
যুক্তরাজ্যের গ্লস্টারশায়ারের স্ট্রাউডে বক্সিং ডে–তে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এক মা ও তাঁর দুই সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার ভোররাত প্রায় ৩টার দিকে স্ট্রাউডের ব্রিমসকম্ব হিল এলাকার একটি বাড়িতে আগুন লাগে। আগুনে পুড়ে মারা যাওয়া শিশুরা হলো সাত বছরের এক কন্যা ও চার বছরের এক পুত্র। নিহত মায়ের বয়স ত্রিশের কোঠায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অগ্নিকাণ্ডের সময় পরিবারের বাবা, যিনি গ্লস্টারশায়ার কনস্ট্যাবুলারির একজন কর্মরত পুলিশ কর্মকর্তা, কোনোভাবে আগুন থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। পরে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে আগুনের ভয়াবহতা ও তীব্র তাপের কারণে তিনি বারবার চেষ্টা করেও স্ত্রী ও সন্তানদের উদ্ধার করতে পারেননি।
পুলিশ জানায়, আগুন লাগার সময় স্বামী-স্ত্রী দুজনই ঘুম থেকে জেগে সন্তানদের কক্ষে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন। শিশুরা বাড়ির পেছনের একটি শয়নকক্ষে ঘুমিয়ে ছিল। বাবা বাথরুমের জানালা দিয়ে বের হয়ে প্রথমে শিশুদের কক্ষের জানালা দিয়ে ঢোকার চেষ্টা করেন, কিন্তু আগুনের তীব্রতা ও উত্তাপে তা সম্ভব হয়নি। এরপর বাথরুম, সামনে ও পেছনের দরজা দিয়েও তিনি বাড়িতে প্রবেশের চেষ্টা করেন, তবে ততক্ষণে আগুন পুরোপুরি ছড়িয়ে পড়ে।
পুলিশের ডিটেকটিভ সুপারিনটেনডেন্ট ইয়ান ফ্লেচার বলেন, ঘটনাস্থলে উপস্থিত একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী ওই পুলিশ কর্মকর্তার অসহায় অবস্থার সাক্ষী ছিলেন। তিনি স্ত্রী ও সন্তানদের বাঁচাতে না পারার যন্ত্রণায় চরমভাবে বিধ্বস্ত। আনন্দ ও উৎসবের সময়েই তিনি তাঁর পুরো পরিবার হারিয়েছেন, যা অত্যন্ত হৃদয়বিদারক।
রোববার বাড়ির ভেতর থেকে নিহত মায়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়, তবে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করা বাকি রয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এক শিশুর মরদেহ শনাক্ত করা গেলেও এখনো তা পুরোপুরি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। অপর শিশুর মরদেহ উদ্ধারের কাজও চলমান রয়েছে। তবে বাড়িটির কাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধারকাজ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে চালাতে হচ্ছে।
ফায়ার সার্ভিস জানায়, আগুনের সূত্রপাত বাড়ির নিচতলা থেকে হয়েছে এবং এতে কোনো সন্দেহজনক কারণ পাওয়া যায়নি। গ্লস্টারশায়ার ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ সার্ভিসের উপপ্রধান নাথানিয়েল হুটন বলেন, ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর সময় আগুন ইতোমধ্যেই ভয়াবহ রূপ নিয়েছিল। বাড়ির ভেতরের মেঝে, সিঁড়ি ও ছাদ ধসে পড়েছে এবং ক্ষয়ক্ষতি ব্যাপক।
স্ট্রাউড জেলা কাউন্সিলের নেতা ক্লোই টার্নার বলেন, এই মর্মান্তিক ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার, স্থানীয় বাসিন্দা ও জরুরি সেবাকর্মীদের পাশে থাকবে কাউন্সিল। তিনি বলেন, স্থানীয়ভাবে পরিবারটি পরিচিত ও প্রিয় ছিল, ফলে পুরো এলাকাজুড়ে শোকের আবহ বিরাজ করছে।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহত পরিবারের অনুরোধে এই কঠিন সময়ে তাঁদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা করা হচ্ছে।