
আফগানিস্তান ক্রিকেটের পথিকৃৎদের একজন শাপুর জাদরানকে শেষ বিদায় জানাতে কাবুলে ভিড় করেন হাজার হাজার মানুষ। সতীর্থ, ক্রিকেটপ্রেমী ও সরকারি কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয় সাবেক এই ফাস্ট বোলারের জানাজা। তার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে আফগান ক্রিকেটাঙ্গনে।
আফগানিস্তানের সাবেক ফাস্ট বোলার শাপুর জাদরানের জানাজায় বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) কাবুলে হাজার হাজার ভক্তের সমাগম হয়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আফগানিস্তানের প্রাথমিক উত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এই ক্রিকেটারকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ জড়ো হন।
নিজের ৩৯তম জন্মদিনের ঠিক একদিন আগে গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ভারতের একটি হাসপাতালে মারা যান শাপুর জাদরান। সেখানে তিনি রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার একটি বিরল ব্যাধির চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।
মধ্য কাবুলের ঐতিহাসিক ঈদগাহ মসজিদে অনুষ্ঠিত জানাজায় আফগানিস্তান জাতীয় দলের তারকা ক্রিকেটার মোহাম্মদ নবী ও ফজল হক ফারুকীসহ আরও কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক ক্রিকেটার অংশ নেন। জানাজায় কয়েকজন তালেবান কর্মকর্তাও উপস্থিত ছিলেন।
জানাজায় অংশ নেওয়া ২৭ বছর বয়সী ব্যবসায়ী ওয়াহিদুল্লাহ ওয়াহদাত বলেন, যখন আমি সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখলাম যে শাপুর আর আমাদের মাঝে নেই, তখন আমার চোখ থেকে জল পড়তে শুরু করে।
তিনি আরও বলেন, লম্বা চুলের জন্য পরিচিত জনপ্রিয় এই ক্রিকেটার ছিলেন একজন বিনয়ী ও অনুগত ব্যক্তি।
১৮ বছর বয়সী মোহাম্মদ উসমান মাফতুন শাপুর জাদরানের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে বলেন, এটি জাতির জন্য এক বিরাট ক্ষতি।
আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড এক শোকবার্তায় জাদরানকে দেশের ক্রিকেটের একজন ‘ভিত্তি স্থাপনকারী ব্যক্তিত্ব’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। বোর্ডের ভাষ্য, তার নিষ্ঠা, একাগ্রতা ও অবদান আফগানিস্তান জাতীয় দলকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রতিষ্ঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
শক্তিশালী বাঁ-হাতি পেসার শাপুর জাদরান ২০০৯ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে আফগানিস্তানের হয়ে ৪৪টি ওয়ানডে ও ৩৬টি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন। তিনি এমন এক সময়ে জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব করেন, যখন দেশটিতে ক্রিকেট দ্রুত বিকশিত হচ্ছিল।
২০১০ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে অনুষ্ঠিত চারটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও খেলেছিলেন জাদরান। ওই আসরগুলোতে তিনি নয়টি ম্যাচে নয়টি উইকেট শিকার করেন।
আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড আরও বলেছে, তিনি সেইসব গর্বিত ক্রিকেটারদের মধ্যে একজন ছিলেন, যারা আফগানিস্তানের ক্রিকেট যাত্রার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন এবং আফগান ক্রিকেটকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিয়ে আসার পথ তৈরিতে সাহায্য করেছিলেন।