
একযোগে পদত্যাগ করেছেন ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ‘ইসরো’র প্রায় ১০০ অভিজ্ঞ বিজ্ঞানী। দেশটিতে শুরু হওয়া বিভিন্ন বেসরকারি স্টার্টআপ মহাকাশ গবেষণা সংস্থায় যোগদানের কারণেই তারা ইসরো ছাড়ছেন। এই পরিস্থিতিতে বিজ্ঞানীদের গণপদত্যাগ ঠেকাতে স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণসংক্রান্ত নীতিমালায় বড় পরিবর্তন এনেছে ভারতের কেন্দ্রীয় মহাকাশ বিভাগ।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দেশটির সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, ইসরোর বিজ্ঞানীদের অবসর গ্রহণের নীতিমালা পরিবর্তনের একটি কপি তাদের হাতে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই নীতিমালা জারি করা হয় গত ১৪ জুলাই। তাতে বিশেষ করে ইউআর রাও স্যাটেলাইট সেন্টার ও বিক্রম সারাভাই স্পেস সেন্টারের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বার্তাটি দেওয়া হয়। পদত্যাগ করা বিজ্ঞানীদের মধ্যে এই দুই সেন্টারেরই বেশি।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এখন থেকে কোনো বিজ্ঞানী বা শীর্ষ প্রযুক্তিবিদ পদত্যাগ বা অবসরের আবেদন করলে, সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের ডিরেক্টর তা সরাসরি অনুমোদন করতে পারবেন না। ডিরেক্টরের সুনির্দিষ্ট ও স্পষ্ট সুপারিশসহ সেই আবেদনপত্র চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য সরাসরি ভারতের কেন্দ্রীয় মহাকাশ বিভাগে পাঠাতে হবে।
অথচ ২০২০ সালের পুরোনো নির্দেশিকা অনুযায়ী, কেন্দ্রের ডিরেক্টররাই একক সিদ্ধান্তে এই ধরনের পদত্যাগ বা অবসর অনুমোদন করার ক্ষমতা রাখতেন। বিজ্ঞানীদের চলে যাওয়া আটকাতেই কেন্দ্র এই ক্ষমতার রাশ নিজের হাতে নিল বলে মনে করছেন কেউ কেউ।
২০২৩ সালে ভারত সরকার দেশের মহাকাশ নীতিতে বড়সড় পরিবর্তন এনে বেসরকারি বিনিয়োগের পথ উন্মুক্ত করে। এর পর থেকেই দেশটিতে মহাকাশ গবেষণাসংক্রান্ত স্টার্ট-আপের সংখ্যা জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধি পায়।
বর্তমানে ভারতে ৪০০-রও বেশি স্পেস স্টার্ট-আপ কাজ করছে। বিশেষ করে ‘পিক্সেল’ ও ‘স্কাইরুট অ্যারোস্পেস’-এর মতো বেসরকারি মহাকাশ সংস্থাগুলোতে বিপুল পরিমাণ বিদেশি ও দেশি বিনিয়োগ আসায়, তারা ইসরোর অভিজ্ঞ বিজ্ঞানীদের লোভনীয় অফারে নিজেদের দলে টানছে।
দেশটিতে এসব স্টার্ট-আপ প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ আকর্ষণ করেছে। এর মধ্যে শুধু ২০২৫ সালেই বিনিয়োগ এসেছে প্রায় ১৫০ মিলিয়ন ডলার।
বিজ্ঞানীদের এই গণপদত্যাগ এমন এক সময়ে এলো, যখন অতিসম্প্রতি ইসরোর দুটি ‘পিএসএলভি’ রকেট পরপর দুটি গুরুত্বপূর্ণ মিশনে ব্যর্থ হয়েছে। এই কারিগরি বিপর্যয়ের পাশাপাশি ইসরোর হাতে এখন একাধিক মেগা প্রজেক্ট রয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে মানুষকে মহাকাশে পাঠানোর ঐতিহাসিক মিশন ‘গগনযান’, চাঁদের মাটি পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনার প্রকল্প ‘চন্দ্রযান-৪’, ভারতের নিজস্ব মহাকাশ স্টেশন ‘ভারতীয় অন্তরীক্ষ স্টেশন’ এবং মঙ্গল অভিযান ‘মঙ্গলযান-২’। হঠাৎ করে ১০০ বিজ্ঞানীর ঘাটতি তৈরি হওয়ায় এই সবকটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের কাজ অনেকটাই পিছিয়ে যেতে পারে বলে এনডিটিভির প্রতিবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
উদ্ভূত কর্মী সংকট ও পরিস্থিতি মোকাবিলায় তড়িঘড়ি করে এই কড়া পদক্ষেপ নিল ভারত সরকার। ফলে মহাকাশ অভিযান ‘গগনযান’ এবং অন্যান্য মেগা প্রজেক্টের সঙ্গে যুক্ত ‘গ্রুপ-এ’ স্তরের বিজ্ঞানী ও ইঞ্জিনিয়ারদের পদত্যাগ বা স্বেচ্ছায় অবসরের আবেদন প্রক্রিয়ায় তাৎক্ষণিক পরিবর্তন আনা হয়েছে।