
নরওয়ের বিপক্ষে ২-১ গোলে হারের পর বিশ্বকাপ ২০২৬ থেকে ব্রাজিলের বিদায় নিশ্চিত হয়েছে। আর সেই ম্যাচের পরই ব্রাজিল ফুটবল তারকা নেইমার জুনিয়র আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন। ৩৪ বছর বয়সে, ১৩০ ম্যাচে ৮০ গোল করে ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে তিনি বিদায় নিলেন। কিন্তু এই বিদায় ঘিরে প্রশ্ন উঠছে-এটা কি সত্যিই শুধু ইনজুরির ফল, নাকি রাজনৈতিক ও সামাজিক চাপের শিকার?
বিশ্বকাপ ২০২৬-এ নেইমারের অংশগ্রহণ
এবারের বিশ্বকাপে নেইমার মাত্র দুটি ম্যাচে মাঠে নেমেছিলেন। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বে ১৫ মিনিট খেলেছিলেন (হাফটাইমের পর সাবস্টিটিউট হিসেবে)। নরওয়ের বিপক্ষে রাউন্ড অব ১৬-এ ৬৭-৬৮ মিনিটে নেমে স্টপেজ টাইমে (৯০+৮/৯০+১০) পেনাল্টি থেকে একটি গোল করেন। এটিই ছিল তাঁর বিশ্বকাপে শেষ গোল এবং আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ মুহূর্ত। ম্যাচ শেষে মাঠে বসে কাঁদতে দেখা যায় নেইমারকে।
দীর্ঘদিনের ডান পায়ের ক্যাল্ফ ইনজুরির কারণে তিনি পুরো টুর্নামেন্টে পুরোপুরি ফিট ছিলেন না। এ কারণে কোচ কার্লো আনচেলত্তি তাঁকে সাবধানে ব্যবহার করেছেন।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
নেইমার ২০২২ সালে ব্রাজিলীয়ান রাজনীতিবিদ জাইর বলসোনারোর প্রকাশ্য সমর্থক ছিলেন। এই অবস্থান তাঁকে ব্রাজিলের একটি বড় অংশের কাছে প্রিয় এবং অন্য অংশের কাছে বিতর্কিত করে তুলেছিল। বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভা নেইমারের ইনজুরি নিয়ে মজা করে “হোম অফিস ফুটবলার” বলে কটাক্ষ করেছিলেন।
এসব ঘটনা মিলিয়ে অনেক ভক্ত প্রশ্ন তুলছেন-নেইমারকে কি আসলেই যথেষ্ট সুযোগ দেওয়া হয়েছে, নাকি রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে তাঁকে ইচ্ছাকৃতভাবে সাইডলাইনে রাখা হয়েছে?
বাস্তবতা কী বলে?
ইনজুরি ছিল সবচেয়ে বড় বাস্তবতা। নেইমার গত কয়েক বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে চোটের সমস্যায় ভুগছেন। আধুনিক ফুটবলে ৩৪ বছর বয়সে পুরোপুরি ফিট থেকে উচ্চ পর্যায়ে খেলা চ্যালেঞ্জিং। কোচের সিদ্ধান্ত মূলত ফিটনেস ও টিম কৌশলের ওপর নির্ভর করেছে।
তবে ব্রাজিলে ফুটবল কখনো শুধু খেলা নয়। এখানে খেলোয়াড়দের রাজনৈতিক অবস্থান তাঁদের ক্যারিয়ারকে প্রভাবিত করতে পারে। নেইমারের ক্ষেত্রেও সেই ছায়া পড়েছে বলে অনেকে মনে করেন।
পরিশেষে বলতে হয়
নেইমারের বিদায় একজন প্রতিভাবান ফুটবলারের শেষ নয় শুধু। এটি একটি দেশের ফুটবল-সংস্কৃতি, রাজনীতি ও আবেগের জটিল সম্পর্কের প্রতিফলন। তিনি যে দক্ষতা ও আনন্দ মাঠে ছড়িয়েছেন, তা ভোলা কঠিন। কিন্তু তাঁর গল্প আমাদের প্রশ্নের সামনে দাঁড় করিয়ে দেয়-একজন ফুটবলার কতটা শুধু তাঁর খেলা দিয়ে, আর কতটা তাঁর চারপাশের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতীক দিয়ে সংজ্ঞায়িত হন?
নেইমারের যাত্রা শেষ হলো। কিন্তু প্রশ্নগুলো রয়ে গেল।
লেখক:
নূর আলম সিদ্দিকী রাসেল
যুক্তরাজ্য প্রবাসী আইনবিদ, কলামিস্ট ও বিশ্লেষক