
লন্ডন আন্ডারগ্রাউন্ড চালকদের ঘোষিত ধর্মঘট শেষ মুহূর্তে বাতিল করেছে রেল, মেরিটাইম অ্যান্ড ট্রান্সপোর্ট ইউনিয়ন (আরএমটি)। মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার নির্ধারিত ২৪ ঘণ্টার ধর্মঘট স্থগিত হওয়ায় রাজধানীজুড়ে সম্ভাব্য বড় ধরনের ভোগান্তি থেকে রক্ষা পেয়েছেন লাখো যাত্রী।
এর আগে মঙ্গলবার দুপুর থেকে প্রথম দফা ধর্মঘট এবং বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে দ্বিতীয় দফা কর্মবিরতি শুরু হওয়ার কথা ছিল। ধর্মঘট কার্যকর হলে লন্ডনের টিউব নেটওয়ার্কে ব্যাপক অচলাবস্থা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছিল।
আরএমটির এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, শেষ মুহূর্তে ট্রান্সপোর্ট ফর লন্ডন (টিএফএল) তাদের অবস্থানে পরিবর্তন এনেছে, যার ফলে নতুন ডিউটি রোস্টার, চালকদের ক্লান্তি এবং নিরাপত্তা নিয়ে ইউনিয়নের উদ্বেগগুলো আরও বিস্তারিতভাবে আলোচনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বিরোধ এখনো শেষ হয়নি এবং পর্যাপ্ত অগ্রগতি না হলে ভবিষ্যতে আবারও ধর্মঘট ডাকা হবে।
লন্ডন আন্ডারগ্রাউন্ডের কাস্টমার অপারেশন্স পরিচালক নিক ডেন্ট ধর্মঘট প্রত্যাহারকে “লন্ডনের জন্য সুখবর” বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, স্বেচ্ছাভিত্তিক চার দিনের কর্মসপ্তাহের প্রস্তাব চালকদের কাজ ও ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য উন্নত করবে এবং যাত্রীসেবার নির্ভরযোগ্যতাও বাড়াবে। একই সঙ্গে তিনি জানান, এ বিষয়ে সব শ্রমিক ইউনিয়নের সঙ্গে আরও আলোচনা চালিয়ে যাওয়া হবে।
যদিও চলতি সপ্তাহের ধর্মঘট বাতিল হয়েছে, তবুও বিরোধ নিষ্পত্তি না হলে আগামী ২ জুন ও ৪ জুন নতুন করে ধর্মঘট পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। তবে ১৬ ও ১৮ জুনের পূর্বঘোষিত ধর্মঘট আপাতত বাতিল করা হয়েছে।
বিরোধের মূল কারণ টিএফএলের প্রস্তাবিত নতুন চার দিনের কর্মসপ্তাহ। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী অধিকাংশ চালকের সাপ্তাহিক কর্মঘণ্টা ৩৬ ঘণ্টা থেকে কমিয়ে ৩৫ ঘণ্টা করা হবে, তবে বেতন অপরিবর্তিত থাকবে। টিএফএলের দাবি, এটি সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাভিত্তিক এবং যারা পাঁচ দিনের কর্মসূচিতে থাকতে চান, তারা তা চালিয়ে যেতে পারবেন।
কিন্তু আরএমটির অভিযোগ, নতুন শিফট ব্যবস্থায় কর্মঘণ্টা দীর্ঘ হবে এবং এতে চালকদের অতিরিক্ত ক্লান্তি তৈরি হয়ে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়তে পারে। ইউনিয়নের দাবি, চালকদের জন্য চার দিনে ৩২ ঘণ্টার কর্মসপ্তাহ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে একই বেতনে কম সময় কাজ করা যায়।
এর আগে আরএমটির কর্মকর্তা জ্যারেড উড বলেছিলেন, বিরোধ মেটাতে হলে টিএফএলকে তাদের প্রস্তাবে পরিবর্তন আনতে হবে। অন্যদিকে টিএফএলের চিফ অপারেটিং অফিসার ক্লেয়ার মান বিবিসিকে বলেন, নতুন পরিকল্পনার মাধ্যমে চালকদের অতিরিক্ত একদিন ছুটি দেওয়া সম্ভব হবে এবং এটি অন্যান্য ট্রেন পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মপদ্ধতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, আপাতত ধর্মঘট স্থগিত হওয়ায় লন্ডনের যাত্রীরা স্বস্তি পেলেও শ্রমিক ইউনিয়ন ও টিএফএলের মধ্যে বিরোধ পুরোপুরি মেটেনি। ফলে আগামী মাসে আবারও টিউব ধর্মঘটের আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।