-69920b06b4955.jpg)
দেশের ইতিহাসে এবার সেরা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এটি স্বস্তিদায়ক, অভূতপূর্ব এবং অন্তর্বর্তী সরকারের ‘মহাসাফল্য’। এ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের মানুষ তাদের অধিকার এবং পুলিশের আত্মমর্যাদা ফিরে পেয়েছে। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) উপদেষ্টা পরিষদের ৬১তম এবং সর্বশেষ বৈঠকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস এসব কথা বলেন।
দেশের ইতিহাসে এবার সেরা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এটি স্বস্তিদায়ক, অভূতপূর্ব এবং অন্তর্বর্তী সরকারের ‘মহাসাফল্য’। এ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের মানুষ তাদের অধিকার এবং পুলিশের আত্মমর্যাদা ফিরে পেয়েছে। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) উপদেষ্টা পরিষদের ৬১তম এবং সর্বশেষ বৈঠকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস এসব কথা বলেন।
রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এ সময়ে সুন্দর নির্বাচনের জন্য তিনি নির্বাচন কমিশন, সেনাবাহিনী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অন্যান্য বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান। উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
প্রেস সচিব জানান, মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠান। এতে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা পতাকাবাহী গাড়িতে শপথ অনুষ্ঠানে যাবেন। কিন্তু বাসায় ফিরবেন পতাকা ছাড়া। এছাড়াও অনুষ্ঠানে কাতার ও সার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
শফিকুল আলমের মতে, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব পালনে ৯০ শতাংশ সফল হয়েছে। কারণ, অর্থনৈতিকভাবে একটি ভঙ্গুর দেশে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে এনেছে এ সরকার।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্রজনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ওই বছরের ৮ আগস্ট অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। দেড় বছর পর বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনের পর নতুন সরকারের শপথের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হবে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বকাল। এরপরই উপদেষ্টারা বিদায় নেবেন।
শফিকুল আলম বলেন, এবার এমন একটা নির্বাচন হয়েছে, যে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশে গুম-খুনের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত দল এবং জুলাই বিপ্লবের নেতৃত্বদানকারীরা বিরোধী দলের প্রতিনিধিত্ব করবেন। আর এবারই প্রথম এমন একটি নির্বাচন হয়েছে, যে নির্বাচনের পর সংখ্যালঘুদের ওপর কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি। শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দেওয়ায় উপদেষ্টা পরিষদকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। নির্বাচন কমিশনের কর্মকাণ্ডেও উপদেষ্টা পরিষদ সন্তুষ্ট। তাদেরও ধন্যবাদ জানানো হয়েছে।
তিনি বলেন, উপদেষ্টা পরিষদ মনে করে, এ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে পুলিশবাহিনী তার আত্মমর্যাদা ফিরে পেয়েছে। এ সময় হাতিয়ায় ধর্ষণের ঘটনা নিয়ে শফিকুল আলম বলেন, সরকার ধর্ষণের ঘটনায় একটি কমিটি করে দেবে, যারা এর সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করবে।
তিনি জানান, মঙ্গলবার নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠান। এ অনুষ্ঠানে সার্কভুক্ত সব দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আর উপদেষ্টারা পতাকাবাহী গাড়িতে করে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে যাবেন। শপথ শেষে তারা পতাকা ছাড়া গাড়িতে করে বাসায় ফিরবেন। এর মধ্য দিয়ে তাদের আনুষ্ঠানিক বিদায় হবে।
সাংবাদিকদের প্রশ্ন ছিল—অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর দেশের মানুষের অনেক প্রত্যাশা ছিল, আসলে এ সরকার কতটা সফল হয়েছে? উত্তরে প্রেস সচিব বলেন, ‘একেকজন তো একেক রকম মনে করে। আমি ৩০ বছর ধরে সাংবাদিকতা করেছি। এরপর ১৮ মাস এই সরকারকে নিবিড়ভাবে দেখেছি। আমরা যে ধরনের আমলাতন্ত্র এবং ভঙ্গুর অর্থনীতি পেয়েছি, তাতে আমার ব্যক্তিগত মত হলো, সরকার ৯০ শতাংশ সফল।’
আরেক প্রশ্নের উত্তরে প্রেস সচিব বলেন, তাদের করা প্রতিটি অধ্যাদেশ আইনে পরিণত হবে বলে মনে করি।