যুক্তরাজ্য

২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০০:০২
আরও খবর

যুক্তরাজ্যে যেকোনো স্ক্যামের শিকার হলে কী করবেন, কোথায় পাবেন সহায়তা ও অর্থ ফেরতের উপায় কি?

14287_IMG_2805.jpeg

অনলাইন বা ফোনে প্রতারণার ঘটনা বেড়েই চলেছে। কেউ অর্থ হারাচ্ছেন, কেউ আবার অজান্তেই ব্যক্তিগত তথ্য তুলে দিচ্ছেন জালিয়াতদের হাতে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়াই ক্ষতি কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

আপনি যদি মনে করেন প্রতারণার শিকার হয়েছেন, প্রথমেই প্রতারকের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করতে হবে। এরপর অবিলম্বে নিজের ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করে লেনদেন স্থগিত বা কার্ড ব্লক করার অনুরোধ জানাতে হবে। যুক্তরাজ্যে সরাসরি ১৫৯ নম্বরে কল করলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা যায়। অর্থ হারিয়ে থাকলে ইংল্যান্ড, ওয়েলস বা উত্তর আয়ারল্যান্ডে Action Fraud এ অভিযোগ জানাতে হয়। স্কটল্যান্ডে এ ক্ষেত্রে Police Scotland এর সঙ্গে যোগাযোগ করতে হয়।

ব্যাংক ট্রান্সফারের মাধ্যমে প্রতারকের কাছে অর্থ পাঠানো হলে সেটি ‘অথরাইজড পুশ পেমেন্ট’ বা এপিপি জালিয়াতি হিসেবে বিবেচিত হয়। বর্তমানে চালু নিয়ম অনুযায়ী, অধিকাংশ ক্ষেত্রে গ্রাহক অর্থ ফেরত পাওয়ার অধিকার রাখেন। তবে ব্যাংক যদি প্রমাণ করতে পারে যে গ্রাহক চরম অবহেলা করেছেন, যেমন স্পষ্ট সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেছেন বা নিজের পূর্ণ পিন ও পাসওয়ার্ড শেয়ার করেছেন, সেক্ষেত্রে ফেরত নাও দিতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে ব্যাংক সর্বোচ্চ ১০০ পাউন্ড পর্যন্ত অতিরিক্ত চার্জ কেটে রাখতে পারে, যদিও সব ব্যাংক তা করে না।

অন্যদিকে অনুমতি ছাড়া অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ কেটে নেওয়া, কার্ড ক্লোন বা চুরি হওয়া, কিংবা হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে লেনদেন হলে তা সরাসরি জালিয়াতি হিসেবে গণ্য হয়। এ ধরনের ক্ষেত্রে দ্রুত ব্যাংককে জানালে সাধারণত গ্রাহক অর্থ ফেরত পান। ডেবিট কার্ড হারানোর আগে সীমিত পরিস্থিতিতে সর্বোচ্চ ৩৫ পাউন্ড পর্যন্ত দায় বহন করতে হতে পারে, তবে রিপোর্ট করার পর অতিরিক্ত ক্ষতির দায় গ্রাহকের ওপর বর্তায় না।

ক্রেডিট কার্ডে ১০০ পাউন্ডের বেশি মূল্যের পণ্য কিনে তা না পেলে বা বর্ণনার সঙ্গে না মিললে ভোক্তারা আইনি সুরক্ষা পান। এছাড়া ডেবিট কার্ড লেনদেনে চার্জব্যাক ব্যবস্থার মাধ্যমে অর্থ ফেরতের চেষ্টা করা যায়। এসব ব্যবস্থার মাধ্যমে বৈধ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কিংবা ভুয়া বিক্রেতা উভয়ের বিরুদ্ধেই দাবি তোলা সম্ভব।

পরিচয় চুরি বা আইডি জালিয়াতির ক্ষেত্রেও দ্রুত পদক্ষেপ জরুরি। অজানা ঋণ, বিল বা ক্রেডিট রিপোর্টে সন্দেহজনক এন্ট্রি দেখলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। পাসওয়ার্ড পরিবর্তন এবং দুই ধাপ যাচাইকরণ চালু করার পরামর্শ দেওয়া হয়। ঘটনাটি Action Fraud এ রিপোর্ট করে একটি ক্রাইম রেফারেন্স নম্বর সংগ্রহ করা উচিত। প্রয়োজনে Cifas এ সুরক্ষামূলক নিবন্ধন করা যায়, যা নতুন ঋণ আবেদন যাচাইয়ে অতিরিক্ত পরীক্ষা নিশ্চিত করে।

ব্যাংকের সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট হলে প্রথমে আনুষ্ঠানিক লিখিত অভিযোগ করতে হয়। ব্যাংক নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে চূড়ান্ত জবাব দিতে বাধ্য। তাতেও সমাধান না হলে বিষয়টি Financial Ombudsman Service এ নেওয়া যায়। এই সংস্থা বিনা খরচে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্ত করে এবং প্রয়োজনে অর্থ ফেরতের নির্দেশ দিতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতারণার শিকার হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া, প্রমাণ সংরক্ষণ করা এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানানোই ক্ষতি কমানো ও অর্থ পুনরুদ্ধারের মূল চাবিকাঠি।

সর্বাধিক পঠিত


আরও খবর
ভিডিও