
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে বিজয়ী হয়েছেন দলটির দ্বিতীয় প্রজন্মের বেশ কিছু নেতা। বিএনপির সিনিয়র নেতাদের এসব উত্তরসূরি বেশ ভালোভাবেই নির্বাচনি বৈতরণী পার করেছেন।
ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা-সালথা) আসনে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু ৩২ হাজার ৯৫৩ ভোট বেশী পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি ভোট পেয়েছেন এক লাখ ২০ হাজার ৯০৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী খেলাফতে মজলিশ রিকশা প্রতীকের মো. আকরাম আলী ৮৭ হাজার ৯৫৬ ভোট।
শামা ওবায়েদ মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, বিএনপির সাবেক মহাসচিব সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত কেএম ওবায়দুর রহমানের মেয়ে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে এই আসনকেন্দ্রিক রাজনীতি করে আসছেন। কেএম ওবায়দুর রহমানও এই আসন থেকে একাধিকবার নির্বাচন করে এমপি হয়েছিলেন।
পঞ্চগড়-১ আসনে সাবেক স্পিকার জমিরউদ্দিন সরকারের জায়গায় তার ছেলে মোহাম্মদ নওশাদ জমিরকে ধানের শীষের টিকেট দিয়েছিল বিএনপি। ৯৪ বছর বয়সী সাবেক স্পিকার জমিরউদ্দিন সরকার এখনও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য। তার ছেলে নওশাদ জমির বিএনপির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক সম্পাদক।
১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমকে ৮ হাজার ১২০ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছেন নওশাদ জমির।
নওশাদ জমির ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৭৬ হাজার ১৬৯ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সারজিস আলম শাপলা কলি প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৬৮ হাজার ৪৯ ভোট। এ আসনের মোট ভোটার ৪ লাখ ৬৩ হাজার ৭০০ জন। নির্বাচনে ভোট পড়ার হার ৭৭ দশমিক ৪১ শতাংশ।
যশোরের রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ আসন যশোর-৩ (সদর) বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বিএনপির প্রয়াত স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলামের ছেলে। তার বাবাও এই আসন থেকে কয়েকবার এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। বাবার রাজনীতির হাল ধরেছেন অমিত। তিনি বৃহত্তর খুলনা অঞ্চলে নিজের প্রভাববলয় বাড়িয়েছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৬ আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী ইশরাক হোসেন। তিনি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মোট ৭৮ হাজার ৮৫০ ভোট পেয়েছেন।
ইশরাক হোসেনের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আবদুল মান্নান পেয়েছেন ৫৫ হাজার ৬৯৭ ভোট। ইশরাক হোসেন ২৩ হাজার ১৫৩ ভোটের ব্যবধানে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে হারিয়েছেন।
ইশরাক ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ছেলে। যিনি বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। খোকা ঢাকার একাধিক আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন।
এবারের নির্বাচনে চট্টগ্রামের তিনটি আসনে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে জয়ী হয়েছেন- ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দিন, হুম্মাম কাদের চৌধুরী, সাঈদ আল নোমান।
চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী ও নগরের আংশিক) আসনে জয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। ধানের শীষ প্রতীকে তিনি ভোট পেয়েছেন ১ লাখ ৪৭ হাজার ৫৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মো. নাসির উদ্দীন পেয়েছেন ৪৬ হাজার ৫৮৯ ভোট।
এবারই প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেন মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বে আছেন। তার পিতা বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মীর মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন।
চট্টগ্রামের রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন চট্টগ্রাম-১০ (হালিশহর, পাহাড়তলী ও ডবলমুরিং) আসনের জয়ী প্রার্থী সাঈদ আল নোমান। প্রথমবার নির্বাচনে নেমে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ২২ হাজার ৯৭৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী পেয়েছেন প্রায় ৭৭ হাজার ভোট।
তরুণ রাজনীতিবিদ সাঈদ আল নোমান স্বল্প সময়ে রাজনীতির ময়দানে চমক দেখিয়েছেন। সাঈদের বাবা বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান ছিলেন দলের নিবেদিতপ্রাণ নেতা। তিনি এই আসন থেকে একাধিকবার নির্বাচন করে এমপি হয়েছেন। বাবার মৃত্যুর পর এই আসনে বিএনপির হাল ধরেন সাঈদ।
চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির প্রয়াত নেতা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরী। তিনি ১ লাখ ১ হাজার ৪৫ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের এ টি এম রেজাউল করিম পেয়েছেন ৪১ হাজার ৭১৯ ভোট।
চট্টগ্রাম বিএনপির রাজনীতিতে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর প্রভাব সব সময়ই ছিল।তিনি প্রায় ৩০ বছর সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্যকে মানবতাবিরোধী মামলায় ফাঁসি দিয়েছে হাসিনা সরকার। সালাহউদ্দিন এই আসন এবং ফটিকছড়ি থেকেও নির্বাচন করেছেন জীবদ্দশায়।
ফরিদপুর-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী নায়াব ইউসুফ ১ লাখ ৪৮ হাজার ৫৪৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও একাধিকবারের মন্ত্রী চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফের মেয়ে। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের আবদুত তাওয়াব পেয়েছেন ১ লাখ ২৪ হাজার ১১৫ ভোট।
নায়াব মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। এই আসন থেকে কামাল ইবনে ইউসুফ কয়েকবার এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল ১ লাখ ২ হাজার ১৯৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী আবুল কালাম পেয়েছেন ৮৯ হাজার ৪৩১ ভোট।
ফারজানা শারমিন পুতুল সাবেক প্রতিমন্ত্রী মরহুম ফজলুর রহমান পটলের মেয়ে। পুতুল নাটোর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক পদে রয়েছেন।
গাজীপুর-২ আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী এম মঞ্জুরুল করিম রনি। তিনি সাবেক মন্ত্রী ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রথম মেয়র প্রয়াত অধ্যাপক এম এ মান্নানের একমাত্র ছেলে।
রনি পেয়েছেন এক লাখ ৮৮ হাজার ৬০৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোটের এনসিপি মনোনীত শাপলা কলি প্রতীকের আলী নাছের খান পেয়েছেন এক লাখ ৪০ হাজার ৯৫০ ভোট। এ আসনে প্রদত্ত ভোটের হার ৪৪.৬৯ শতাংশ।