
প্রায় এক বছর আগে বিসিবির সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনের জেরে বোর্ডের আম্পায়ারিং প্যানেল থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলেন সৈকত। তখন আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বোর্ড সেই পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেনি। ঝুলে থাকা সে বিষয়টি অবশেষে চূড়ান্ত করল তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন বর্তমান বোর্ড। আর এ সিদ্ধান্ত নিয়ে সংবাদমাধ্যমে বিভিন্ন আলোচনা-সমালোচনার প্রেক্ষাপটে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছে বিসিবি।
বিসিবির ভাষ্যমতে, সৈকত বোর্ডের অধীনে আম্পায়ার হিসেবে চুক্তিবদ্ধ ছিলেন। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তার সেই চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যায়, যা পরে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়। বর্ধিত মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন করে চুক্তি নবায়নের পথে হাঁটেনি বিসিবি। এর পেছনে কারণ হিসেবে বোর্ড জানিয়েছে, আইসিসি এলিট প্যানেল আম্পায়ার হিসেবে সৈকতের দায়িত্ব ক্রমেই বাড়ছে, যা তার বোর্ডের হয়ে একইভাবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ কমিয়ে দিতে পারে বলে মনে করা হয়েছে। ফলে ২০২৬ সালের এপ্রিলেই শেষ হয় তার সঙ্গে বোর্ডের আগের চুক্তি।
বিসিবি আরো জানিয়েছে, আইসিসি এলিট প্যানেলের আম্পায়ারদের কেন্দ্রীয় চুক্তির আওতায় রাখার প্রচলন পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সাধারণত দেখা যায় না। কারণ, তাদের আন্তর্জাতিক দায়িত্ব পালনের সময়সূচির সঙ্গে নিজ নিজ বোর্ডের সূচি মিলিয়ে নেওয়াটা বেশ কঠিন। তবে প্রয়োজন ও সৈকতের সময়-সুযোগসাপেক্ষে দ্বিপক্ষীয় আন্তর্জাতিক সিরিজ এবং ঘরোয়া প্রথম শ্রেণি, লিস্ট এ ও টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে তাকে নিয়োগ দিতে পারবে বিসিবি। এমনই একটি নজির ইতোমধ্যে দেখা গেছে যে, চুক্তি শেষ হওয়ার পরপরই গত জুনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ পরিচালনার দায়িত্বে তাকে নিয়োগ দিয়েছিল বিসিবি।
সব মিলিয়ে বিসিবির সঙ্গে সৈকতের সম্পর্কের বহুদিনের অমীমাংসিত একটি অধ্যায়ের অবসান হলো এমন সিদ্ধান্তে। তবে প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক পুরোপুরি ছিন্ন না করে ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী তাকে কাজে লাগানোর সুযোগ খোলা রাখল বোর্ড।