বাংলাদেশ

অমর একুশে বইমেলা নিয়ে নতুন প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর

14420_IMG_4924.jpeg

অমর একুশে বইমেলাকে আগামীতে আন্তর্জাতিক বইমেলায় আয়োজন করা যায় কি না, তা ভেবে দেখার জন্য সবার প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বাংলা একাডেমিতে অমর একুশে বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই প্রস্তাব দেন।

তারেক রহমান বলেন, ‘বাংলা একাডেমির সৃজনশীল কার্যক্রমের অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ অমর একুশে বইমেলা। তবে সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে আগামী বছরগুলোতে অমর একুশে বইমেলা, অমর এক আন্তর্জাতিক বইমেলা হিসেবে আয়োজন করার সুযোগ রয়েছে কি না সেটি আমি আপনাদের সবাইকে ভেবে দেখার অনুরোধ জানাব। অমর একুশে আন্তর্জাতিক বইমেলা অনুষ্ঠিত হলে বিশ্ব সাহিত্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার পাশাপাশি বহু ভাষা এবং সংস্কৃতি শেখা-জানা এবং বোঝার দিকে আমাদের নাগরিকদের আগ্রহী করে তুলতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে বিশ্বাস করি বা মনে করি।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমান গ্লোবাল ভিলেজে এই সময় মাতৃভাষা ছাড়াও আরও একাধিক ভাষার সঙ্গে পরিচিত হওয়া অত্যন্ত জরুরি। বর্তমানে প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে সমৃদ্ধি এবং সম্মানের সঙ্গে টিকে থাকতে হলে জ্ঞান এবং মেধাভিত্তিক রাষ্ট্র ও সমাজ প্রতিষ্ঠার মনে হয় বিকল্প নেই আমাদের সামনে। এজন্য আমাদের জ্ঞানে বিজ্ঞানে প্রযুক্তিতে মেধায় নিজেদের সমৃদ্ধ হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে বাংলা ভাষাকে জাতিসংঘের অফিশিয়াল ভাষা হিসেবে স্বীকৃত আদায়ের জন্য আমাদের মনে হয় কাজ শুরু করা প্রয়োজন।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মাতৃভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় ৫২-এর ভাষা আন্দোলনে শহীদদের স্মরণে আমরা স্বগৌরবে প্রতি বছর একুশ পালন করে থাকি। দিবসটি এখন শুধু আর বাংলাদেশের নয়, অমর একুশে এখন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে সারা বিশ্বেই পালিত হচ্ছে। ভাষা আন্দোলনের শহীদের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে আজকের এই স্থানটি অর্থাৎ এই বাংলা একাডেমি।’

‘বইমেলা হয়ে উঠুক প্রাণের মিলন মেলা’

 

 

তারেক রহমান বলেন, ‘ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশের জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে বাংলাদেশে একটি গণতান্ত্রিক সরকার তার যাত্রা শুরু করেছে। জনগণের প্রতি জবাবদিহিমূলক সরকার দেশটাকে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করতে চায়। অমর ২১ বইমেলা কেবল বই বেচাকেনার মেলা নয়, বরং এই মেলা হয়ে উঠুক। শিক্ষা এবং সংস্কৃতি বিকাশের সূতিকাগার।’

 

 

তিনি বলেন, ‘অমর একুশে বইমেলাকে কেন্দ্র করে বাংলা একাডেমি মাসব্যাপী আলোচনা অনুষ্ঠান সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন, সঙ্গীত-আবৃত্তি প্রতিযোগিতা যে আয়োজন করে এসব উদ্যোগ নতুন প্রজন্মের সামনে তাদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের সুযোগ তৈরি করে দেয়। এভাবেই বইমেলা হয়ে উঠুক আমাদের সবার মিলনমেলা প্রাণের মেলা।’

 

 

‘বইমেলা সারাদেশে করতে হবে’

 

 

প্রধানমন্ত্রী পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘অমর একুশে বইমেলা শুধু একটি নির্দিষ্ট মাসে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ও সোহরাওয়ার্দি উদ্যানে সীমাবদ্ধ না রেখে, সারা বছর দেশের সব বিভাগ জেলা ও উপজেলায় আয়োজিত করা যেতে পারে। এ ব্যাপারে বই প্রকাশকরা উদ্যোগী হয়ে ভূমিকা রাখতে পারেন বলে আমি মনে করি। সরকারের পক্ষ থেকে যদি সহযোগিতার কোনো অবকাশ থাকে, অবশ্যই বর্তমান সরকার সেখানে এগিয়ে আসবে। এ ব্যাপারে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় আপনাদের নিশ্চয়ই প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত রয়েছেন।’

 

 

‘সবার আগে বাংলাদেশ’

 

 

সরকারপ্রধান বলেন, ‘জাতির মননের প্রতীক বাংলা একাডেমি আমাদের তরুণ-তরুণীদের মেধা ও মনন বিকাশের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে। এর মধ্যে বিভিন্ন মেয়াদি গবেষণাবৃত্তি, তরুণ লেখক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এবং আন্তর্জাতিক সেমিনার আয়োজন…। এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে বাংলা ভাষা ও দেশজ সংস্কৃতির মূল ধারার সঙ্গে যুক্ত করা চেষ্টা ভবিষ্যতে আরও সম্প্রসারিত হবে ইনশাআল্লাহ। বাংলাদেশের সমৃদ্ধ সাহিত্য, ইংরেজিসহ নানা বিদেশি ভাষায় অনুবাদের কার্যক্রম বাংলা একাডেমি পরিচালনা করছে।’

 

 

তিনি বলেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে আশা করি, এ কার্যক্রম আরও বেগবান হবে ইনশাআল্লাহ এবং আমাদের সমৃদ্ধ সাহিত্যের সঙ্গে বিশ্ব সাহিত্যের পরিচয় আরও দৃঢ় হবে ইনশাআল্লাহ। এজন্যই আমরা বলি সবার আগে বাংলাদেশ। এই দেশকে সব প্রকার অন্ধকার ও পশ্চাৎ পদত থেকে মুক্ত করে দল-মত-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার জন্য একটি নিরাপদ মানবিক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে আমি আপনাদের সবার আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করছি।’

 

 

গবেষণাধর্মী বই প্রকাশ প্রসঙ্গে

 

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বের অনেক দেশেই বইমেলার হয়। তবে, আমাদের বইমেলা অন্য দেশের বইমেলার মতন নয়। আমাদের বইমেলা আমাদের মাতৃভাষার ভাষার অধিকার আদায় এবং বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার স্মারক হিসেবে চিহ্নিত।’

 

 

তিনি বলেন, ‘প্রতি বছর মেলার আকার আয়তন বাড়লেও সেই হারে মনে হয় গবেষণাধর্মী বই প্রকাশিত হচ্ছে কি না, কিংবা মানুষের বই পড়ার অভ্যাস বাড়ছে কি না। এই বিষয়গুলো নিয়ে বর্তমানে মনে হয় চিন্তাভাবনা করার অবকাশ আছে।’

 

 

জার্মান এক দার্শনিকের উক্তি উদ্ধৃতি দিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘তিনি বলেছিলেন বই ছাড়া ঘর, আত্মা ছাড়া দেহের মতন। বিজ্ঞানী এবং গবেষকরা বলছেন, বই শুধুমাত্র বিদ্যা শিক্ষা কিংবা অবসরের সঙ্গী নয়, বরং বই পড়া মস্তিষ্কের জন্য এক ধরনের ব্যায়াম। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস মস্তিষ্কের কোষগুলোর মধ্যে নতুন সংযোগ তৈরি করে। যেটি মানুষের স্মৃতিশক্তি এবং জাজমেন্ট ক্ষমতা বা বিশ্লেষণী ক্ষমতা বাড়ায়। এমনকি আলজাইমার বা ডিভেনশিয়ার মতন রোগের ঝুঁকিও ক্ষেত্র বিশেষে কমিয়ে নিয়ে আসে।’

সর্বাধিক পঠিত


ভিডিও