লন্ডন

লন্ডনে কবুতরকে স্যান্ডউইচের ক্রাস্ট খাওয়ানোয় শিক্ষিকাকে ১৫০ পাউন্ড জরিমানা!

15758_Thumbnail-16~9-(4).jpg

লন্ডনের ইলিং এলাকার এক ইংরেজি শিক্ষক দুপুরের বিরতির সময় ক্ষুধার্ত কবুতরদের স্যান্ডউইচের ক্রাস্ট খেতে দেওয়ায় ১৫০ পাউন্ড জরিমানার মুখে পড়েছেন।
৩৬ বছর বয়সী হলি পাইপারকে ইলিং কাউন্সিলের দুইজন প্রয়োগকারী কর্মকর্তা (এনফোর্সমেন্ট অফিসার) জরিমানার নোটিশ দেন। ওই সময় তিনি পার্কে বসে কবুতরগুলোকে খাবার খেতে দেখছিলেন। পরে জরিমানার বিরুদ্ধে তিনি আপিল করলেও তা খারিজ হয়ে যায়।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হলি পাইপার বলেন, তিনি তার টুনা স্যান্ডউইচের ক্রাস্ট কবুতরগুলোকে দিয়েছিলেন। কিছুক্ষণ পর তিনি দেখতে পান কয়েকজন কর্মকর্তা তার দিকে এগিয়ে আসছেন। প্রথমে তিনি ভেবেছিলেন কেউ হয়তো তাকে ছিনতাই করতে আসছে, কারণ এর আগে লন্ডনে তার মোবাইল ফোন চুরি হয়েছিল। পরে কর্মকর্তাদের ইউনিফর্ম দেখে তিনি বুঝতে পারেন তারা কাউন্সিলের কর্মী।

তিনি বলেন, কর্মকর্তারা যখন তার কাছে আসেন, তখন কবুতরগুলো ইতোমধ্যে স্যান্ডউইচের ক্রাস্ট খেয়ে ফেলেছিল। তাই তিনি বিস্মিত হয়ে পড়েন এবং ভাবতে থাকেন, পাখিদের খাবার দেওয়া আদৌ কোনো অপরাধ কি না।

তবে ইলিং কাউন্সিল তাদের অবস্থান থেকে সরে আসেনি। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা ময়লা-আবর্জনা ফেলার বিষয়ে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি অনুসরণ করে। কাউন্সিলের দাবি, প্রকাশ্যে কবুতরদের খাবার দিলে সেখানে ইঁদুরসহ বিভিন্ন ধরনের উপদ্রবকারী প্রাণী আকৃষ্ট হতে পারে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করে।
এদিকে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিতর্কিত পরিস্থিতিতে জরিমানা দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এমনই একটি ঘটনা ঘটে ইংল্যান্ডের স্কেগনেস শহরে, যেখানে ৮৬ বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি রয় মার্শকে ২৫০ পাউন্ড জরিমানা করা হয়।

রয় মার্শ জানান, তিনি দক্ষিণ প্যারেড কার পার্কে বসে ছিলেন। এ সময় প্রবল বাতাসে একটি বড় পাতা বা শুকনো ঘাস তার মুখে ঢুকে যায়। সেটি মুখ থেকে ফেলে দেওয়ার পরপরই দুইজন কর্মকর্তা তার কাছে এসে জানান, তিনি মাটিতে থুতু ফেলেছেন।

পরে তিনি জরিমানার বিরুদ্ধে আপিল করেন এবং আংশিকভাবে সফলও হন। তবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ শেষ পর্যন্ত তাকে ১৫০ পাউন্ড পরিশোধ করতে বলে এবং তিনি সেই অর্থ পরিশোধ করেন।

রয় মার্শ বলেন, ঘটনাটি ছিল সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয় এবং বাস্তবতার তুলনায় অতিরঞ্জিত। তার মতে, এমন পরিস্থিতি যে কারও ক্ষেত্রেই ঘটতে পারত।
দুটি ঘটনাই যুক্তরাজ্যে স্থানীয় কাউন্সিলগুলোর জরিমানা আরোপের নীতি নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সমালোচকদের মতে, জনস্বার্থ রক্ষার নামে অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ নাগরিকদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত কঠোরতা দেখানো হচ্ছে। অন্যদিকে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বলছে, পরিচ্ছন্নতা ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার স্বার্থেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

সর্বাধিক পঠিত


ভিডিও