লন্ডন

ইসলামী ব্যাংকে স্বাধীন পর্ষদ ও প্রবাসী পরিচালক নিয়োগসহ ৮ দফা দাবি

16071_ae9abc61-f8b2-4b74-aa36-cd051c9c1efe.jpeg

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিতে স্বাধীন ও পেশাদার পরিচালনা পর্ষদ গঠন, প্রকৃত মালিকানা প্রত্যর্পণ, অতীতের আর্থিক অনিয়মের বিচারের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন, পাচারকৃত অর্থ উদ্ধার এবং পরিচালনা পর্ষদে একজন প্রবাসী পরিচালক নিয়োগসহ আট দফা দাবি জানিয়েছে ইসলামি ব্যাংক প্রবাসী গ্রাহক পরিষদ

বৃহস্পতিবার লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা এসব দাবি তুলে ধরেন। যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত ইসলামী ব্যাংকের হিসাবধারী, আমানতকারী ও শুভানুধ্যায়ী প্রবাসীদের সমন্বয়ে গঠিত এই সংগঠনটি জানায়, ইসলামী ব্যাংকের স্থিতিশীলতা ও সুশাসন নিশ্চিত করা প্রবাসীদের স্বার্থ রক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি দেশের অন্যতম শীর্ষ রেমিট্যান্স সংগ্রহকারী ব্যাংক হিসেবে ভূমিকা পালন করে আসছে। তাদের দাবি, সদ্য সমাপ্ত ২০২৫–২৬ অর্থবছরে দেশে আসা মোট প্রায় ৩৫.৫৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্সের মধ্যে প্রায় ৬.৮৯ বিলিয়ন ডলার ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে। এ বিপুল রেমিট্যান্সের পেছনে লাখো প্রবাসী বাংলাদেশির শ্রম ও অবদান রয়েছে বলে তারা উল্লেখ করেন।

বক্তারা বলেন, ১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি দেশের শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার অন্যতম বৃহৎ প্রতিষ্ঠান। সারাদেশে এর বিস্তৃত শাখা, উপশাখা ও এজেন্ট ব্যাংকিং নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা, কৃষি, বিনিয়োগ এবং সাধারণ মানুষের সঞ্চয় কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ফলে ব্যাংকটির স্থিতিশীলতা শুধু গ্রাহকদের নয়, সামগ্রিক ব্যাংকিং খাত ও জাতীয় অর্থনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অভিযোগ করেন, ২০১৭ সালে রাজনৈতিক প্রভাবের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকের মালিকানা ও পরিচালনায় পরিবর্তন আনা হয়। এরপর বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যাংক থেকে বের করে নেওয়া হয়েছে বলেও তারা দাবি করেন। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের বিচারের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন এবং বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধার করে ব্যাংকের ক্ষতি পূরণের দাবি জানান তারা।

প্রবাসী গ্রাহকদের বিভিন্ন ভোগান্তির বিষয়ও তুলে ধরা হয় সংবাদ সম্মেলনে। বক্তারা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সেলফিন অ্যাপ ব্যবহারে সমস্যা, ওটিপি ও পিন পেতে বিলম্ব, একই দিনে একাধিক লেনদেনে জটিলতা এবং অনলাইন অর্থ স্থানান্তরে সীমাবদ্ধতার কারণে বিদেশে অবস্থানরত গ্রাহকেরা নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। এসব সমস্যা দ্রুত সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপিত আট দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—স্বাধীন ও পেশাদার পরিচালনা পর্ষদ গঠন, ২০১৭ সালের আগে থাকা প্রকৃত মালিকদের কাছে মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়া, অতীতের আর্থিক অনিয়মের বিচারে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন, ব্যাংকের স্থিতিশীলতা রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, পাচারকৃত অর্থ উদ্ধার ও দায়ীদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত, প্রবাসীবান্ধব ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করা, রাজনৈতিক ও কর্পোরেট প্রভাবমুক্তভাবে ব্যাংক পরিচালনা এবং পরিচালনা পর্ষদে অন্তত একজন যোগ্য প্রবাসী প্রতিনিধিকে পরিচালক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা।

সংগঠনটির নেতারা বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম প্রধান উৎস। তাই ব্যাংকের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে প্রবাসীদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হলে তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটবে এবং প্রবাসীবান্ধব ব্যাংকিং সেবা আরও কার্যকর হবে।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বাংলাদেশ সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি তাদের উত্থাপিত দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।


 

সর্বাধিক পঠিত


ভিডিও