী ছাত্রীকে গুরুতর হামলার অভিযোগে আটক করা হয়।
গ্রেটার ম্যানচেস্টার পুলিশ জানিয়েছে, আহতদের মধ্যে ১৪ বছর বয়সী এক ছাত্র, ১৪ বছর বয়সী এক ছাত্রী এবং ২৭ বছর বয়সী এক শিক্ষক রয়েছেন। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং সবাই বর্তমানে স্থিতিশীল অবস্থায় আছেন। আহতদের কারও জীবনহানির আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ছাত্রীটির কাঁধে, ছাত্রটির কানে এবং শিক্ষকের ঘাড়ে ছুরিকাঘাত করা হয়। ঘটনার পরপরই বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পুরো ক্যাম্পাসে লকডাউন জারি করে।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, শিক্ষক ও কর্মীরা দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং পুলিশ পৌঁছানোর আগেই অভিযুক্ত ছাত্রীকে আটকে রাখতে সক্ষম হন। স্কুলের এক মুখপাত্র বলেন, ওই শিক্ষার্থীর কাছে অস্ত্র রয়েছে—এমন কোনো পূর্বাভাস বা তথ্য তাদের কাছে ছিল না। তিনি জানান, শিক্ষা বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী বিদ্যালয়ে তল্লাশি ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত নীতিমালা থাকলেও ছোট অস্ত্র সহজেই গোপন করা সম্ভব।
গ্রেটার ম্যানচেস্টার পুলিশের চিফ ইনস্পেক্টর জন শিলভক বলেন, ঘটনাটি শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তবে স্কুল কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপের ফলে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে। তিনি আরও বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে বৃহত্তর জননিরাপত্তার কোনো হুমকি জড়িত বলে মনে করা হচ্ছে না।
ঘটনার পর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে অভিভাবকদের মধ্যে। অনেকেই স্কুলে ছুটে আসেন সন্তানদের খোঁজ নিতে। নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর বাবা পিটার উডস বলেন, অন্য স্কুলে এমন ঘটনা ঘটার খবর প্রায়ই শোনা যায়, কিন্তু নিজের সন্তানের স্কুলে এমন ঘটনা ঘটবে তা কখনও কল্পনা করেননি। তিনি ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে স্কুল কী ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করবে, সে বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
আরেক অভিভাবক অরেও ডোমবাক্সে জানান, সকালে সন্তানকে স্কুলে নামিয়ে দেওয়ার সময় তিনি বিপুলসংখ্যক পুলিশ দেখতে পান। পরে ঘটনার বিস্তারিত জানতে পেরে তিনি গভীরভাবে মর্মাহত হন।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং তারা সবাই সুস্থতার পথে রয়েছেন। স্কুলটি মঙ্গলবারের জন্য বন্ধ রাখা হলেও বুধবার থেকে স্বাভাবিক কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে। শিক্ষার্থীদের মানসিক সহায়তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হবে এবং এলাকায় পুলিশি উপস্থিতিও অব্যাহত থাকবে।
স্কুল কর্তৃপক্ষ তাদের শিক্ষক-কর্মীদের দ্রুত ও সাহসী ভূমিকার প্রশংসা করে বলেছে, সংকটময় মুহূর্তে তারা দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছেন। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীরাও পরিস্থিতি মোকাবিলায় পরিপক্ব আচরণ করেছে বলে উল্লেখ করা হয়।