
মেক্সিকো সিটি: ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে এবারই প্রথম তিনটি পৃথক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পর্দা উঠতে যাচ্ছে আসরের। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করছে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো। তিনটি স্বাগতিক দেশের সংস্কৃতি ও পরিচয়কে তুলে ধরতেই প্রথমবারের মতো তিনটি আলাদা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফিফা।
বিশ্বকাপের প্রথম উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক এস্তাদিও অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে। উদ্বোধনী ম্যাচ মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার খেলা শুরুর ৯০ মিনিট আগে অনুষ্ঠানের পর্দা উঠবে। বাংলাদেশ সময় গভীর রাতের আগে এবং যুক্তরাজ্যের সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় অনুষ্ঠানটি শুরু হবে।
মেক্সিকোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশ্বখ্যাত পপ তারকা শাকিরা ও আফ্রোবিটস শিল্পী বার্না বয় পারফর্ম করবেন বলে জানা গেছে। তারা বিশ্বকাপের অফিসিয়াল গান ‘দাই দাই’ পরিবেশন করবেন। এছাড়া ইতালীয় টেনর আন্দ্রেয়া বোচেল্লি, ডিজে ডেভিড গেত্তা, মেগান থি স্ট্যালিয়ন এবং ইজেই বিশ্বকাপের অফিসিয়াল অ্যান্থেম ‘ডিএনএ’ পরিবেশন করবেন। লাতিন সঙ্গীতের জনপ্রিয় শিল্পী জে বালভিন, মানা, আলেহান্দ্রো ফার্নান্দেজ এবং লস অ্যাঞ্জেলেস আজুলেসও অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।
পরদিন ১২ জুন কানাডার টরন্টোর বিএমও ফিল্ডে অনুষ্ঠিত হবে দ্বিতীয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। পুরুষদের ফুটবল বিশ্বকাপের ম্যাচ প্রথমবারের মতো আয়োজন করতে যাচ্ছে কানাডা, তাই এই অনুষ্ঠানকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। উদ্বোধনী আয়োজনে অংশ নেবেন কানাডার জনপ্রিয় শিল্পী মাইকেল বুবলে ও অ্যালানিস মরিসেট। তাদের সঙ্গে থাকবেন আন্তর্জাতিক তারকা এলিয়ানা ও নোরা ফাতেহি। অনুষ্ঠানের পর মাঠে নামবে কানাডা ও বসনিয়া-হার্জেগোভিনা।
বিশ্বকাপের তৃতীয় ও শেষ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্রে। ১২ জুন ক্যালিফোর্নিয়ার সোফি স্টেডিয়ামে আয়োজিত এই অনুষ্ঠান যুক্তরাজ্যের সময় ১৩ জুন ভোর সাড়ে ১২টায় শুরু হবে। এর পরপরই যুক্তরাষ্ট্র ও প্যারাগুয়ের মধ্যকার ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান আকর্ষণ হিসেবে থাকবেন বিশ্বখ্যাত পপ তারকা কেটি পেরি। তার সঙ্গে মঞ্চে পারফর্ম করবেন কে-পপ তারকা লিসা এবং হিপ-হপ শিল্পী ফিউচার। আয়োজকরা আশা করছেন, এই অনুষ্ঠান বিশ্বকাপের অন্যতম বড় বিনোদনমূলক আয়োজন হিসেবে দর্শকদের নজর কেড়ে নেবে।
১১ জুন থেকে শুরু হওয়া ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ চলবে ১৯ জুলাই পর্যন্ত। এটি হবে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় আসর। প্রথমবারের মতো ৪৮টি জাতীয় দল অংশ নেবে এবং মোট ১০৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর ১৬টি শহরে ছড়িয়ে থাকবে এই মহাযজ্ঞের আয়োজন।
ফিফার এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের মাধ্যমে শুধু ফুটবল নয়, তিনটি স্বাগতিক দেশের সংস্কৃতি, সঙ্গীত ও ঐতিহ্যকেও বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।