খেলাধুলা

আইপিএলে পাঁচ ম্যাচে ফিক্সিংয়ের দাবি, ক্রিকেটারের স্বীকারোক্তিতে তোলপাড়

16848_IMG_0095.jpeg

আইপিএলে ম্যাচ ফিক্সিং নিয়ে নতুন করে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ভারতের রঞ্জি ট্রফিতে খেলা ক্রিকেটার রাচিত ভাটিয়া দাবি করেছেন, ২০২৫ সালের আইপিএলে চেন্নাই সুপার কিংসের পাঁচটি ম্যাচে ফিক্সিং করেছেন তিনি। এসব ম্যাচে দলের অভ্যন্তরীণ তথ্য লন্ডনের জুয়াড়িদের কাছে পাঠিয়ে মোট ৩ কোটি রুপি পাওয়ার দাবিও করেছেন তিনি।

ভারতের অনুসন্ধানমূলক সংবাদ সংস্থা তেহেলকার গোপন ক্যামেরার অনুসন্ধানে রাচিত এসব দাবি করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, স্ন্যাপচ্যাটের মাধ্যমে চেন্নাইয়ের ভেতরের তথ্য জুয়াড়িদের কাছে পাঠাতেন তিনি। প্রতিটি ম্যাচের জন্য ৬০ লাখ রুপি করে মোট ৩ কোটি রুপি পেয়েছেন বলেও দাবি করেন এই ক্রিকেটার।

শুধু আইপিএল নয়, ২০১৮-১৯ মৌসুমের সৈয়দ মুশতাক আলী ট্রফিতেও স্পট ফিক্সিংয়ের দাবি করেছেন রাচিত। তিনি জানান, ইচ্ছাকৃতভাবে দুটি ওয়াইড বল করেছিলেন এবং প্রতিটির জন্য ৮ লাখ রুপি করে পেয়েছিলেন।

রঞ্জি ট্রফিতে নাগাল্যান্ডের হয়ে খেলার সুযোগ পেতেও ঘুষ দেওয়ার দাবি করেছেন ২৯ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডার। তার দাবি, দলটিতে জায়গা পেতে ১৫ লাখ রুপি ঘুষ দিয়েছিলেন তিনি। ২০১৮-১৯ মৌসুমেই রঞ্জি ট্রফিতে তার অভিষেক হয় বলে জানান রাচিত।

২০২৬ সালের আইপিএল ও দিল্লি প্রিমিয়ার লিগেও ফিক্সিংয়ের সম্ভাব্য আর্থিক লেনদেন নিয়ে কথা বলেছেন তিনি। রাচিতের দাবি, আইপিএলে স্পট ফিক্সিংয়ের জন্য ম্যাচপ্রতি ১ কোটি রুপি এবং টসের আগে একাদশের তথ্য দেওয়ার জন্য ৬০ লাখ রুপি পাওয়া যেতে পারে। দিল্লি প্রিমিয়ার লিগে স্পট ফিক্সিং ও একাদশের তথ্য দেওয়ার জন্য ম্যাচপ্রতি ৪০ লাখ রুপি পর্যন্ত পাওয়া যায় বলেও দাবি করেন তিনি।

তবে ২০২৬ আইপিএলে তার কথিত পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি বলে জানান রাচিত। তার ভাষ্য, যে খেলোয়াড়ের মাধ্যমে দলের তথ্য সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছিলেন, চোটের কারণে সেই ক্রিকেটার চেন্নাই সুপার কিংসের একাদশেই সুযোগ পাননি।

তবে রাচিত ভাটিয়ার এসব দাবি এখনো স্বাধীনভাবে প্রমাণিত হয়নি। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের আগে কোনো সিদ্ধান্তে না যাওয়ার কথা জানিয়েছে দিল্লি ও জেলা ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন (ডিডিসিএ)।

ডিডিসিএ সচিব অশোক শর্মা জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। প্রয়োজন হলে ম্যাচের ভিডিও ফুটেজও সরবরাহ করা হবে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে বিষয়টি দিল্লি পুলিশ বা অপরাধদমন শাখারও তদন্ত করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন ডিডিসিএ সচিব।

সর্বাধিক পঠিত


ভিডিও