
শ্রীলঙ্কার কলম্বোয় আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে না খেলার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে পাকিস্তান।
দেশটির সরকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানিয়েছে, ‘অর্জিত ফলাফল এবং বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর অনুরোধের প্রেক্ষিতে’ ভারতকে মোকাবিলার জন্য পাকিস্তান দলকে মাঠে নামার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
গত কয়েক দিন ধরে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সবচেয়ে আলোচিত ও লাভজনক এই ম্যাচে পাকিস্তানকে ফেরাতে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি), বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এবং আইসিসির মধ্যে নিবিড় আলোচনা চলছিল। সোমবার সকালে ইএসপিএন ক্রিকইনফো জানিয়েছিল, এই আলোচনা ইতিবাচক ফলের দিকে এগোচ্ছে।
সোমবার সন্ধ্যায় পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি বলেন, ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলা নিয়ে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে। এর কিছুক্ষণ আগেই আইসিসি বাংলাদেশের ব্যাপারে তাদের অবস্থান শিথিল করার ঘোষণা দেয়।
উল্লেখ্য, ভারতে ভ্রমণে অস্বীকৃতি জানানোর কারণে বাংলাদেশকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। তবে আইসিসি জানিয়েছে, বাংলাদেশের ওপর কোনো জরিমানা করা হবে না। পাশাপাশি ২০২৮-২০৩১ চক্রে বাংলাদেশকে একটি অতিরিক্ত আইসিসি টুর্নামেন্ট আয়োজনের স্বত্ব দেওয়া হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিসিবি এক বিবৃতিতে পিসিবিকে সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানায় এবং ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচে অংশ নেওয়ার জন্য পাকিস্তানের প্রতি অনুরোধ জানায়।
এর আগে গত রোববার বিসিবি চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম এবং আইসিসি পরিচালক ইমরান খাজা পিসিবির সঙ্গে আলোচনার জন্য লাহোরে পৌঁছান। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ বলেন, বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় সংহতি প্রকাশ করতেই ভারত ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
আইসিসির বোর্ড সভায় বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিপক্ষে বিসিবি ছাড়া একমাত্র পিসিবিই ভোট দিয়েছিল। এ বিষয়ে মহসিন নাকভি আইসিসির বিরুদ্ধে ‘দ্বিমুখী নীতি’ অনুসরণের অভিযোগ তোলেন এবং বাংলাদেশের সঙ্গে ‘অবিচার’ করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন। আইসিসির সঙ্গে আলোচনায় এই বিষয়টি গুরুত্ব পায় এবং বাংলাদেশের জন্য কিছু সুবিধা আদায়ের লক্ষ্যে পিসিবি শেষ পর্যন্ত তাদের বয়কটের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে।