যুক্তরাজ্য

৯ মার্চ ২০২৬, ১৩:০৩
আরও খবর

যুক্তরাজ্যে তেলের বাজার অস্থির, পেট্রলের দাম ইতিহাসের সর্বোচ্চে যাওয়ার আশঙ্কা

14628_image.jpeg

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে চলমান সামরিক উত্তেজনার জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে যুক্তরাজ্যের জ্বালানি বাজারেও। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে ব্রিটেনে পেট্রলের দাম ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে পেট্রলের দাম প্রতি লিটার ১৯১.৫ পেন্সের আগের রেকর্ড ভেঙে যেতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বাড়তে থাকায় যুক্তরাজ্যের গাড়িচালকদের জন্য জ্বালানি ব্যয় আবারও বড় চাপ হয়ে দাঁড়াতে পারে। রবিবার রাতের মধ্যে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৪ ডলারের বেশি হয়েছে, যা ২০২৩ সালের শরতের পর সর্বোচ্চ।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংকট দীর্ঘায়িত হলে এই মাসের শেষ নাগাদ তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১৫০ ডলারে পৌঁছাতে পারে। এমনকি কিছু তেল ব্যবসায়ী আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে চরম পরিস্থিতিতে দাম ২৫০ ডলার পর্যন্তও উঠতে পারে। ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধের সময় তেলের দাম সর্বোচ্চ ১১৬ ডলার পর্যন্ত উঠেছিল।

জ্বালানি বিষয়ক সংগঠন ফেয়ারফুয়েলইউকের প্রতিনিধি হাওয়ার্ড কক্স সতর্ক করে বলেছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম যদি ১০০ ডলারের বেশি হয়, তবে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই যুক্তরাজ্যে পেট্রল ও ডিজেলের দাম প্রতি লিটারে ১০ থেকে ২০ পেন্স পর্যন্ত বাড়তে পারে। তিনি আরও বলেন, তেলের দাম যদি ১২০ ডলার ছাড়িয়ে যায়, তাহলে তা অর্থনীতিকে মন্দার দিকে ঠেলে দিতে পারে।

ইতোমধ্যে ডিজেলের দাম মাত্র এক সপ্তাহে ৮.৬ পেন্স বেড়ে প্রতি লিটার ১৫০.৯৭ পেন্সে পৌঁছেছে, যা গত ১৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। একই সময়ে পেট্রলের গড় দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩৭.৫১ পেন্সে।

এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সামরিক হামলা ও পাল্টা হামলাকে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলায় ইরানের কয়েকটি তেল স্থাপনায় আগুন লাগে এবং তেহরানের আকাশে কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। ইরানের বড় তেল সংরক্ষণাগার শরানেও হামলার খবর পাওয়া গেছে।

এদিকে ইরান হুমকি দিয়েছে যে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে কোনো তেলবাহী জাহাজ চলাচল করলে সেটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে। এই প্রণালী দিয়ে বিশ্বের মোট তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন হয়। এরই মধ্যে সপ্তাহান্তে মাত্র একটি তেলবাহী জাহাজ এই পথ অতিক্রম করেছে, যেখানে সাধারণত প্রতিদিন কয়েক ডজন জাহাজ চলাচল করে।

পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ইরানের নেতৃত্বকে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি মন্ত্রীও বলেছেন, এই গুরুত্বপূর্ণ পথের জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন আরও কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে মন্তব্য করে বলেছেন, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করার বিনিময়ে তেলের স্বল্পমেয়াদি মূল্যবৃদ্ধি বিশ্ব নিরাপত্তার জন্য গ্রহণযোগ্য। তবে অনেক অর্থনীতিবিদ মনে করছেন, এই সংকট দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধাক্কা লাগতে পারে এবং এর প্রভাব সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ে স্পষ্টভাবে পড়বে।

এদিকে যুক্তরাজ্যে পরিকল্পিত জ্বালানি শুল্ক বৃদ্ধিও পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে। আগামী সেপ্টেম্বর থেকে ধাপে ধাপে জ্বালানি শুল্ক বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে, যা গাড়িচালকদের ব্যয় আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সর্বাধিক পঠিত


আরও খবর
ভিডিও