
লন্ডনের একটি ২০ মাইল গতিসীমা এলাকায় ঘণ্টায় ২৮ মাইল বেগে গাড়ি চালানোর দায়ে এক নারী মোটরচালককে তিন মাসের জন্য গাড়ি চালানো থেকে নিষিদ্ধ করেছে আদালত। একই সঙ্গে তাকে জরিমানাও করা হয়েছে।
দক্ষিণ-পূর্ব লন্ডন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ৫৯ বছর বয়সী ওই নারীকে দোষী সাব্যস্ত করে। গত বছরের জুলাই মাসে ওয়েস্টমিনস্টারের বেইজওয়াটার রোডে একটি ট্রুভেলো লেজারক্যাম-৪ স্পিড ক্যামেরায় তার গাড়ির গতি রেকর্ড করা হয়। নির্ধারিত ২০ মাইল গতিসীমা অতিক্রম করে তিনি ঘণ্টায় ২৮ মাইল বেগে গাড়ি চালাচ্ছিলেন।
আদালত তাকে ৪০ পাউন্ড জরিমানা, ৩২ পাউন্ড ভিকটিম সারচার্জ এবং ৬০ পাউন্ড মামলার খরচ পরিশোধের নির্দেশ দেয়। এছাড়া তার ড্রাইভিং লাইসেন্সে তিনটি পেনাল্টি পয়েন্ট যোগ করা হয়েছে।
অক্সফোর্ডের কাছাকাছি একটি গ্রামের বাসিন্দা ওই নারী এর আগেও একাধিকবার ট্রাফিক আইন ভঙ্গের কারণে শাস্তি পেয়েছিলেন। পুনরাবৃত্ত অপরাধের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আদালত তাকে তিন মাসের জন্য ড্রাইভিং নিষেধাজ্ঞা দেয়। তবে তার অপরাধ স্বীকারোক্তি এবং অন্যান্য পরিস্থিতি বিবেচনা করে আরও ছয় মাসের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা সমীচীন হবে না বলে আদালত মত দেয়। রায়ের সময় পর্যন্ত তিনি ইতোমধ্যে তিন মাস সড়ক থেকে দূরে ছিলেন।
লন্ডনের অর্ধেকেরও বেশি সড়কে বর্তমানে ২০ মাইল গতিসীমা কার্যকর রয়েছে। মেয়রের ‘ভিশন জিরো’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই নীতি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, যার লক্ষ্য ২০৪১ সালের মধ্যে রাজধানীর সড়কে মৃত্যু ও গুরুতর আহতের ঘটনা শূন্যে নামিয়ে আনা। এ লক্ষ্যে ২০ মাইল গতিসীমা এবং লো ট্রাফিক নেবারহুড প্রকল্প সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ঘণ্টায় ৩০ মাইল বেগে চলা গাড়ির ধাক্কায় মৃত্যুর ঝুঁকি ঘণ্টায় ২০ মাইল বেগে চলা গাড়ির তুলনায় প্রায় পাঁচ গুণ বেশি। এ কারণে ট্রান্সপোর্ট ফর লন্ডন (টিএফএল) ২০৩৫ সালের মধ্যে মধ্য ও অভ্যন্তরীণ লন্ডনের অধিকাংশ এলাকায় ২০ মাইল গতিসীমাকে মানদণ্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নিয়েছে।
যুক্তরাজ্যে সাধারণত কোনো চালক গতিসীমা লঙ্ঘন করলে ন্যূনতম ১০০ পাউন্ড জরিমানা এবং তিনটি পেনাল্টি পয়েন্ট পান। তিন বছরের মধ্যে ১২ বা তার বেশি পয়েন্ট জমা হলে ড্রাইভিং নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারেন। নতুন চালকদের ক্ষেত্রে নিয়ম আরও কঠোর; পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর প্রথম দুই বছরের মধ্যে ছয় বা তার বেশি পয়েন্ট পেলে তাদের লাইসেন্স বাতিল হতে পারে।
স্পিড ক্যামেরায় ধরা পড়লে চালকের কাছে ১৪ দিনের মধ্যে ‘নোটিশ অব ইনটেন্ডেড প্রসিকিউশন’ পাঠানো হয়। এরপর সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর তাকে আদালতে হাজির হতে বা নির্দিষ্ট জরিমানা নোটিশ গ্রহণ করতে বলা হয়। অনেক ক্ষেত্রে চালকদের স্পিড অ্যাওয়ারনেস কোর্সে অংশ নেওয়ার সুযোগও দেওয়া হয়। আরএসি ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১০ সাল থেকে এক কোটিরও বেশি চালক এ ধরনের কোর্সে অংশ নিয়েছেন।