যুক্তরাজ্য

৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১৪:০১
আরও খবর

ই-স্কুটার ও ই-বাইক নিয়ন্ত্রণে লাইসেন্স ও নিবন্ধনের নতুন নিয়ম আনছে সরকার

13484_123.jpg

ব্রিটেনজুড়ে ই-স্কুটার ও ই-বাইক ব্যবহারের ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে এ বছর নতুন আইন প্রণয়নের পরিকল্পনা নিশ্চিত করেছে লেবার সরকার। বুধবার হাউস অব কমন্সে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্যরা বিষয়টি উত্থাপন করলে সরকার জানায়, মাইক্রো-মোবিলিটি যানবাহন নিয়ন্ত্রণে শিগগিরই স্পষ্ট আইনি কাঠামো আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

পরিবহন মন্ত্রী সাইমন লাইটউড সংসদে বলেন, ভাড়াভিত্তিক ই-স্কুটার ট্রায়াল চালু থাকলেও সরকার পূর্ণাঙ্গ নিয়ন্ত্রণমূলক আইন প্রণয়নে অঙ্গীকারবদ্ধ। তিনি জানান, স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে প্রযুক্তিটি কার্যকরভাবে পরীক্ষা করার সুযোগ দিতে ই-স্কুটার ট্রায়াল মে ২০২৮ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, সংসদীয় সময় পাওয়া গেলে মাইক্রো-মোবিলিটি যানবাহনের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে এসব যান সবার জন্য কার্যকর ও নিরাপদ হয়।

বর্তমান আইনে ব্যক্তিগত মালিকানাধীন ই-স্কুটার জনসাধারণের সড়ক, ফুটপাত বা সাইকেল লেনে চালানো একটি অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। এ ধরনের স্কুটার চালাতে গিয়ে ধরা পড়লে মামলা, জরিমানা পয়েন্ট এবং যানবাহন জব্দের মুখোমুখি হতে হয়। অথচ দেশে প্রায় ১০ লাখ ব্যক্তিগত ই-স্কুটার চালু রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। অনেক এলাকায় এসব স্কুটারের অবৈধ ব্যবহার ও অপব্যবহার নিয়ে পুলিশের উদ্বেগ বাড়ছে।

বোর্নমাউথ ইস্টের এমপি টম হেইস সংসদে বলেন, তার এলাকায় পুলিশের মাধ্যমে নজিরবিহীন সংখ্যক ই-স্কুটার জব্দ করা হয়েছে এবং বিষয়টি একটি গুরুতর সামাজিক সমস্যায় পরিণত হয়েছে। তিনি জানান, স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন যে কিছু এলাকায় মাদক ব্যবসায়ী ও অপরাধীরা এসব স্কুটার ব্যবহার করছে। তিনি ভবিষ্যৎ আইনে ব্যক্তিগত ই-স্কুটারের জন্য বাধ্যতামূলক নিবন্ধন ও নাম্বার প্লেট চালুর কথা বিবেচনা করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, যাতে অপরাধীদের সহজে শনাক্ত করা যায়।

এর জবাবে পরিবহন মন্ত্রী বলেন, যেকোনো নতুন নিয়ন্ত্রণ কাঠামো আইনে পরিণত করার আগে জনপরামর্শ গ্রহণ করা হবে। তিনি জানান, নিবন্ধন বা লাইসেন্স প্লেটের মতো বিষয়গুলো সম্ভাব্য পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনায় রয়েছে, তবে সেগুলো কার্যকর করার আগে প্রমাণ সংগ্রহ ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মতামত শোনা জরুরি।

অন্যদিকে নর্থ ওয়েস্ট নরফোকের এমপি জেমস ওয়াইল্ড সরকারের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে প্রায় এক মিলিয়ন ব্যক্তিগত ই-স্কুটার জনগণের হাতে রয়েছে, কিন্তু সেগুলো এখনো রাস্তায় চালানো অবৈধ। বহু বছর আগে তিনি নিজেও একটি ই-স্কুটার কিনেছিলেন এই আশায় যে শিগগিরই এটি বৈধ হবে। তার অভিযোগ, সরকার বারবার ট্রায়াল বাড়ালেও উপযুক্ত ও বাস্তবসম্মত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আনতে ব্যর্থ হয়েছে।

২০২০ সালে শুরু হওয়া ভাড়াভিত্তিক ই-স্কুটার ট্রায়াল চলতি বছর শেষ হওয়ার কথা থাকলেও সরকার একাধিকবার সময় বাড়িয়েছে। সর্বশেষ মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৮ সালের মে পর্যন্ত করা হয়েছে। সরকারের দাবি, দীর্ঘ মেয়াদে ট্রায়াল চালু থাকলে নিরাপত্তা, ব্যবহার পদ্ধতি, প্রতিবন্ধী ও পথচারীদের ওপর প্রভাব এবং শহর ও নগরের পরিবহন ব্যবস্থার সঙ্গে ই-স্কুটারের সামঞ্জস্য নিয়ে আরও শক্ত প্রমাণ সংগ্রহ করা সম্ভব হবে। সরকার বলছে, এই তথ্যের ভিত্তিতেই ভবিষ্যতে ই-স্কুটার সংক্রান্ত আইন পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সর্বাধিক পঠিত


আরও খবর
ভিডিও