
ভ্যালেন্টাইনস ডে সামনে রেখে লাল গোলাপ কেনার বদলে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত ফুল কেনার আহ্বান জানিয়েছেন British Flower Movement-এর প্রতিনিধি এলিজাবেথ হানি। নটিংহাম থেকে তিনি বলেন, বছরের এই সময়ে যুক্তরাজ্য তো বটেই, উত্তর বা দক্ষিণ, কোনো গোলার্ধেই স্বাভাবিক মৌসুমে লাল গোলাপ পাওয়া যায় না। ফলে আমদানিনির্ভর এই ফুলের কার্বন নিঃসরণ অনেক বেশি। তাঁর ভাষায়, ক্রেতাদের উচিত সুন্দর ব্রিটিশ ফুলের দিকে ঝোঁকা।
হানি বলেন, বর্তমানে ব্রিটিশ ফুলশিল্প মূলত আমদানির ওপর নির্ভরশীল। কোভিড মহামারির পর ছোট আকারের কারুশিল্পভিত্তিক চাষি বাড়লেও তারা বড় উৎপাদকদের ঘাটতি পূরণ করতে পারছে না। সুপারমার্কেটগুলো ফুল বিক্রির সবচেয়ে বড় বাজার হওয়ায় সেখানেই দেশীয় ফুলের পরিসর বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। দেশে উৎপাদিত ফুল কিনলে ‘এয়ার মাইলস’ বা দূরপাল্লার পরিবহনের পরিবেশগত প্রভাবও কমবে।
অন্যদিকে হেলেন চেম্বার্স, যিনি স্পাল্ডিং-এ ফুলের ব্যবসা করেন, তিনি বলেন, মানুষ চাইলে গোলাপ কিনতেই পারেন, তবে উৎস যেন বিশ্বাসযোগ্য হয়। তাঁর বিক্রি হওয়া ফুলের প্রায় ৮৫ শতাংশই ব্রিটিশ, বাকিটা আমদানি। অনেক চাষি এখন পরিবেশগত মান উন্নত করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, বছরের কিছু সময়ে পুরোপুরি দেশীয় ফুল দিয়েই চাহিদা মেটানো সম্ভব হয়। দেশের উৎপাদনের দিকে আরও নজর না দিলে সারাক্ষণ বিদেশ থেকে ফুল আনতে গিয়ে বড় কার্বন ফুটপ্রিন্ট তৈরি হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
তবে British Florist Association-এর পক্ষ থেকে ভিন্ন সুর শোনা গেছে। সংস্থাটির প্রতিনিধি জন ডেভিডসন বলেন, তারা যুক্তরাজ্যের চাষিদের সমর্থন করেন এবং দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধির পক্ষেই। কিন্তু বছরের এই সময়ে কেবল ব্রিটিশ ফুল দিয়ে সারা দেশের প্রয়োজনীয় পরিমাণ ও বৈচিত্র্য সরবরাহ করা বাস্তবসম্মত নয়। টেকসই উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা গবেষণালব্ধ তথ্যের ভিত্তিতে হওয়া দরকার বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
ডেভিডসনের মতে, আন্তর্জাতিক অনেক উৎপাদক পরিবেশবান্ধব উদ্ভাবনে এগিয়ে। কখনও কখনও উষ্ণ আবহাওয়ায় প্রাকৃতিক আলো ব্যবহার করে উৎপাদিত ফুল, কিংবা উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করা ডাচ চাষিদের ফুল, শীতকালে যুক্তরাজ্যের গরম কাচঘরে উৎপাদনের তুলনায় বেশি জ্বালানি সাশ্রয়ী হতে পারে। ভোক্তাদের জানাশোনার ভিত্তিতে পছন্দ করার সুযোগ থাকা উচিত এবং স্থানীয় ও বৈশ্বিক সরবরাহকে প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং পরিপূরক হিসেবে দেখাই শিল্পের জন্য ভালো, বলেছেন তিনি।