
তীব্র শীত, তুষারপাত ও বরফের কারণে যুক্তরাজ্যজুড়ে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। আবহাওয়া দপ্তর মেট অফিস জানিয়েছে, সপ্তাহের শেষের দিকে স্টর্ম গোরেট্টির প্রভাবে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের বিস্তীর্ণ এলাকায় নতুন করে তুষার ও প্রবল বাতাসের আশঙ্কা রয়েছে। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবারের জন্য ইতোমধ্যে তুষার ও ঝড়ের সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
দেশজুড়ে শত শত স্কুল বন্ধ রয়েছে। স্কটল্যান্ডের অ্যাবারডিন সিটি কাউন্সিল ঘোষণা দিয়েছে, বুধবার শহরের সব স্কুল বন্ধ থাকবে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য অনলাইন ক্লাস চালু করা হবে। এর আগের দুদিন ধরেও শহরের অধিকাংশ স্কুল বন্ধ ছিল। অ্যাবারডিনশায়ার, অর্কনি ও শেটল্যান্ডের সব স্কুল এবং মোরে এলাকার অনেক স্কুলও বন্ধ রয়েছে।
সোমবার ছিল চলতি শীত মৌসুমে যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে ঠান্ডা রাত। ইংল্যান্ডের নরফোকে তাপমাত্রা নেমে আসে মাইনাস ১২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। যদিও মঙ্গলবার রাত এতটা ঠান্ডা হবে না বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, তবে বরফ জমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়ে গেছে। স্কটল্যান্ডে জমাট বরফ ও তুষারের কারণে একাধিক ফুটবল ম্যাচ বাতিল করা হয়েছে।
পরিবহন ব্যবস্থাতেও মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। লন্ডন থেকে আমস্টারডামগামী ইউরোস্টার ট্রেনগুলো আপাতত ব্রাসেলস পর্যন্ত সীমিতভাবে চলাচল করছে। লন্ডন নর্থ ইস্টার্ন রেলওয়ে যাত্রীদের এডিনবরো ও অ্যাবারডিনের মধ্যে ভ্রমণ না করার পরামর্শ দিয়েছে এবং উত্তর স্কটল্যান্ডজুড়ে সারাদিন ট্রেন চলাচলে বিঘ্নের আশঙ্কা জানিয়েছে। অ্যাবারডিন ও ইনভারনেসের মধ্যবর্তী রেলপথে জমে থাকা বরফ সরাতে স্নোপ্লাউ ব্যবহার করছে নেটওয়ার্ক রেল স্কটল্যান্ড।
সড়কপথেও পরিস্থিতি সতর্কতার দাবি রাখছে। ইংল্যান্ডে আপাতত বড় ধরনের জরুরি সতর্কতা না থাকলেও ওয়েলসের গুইনেদ থেকে কারমারথেনশায়ার পর্যন্ত বেশ কয়েকটি সড়ক বন্ধ রয়েছে। স্কটল্যান্ডে চালকদের বিপজ্জনক পরিস্থিতির বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বাস চলাচলে দেরি হচ্ছে। উত্তর আয়ারল্যান্ডে বাস পরিষেবায় বাতিল ও বিলম্ব দেখা গেলেও মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত বড় কোনো দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
শুধু যুক্তরাজ্য নয়, ইউরোপের অন্যান্য দেশেও শীতের তীব্র প্রভাব পড়েছে। ফ্রান্স, স্পেন ও হাঙ্গেরিতে তুষারপাত হয়েছে এবং নেদারল্যান্ডসের আমস্টারডামের স্খিপোল বিমানবন্দরে কিছু ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। স্কটল্যান্ডের এক বাসিন্দা জানিয়েছেন, বহু বছর পর এত বেশি তুষার দেখছেন তারা। কেউ কেউ পরিস্থিতির মধ্যেও ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন—এক ব্যক্তি বরফ দিয়ে ইগলু তৈরি করেছেন, যেখানে কার্যকর অগ্নিকুণ্ডও রয়েছে। উত্তর ওয়েলসের এক এলাকায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার একটি অল-টেরেইন যান দিয়ে তুষারের মধ্যে মানুষ পরিবহন করতে দেখা গেছে।
মেট অফিস জানিয়েছে, বরফ ও তুষার জমে যাওয়ার কারণে দুর্ঘটনা ও দৈনন্দিন জীবনে বিঘ্নের ঝুঁকি বাড়ছে। বিশেষ করে উত্তর স্কটল্যান্ডে আরও তুষারপাতের সম্ভাবনা রয়েছে, আর ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের বড় অংশে রাতভর বরফ জমার আশঙ্কা করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ জনগণকে অপ্রয়োজনে ভ্রমণ এড়িয়ে চলতে এবং সর্বশেষ আবহাওয়া সতর্কতার দিকে নজর রাখতে আহ্বান জানিয়েছে।