যুক্তরাজ্য

৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০২
আরও খবর

এপস্টেইন তদন্তে সাক্ষ্য দিতে চাপের মুখে প্রিন্স অ্যান্ড্রু

13964_2025-10-17T182207Z_171472634_RC23TGAHUR3X_RTRMADP_3_BRITAIN-ROYALS-ANDREW-1760864300.jpg

যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইন সংক্রান্ত তদন্তে কী জানেন সে বিষয়ে সাক্ষ্য দিতে ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য প্রিন্স অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরের ওপর চাপ আরও বেড়েছে। রাজপরিবার-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, যাদের কাছে তদন্তে সহায়ক কোনো তথ্য আছে, তাদের উচিত তা সামনে আনা। তবে শেষ পর্যন্ত বিষয়টি প্রিন্স অ্যান্ড্রুর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত ও বিবেকের ওপরই নির্ভর করছে বলে মন্তব্য করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (ডিওজে) প্রকাশিত সর্বশেষ ইমেইলগুলোতে দেখা গেছে, এপস্টেইন তদন্তে প্রিন্স অ্যান্ড্রুর সহযোগিতা পেতে মার্কিন কর্তৃপক্ষ একাধিকবার চেষ্টা করলেও তা ব্যর্থ হয়েছে। এপস্টেইনের কিছু ভুক্তভোগীর পক্ষে প্রতিনিধিত্বকারী খ্যাতনামা আইনজীবী গ্লোরিয়া অলরেডও প্রিন্স অ্যান্ড্রুকে সাক্ষ্য দিতে আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, এখনো দেরি হয়ে যায়নি এবং তার কাছে তদন্তে সহায়ক তথ্য থাকতে পারে। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ২০১৯ সালে বিবিসির ‘নিউজনাইট’ অনুষ্ঠানে এক ঘণ্টার সাক্ষাৎকার দিতে তিনি রাজি হলেও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে কথা বলতে কেন অনিচ্ছুক।

এ বিষয়ে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমারও মন্তব্য করে বলেন, যাদের কাছে তথ্য আছে, তাদের তা শেয়ার করতে প্রস্তুত থাকা উচিত। ভুক্তভোগীদের কেন্দ্রে রেখে বিচার প্রক্রিয়া এগোতে হলে সাক্ষ্য দিতে অনীহা দেখানো চলবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এদিকে বাকিংহাম প্যালেস থেকে এপস্টেইন-সংক্রান্ত সর্বশেষ নথি প্রকাশের পর আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য না এলেও, রাজকীয় সূত্রগুলো বলছে, বিষয়টি নিয়ে জনমনে যে ক্ষোভ রয়েছে তা তারা পুরোপুরি উপলব্ধি করছে। প্যালেসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এসব নথি প্রকাশের বিষয়ে তারা আগাম কোনো তথ্য পায় না, তবে কী প্রকাশ হচ্ছে তা নজরে রাখা হচ্ছে। রাজা ও রানির পক্ষ থেকে সব ধরনের নির্যাতনের শিকার ভুক্তভোগী ও বেঁচে ফেরা মানুষদের প্রতি সহানুভূতি আগের মতোই অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।

এখন পর্যন্ত প্রিন্স অ্যান্ড্রু সাক্ষ্য দিতে রাজি হওয়ার কোনো ইঙ্গিত দেননি এবং তিনি বরাবরই সব ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। গত বছরের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটরা তাকে নভেম্বরের মধ্যে সাক্ষ্য দিতে সময়সীমা বেঁধে দিলেও তিনি কোনো জবাব দেননি। প্রকাশিত ইমেইলগুলোতে দেখা যায়, ২০২০ সালের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ ও প্রিন্স অ্যান্ড্রুর আইনজীবীদের মধ্যে একাধিকবার সাক্ষ্যের সময় ও স্থান নির্ধারণ নিয়ে যোগাযোগ হয়েছিল, কিন্তু তাতে অগ্রগতি হয়নি।

শেষ পর্যন্ত মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানায়, স্বেচ্ছায় সাক্ষ্য নেওয়ার সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। তখন যুক্তরাষ্ট্রকে ‘মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স’-এর মাধ্যমে যুক্তরাজ্যের সহায়তা চাইতে হয়, যাতে বিদেশি সাক্ষীদের সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করা যায়। ২০২০ সালের এপ্রিল মাসে এই অনুরোধ যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তরে পৌঁছায়। পরবর্তীতে ভার্জিনিয়া জিউফ্রে যুক্তরাষ্ট্রে প্রিন্স অ্যান্ড্রুর বিরুদ্ধে যে দেওয়ানি মামলা করেন, তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। ওই মামলা ২০২২ সালে আদালতের বাইরে নিষ্পত্তি হলেও প্রিন্স অ্যান্ড্রু কোনো সাক্ষ্য দিতে বাধ্য হননি এবং তিনি অভিযোগ অস্বীকারই করে গেছেন।

সর্বশেষ নথি প্রকাশের পর আবারও প্রশ্ন উঠেছে—এপস্টেইন তদন্তে প্রিন্স অ্যান্ড্রু কি আদৌ সামনে এসে সাক্ষ্য দেবেন, নাকি চাপ সত্ত্বেও নীরবই থাকবেন।

সর্বাধিক পঠিত


আরও খবর
ভিডিও