
চীনের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে ব্রিটিশ নাগরিকদের জন্য ভিসামুক্ত ভ্রমণের সুযোগ সৃষ্টি হলো। নতুন এই সমঝোতা অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের নাগরিকরা ৩০ দিনের কম সময়ের জন্য চীনে ভ্রমণে আর ভিসার ঝামেলায় পড়বেন না। ছুটিতে ভ্রমণকারী ও ব্যবসায়িক সফরকারীরা এর ফলে উল্লেখযোগ্যভাবে উপকৃত হবেন।
চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর এই ঘোষণা দেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। তিনি জানান, অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাজ্য ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, অস্ট্রেলিয়া ও জাপানসহ আরও প্রায় ৫০টি দেশের কাতারে যুক্ত হলো, যারা ইতোমধ্যেই চীনে স্বল্পমেয়াদি ভিসামুক্ত ভ্রমণের সুবিধা পাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেন, চীন বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অর্থনৈতিক শক্তি এবং বহু ব্রিটিশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সেখানে নিজেদের কার্যক্রম বাড়াতে আগ্রহী। স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণের জন্য ভিসা শিথিল করা হলে ব্যবসায়ীদের জন্য চীনে কাজ করা সহজ হবে, যা একদিকে বিদেশে ব্রিটিশ ব্যবসার সম্প্রসারণ ঘটাবে, অন্যদিকে দেশে প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান বাড়াতে সহায়ক হবে।
এই চুক্তির অংশ হিসেবে দুই দেশ সেবা খাতে একটি সম্ভাব্য সমঝোতার দিকেও নজর দেবে। এর মাধ্যমে চীনে ব্যবসা করা যুক্তরাজ্যের প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য স্পষ্ট ও আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক নিয়মকানুন নির্ধারণ করা হবে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, যুক্তরাজ্য বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম সেবা রপ্তানিকারক দেশ এবং এই খাতে চীনের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে।
সরকারি পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৩ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে চীনে পেশাদার ও ব্যবসায়িক সেবা আমদানি ১২১ শতাংশ, আর্থিক সেবা আমদানি ৭১ শতাংশ এবং ডিজিটাল সেবা আমদানি ৭৮ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে।
এ প্রসঙ্গে বিজনেস সেক্রেটারি পিটার কাইল বলেন, চীনে যুক্তরাজ্যের সেবা খাতে বিপুল প্রবৃদ্ধির সুযোগ রয়েছে, বিশেষ করে আইন, অর্থনীতি, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে। তিনি জানান, এই সফরে যুক্তরাজ্যের শীর্ষস্থানীয় ও উদীয়মান অনেক প্রতিষ্ঠান এবং সাংস্কৃতিক ও সেবা খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন, যার লক্ষ্য সহযোগিতা জোরদার করা, ব্রিটেনের সক্ষমতা তুলে ধরা এবং নতুন ব্যবসায়িক সম্ভাবনা তৈরি করা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিসামুক্ত ভ্রমণ চালু হওয়ায় যুক্তরাজ্য ও চীনের মধ্যে পর্যটন, বাণিজ্য এবং কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর হবে, যা উভয় দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।