
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ১৪ বোতল বিদেশি মদসহ জনপ্রিয় অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরীর আটকের খবরে যখন নেটদুনিয়া তোলপাড়, ঠিক তখনই সামনে এলো আরও এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। কাস্টমসের সেই ‘রহস্যজনক’ ছাড়ের নেপথ্যে নাকি প্রভাব খাটিয়েছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশা! নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গোপন সূত্রের বরাতে এমনই বিস্ময়কর তথ্য মিলেছে।
গোপন ওই সূত্র জানায়, সম্প্রতি দেশের এক প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের অফিসে আড্ডায় অংশ নেন নুসরাত ইমরোজ তিশা। সেখানে কথার প্রসঙ্গে মেহজাবীন চৌধুরীর এই মদকাণ্ডের বিষয়টি উঠে আসে। আড্ডায় তিশা নিজেই নিশ্চিত করেন যে, মেহজাবীনের মদসহ আটকের ঘটনাটি সম্পূর্ণ সত্যি। সূত্রমতে, বিমানবন্দরে আটকের পর মেহজাবীনের পক্ষ থেকে তিশা-ফারুকীর কাছে ফোনকল আসে এবং তারাই প্রভাব খাটিয়ে অভিনেত্রীকে কাস্টমসের জাল থেকে মুক্ত হতে সাহায্য করেন বলে আড্ডায় স্বীকার করেন তিশা।
প্রকাশিত সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৭ আগস্ট ব্যাংকক থেকে বিএস-২১৮ ফ্লাইটে ঢাকায় ফেরেন মেহজাবীন, তাঁর স্বামী আদনান আল রাজীব ও নির্মাতা শঙ্খ দাসগুপ্ত। গ্রিন চ্যানেল পার হওয়ার সময় কাস্টমসের তল্লাশিতে তাদের লাগেজ থেকে ১৪ বোতল মদ উদ্ধার করা হয়। অবৈধভাবে অ্যালকোহল বহনের দায়ে মামলা হওয়ার বিধান থাকলেও, অদৃশ্য ইশারায় মুচলেকা ছাড়াই তাদের সসম্মানে ছেড়ে দেওয়া হয়। সে সময় জব্দ পণ্যের রসিদ করে বিষয়টি ধামাচাপা দেয় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। প্রটোকল দিতে আসা এভিয়েশন সিকিউরিটির দুই কর্মকর্তাও মুচলেকা দিয়ে জানান, মদের বিষয়ে তারা কিছুই জানতেন না।
মদকাণ্ড ও কাস্টমসের ছাড়ের বিষয়টি শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশ্যে আসার পর আজ রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকালে এক ফেসবুক পোস্টে মুখ খোলেন মেহজাবীন। সেখানে মদের বিষয়টি সরাসরি অস্বীকার বা স্পষ্ট না করলেও তিনি দাবি করেন, ক্যারিয়ারের এই সময়ে তাঁকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ‘টার্গেট’ করা হচ্ছে।
পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আমি যখন নতুন করে কাজে মনোনিবেশ করেছি, ঠিক তখনই আবার আমার মানহানি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। নারীরাই আজকাল সহজ টার্গেট হচ্ছে, এর পেছনে কে বা কারা আছে তা আমার জানা নেই।’