স্বাস্থ্য

ইংল্যান্ডে প্রোস্টেট ক্যানসারে যুগান্তকারী রেডিওথেরাপি: ২০ সেশনের বদলে মাত্র ৫ সেশন

15733_461b52a0-6490-11f1-8546-8f19e4fe30f4.jpg

ইংল্যান্ডে প্রোস্টেট ক্যানসারে আক্রান্ত হাজারো পুরুষকে এখন অত্যাধুনিক উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন নির্ভুল রেডিওথেরাপি চিকিৎসা দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে প্রচলিত ২০টি সেশনের পরিবর্তে মাত্র পাঁচটি সেশনেই চিকিৎসা সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।

নতুন এই প্রযুক্তির নাম স্টেরিওট্যাকটিক অ্যাবলেটিভ রেডিওথেরাপি (SABR)। চিকিৎসকরা বলছেন, এই পদ্ধতিতে ক্যানসার আক্রান্ত স্থানে অত্যন্ত নির্ভুলভাবে উচ্চমাত্রার রেডিওথেরাপি প্রয়োগ করা যায়, ফলে সুস্থ কোষের ক্ষতি কম হয় এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও তুলনামূলকভাবে হ্রাস পায়।

এ প্রযুক্তি ইতোমধ্যে ফুসফুস ও মস্তিষ্কসহ কিছু ক্যানসারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে এবারই প্রথমবারের মতো ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের বাইরে নিম্ন ও মধ্যম ঝুঁকির প্রোস্টেট ক্যানসার রোগীদের জন্য এটি চালু করা হচ্ছে।

প্রতি বছর ইংল্যান্ডে প্রায় ৫৫ হাজার পুরুষ প্রোস্টেট ক্যানসারে আক্রান্ত হন। এর মধ্যে প্রায় ১৭ হাজার ৫০০ জনকে নিম্ন বা মধ্যম ঝুঁকির রোগী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, তাদের মধ্যে অন্তত সাড়ে তিন হাজার রোগী নতুন এই চিকিৎসা গ্রহণ করবেন।

অনেক ক্ষেত্রে নিম্ন ঝুঁকির প্রোস্টেট ক্যানসার খুব ধীরে বৃদ্ধি পায় এবং দীর্ঘ সময় কোনো জটিলতা তৈরি করে না। এ কারণে কিছু রোগী তাৎক্ষণিক চিকিৎসার বদলে নিয়মিত পর্যবেক্ষণে থাকার সিদ্ধান্ত নেন। তবুও নতুন এ প্রযুক্তি দ্রুত ও কার্যকর চিকিৎসার সুযোগ এনে দেবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এনএইচএস ইংল্যান্ড জানিয়েছে, দেশের ৪৮টি রেডিওথেরাপি কেন্দ্রের সবগুলোতেই আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এই চিকিৎসা চালু করা হবে।

এনএইচএসের জাতীয় ক্যানসার ক্লিনিক্যাল পরিচালক অধ্যাপক পিটার জনসন বলেন, “এই প্রযুক্তি আমাদের ক্যানসারের ওপর অত্যন্ত নির্ভুলভাবে শক্তিশালী রেডিওথেরাপি প্রয়োগের সুযোগ দিচ্ছে, ফলে সুস্থ কোষের ক্ষতি সীমিত রাখা সম্ভব হচ্ছে। একই সঙ্গে ১৫টি কম সেশনে চিকিৎসা শেষ হওয়ায় রোগীরা দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন।”

প্রোস্টেট ক্যানসার ইউকের প্রতিনিধি অ্যামি রাইল্যান্স বলেন, “ইংল্যান্ডের হাজারো পুরুষ এখন এই বিপ্লবী লক্ষ্যভিত্তিক রেডিওথেরাপির সুবিধা পাবেন—এটি নিঃসন্দেহে দারুণ সুখবর। এতে রোগী ও তাদের পরিবারের ওপর ক্যানসারের চাপ অনেকটাই কমে আসবে।”

বর্তমানে উচ্চ ঝুঁকির প্রোস্টেট ক্যানসার রোগীদের ক্ষেত্রেও এই প্রযুক্তি কার্যকর কি না, তা নিয়ে বিভিন্ন ট্রায়াল চলছে।

সাফোকের ৭০ বছর বয়সী এডউইন ল্যামবার্ট বর্তমানে এমনই একটি ট্রায়ালের অংশ। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তার প্রোস্টেট ক্যানসার ধরা পড়ে। প্রথমে তিনি হরমোন থেরাপি নেন, যার ফলে যৌন আকাঙ্ক্ষা কমে যাওয়া, অতিরিক্ত গরম লাগা, মেজাজের পরিবর্তন ও ক্লান্তির মতো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

পরে তিনি নতুন ধরনের এই রেডিওথেরাপি গ্রহণ করেন, যা তার প্রোস্টেট ও আশপাশের লিম্ফ নোডে প্রয়োগ করা হয়। তার ভাষায়, এই চিকিৎসা “অনেক সহজ ও সহনীয়” ছিল।

তিনি জানান, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রচলিত রেডিওথেরাপি নেওয়া অন্য রোগীদের তিনি অত্যন্ত দুর্বল ও ক্লান্ত দেখেছেন। তুলনামূলকভাবে তিনি অনেক ভালো অনুভব করেছেন। যদিও চিকিৎসার সময় ও কিছুদিন পরে তার ঘন ঘন প্রস্রাবের প্রয়োজন হতো, তবে মাত্র পাঁচ সপ্তাহের মধ্যেই তিনি দীর্ঘদিনের পরিকল্পিত একটি প্রত্নতাত্ত্বিক খননকাজে অংশ নিতে সক্ষম হন।

এডউইন বলেন, “এই চিকিৎসা আমার জন্য সত্যিই আশীর্বাদ হয়ে এসেছে।”

সর্বাধিক পঠিত


ভিডিও