
যুক্তরাজ্যে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম দ্রুত বাড়তে থাকলেও চালকদের স্বস্তি দিতে জ্বালানি শুল্ক কমানোর মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার জানিয়েছেন, চালকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমাতে সরকার ফুয়েল ডিউটি কমানোর বর্তমান ব্যবস্থা আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়িয়েছে।
সাম্প্রতিক আরএসি ফুয়েল ওয়াচের তথ্য অনুযায়ী, গত দেড় বছরের মধ্যে যুক্তরাজ্যে জ্বালানির দাম এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বর্তমানে অনেক চালককে প্রতি লিটার পেট্রোলের জন্য ১৪১ পেন্সের বেশি এবং ডিজেলের জন্য ১.৬০ পাউন্ডের বেশি মূল্য পরিশোধ করতে হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, আগামী দিনগুলোতে দাম আরও বাড়তে পারে।
লন্ডনে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার চালকদের সহায়তা দিতে কয়েকটি পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ফুয়েল ডিউটির ছাড়ের মেয়াদ বাড়ানো এবং নতুন “ফুয়েল ফাইন্ডার” ব্যবস্থা চালু করা। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে পেট্রোল পাম্পগুলোকে তাদের জ্বালানির সর্বশেষ মূল্য প্রকাশ করতে বাধ্য করা হবে, যাতে চালকরা সহজেই কম দামের পাম্প বেছে নিতে পারেন।
স্টারমার বলেন, ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধের সময় জ্বালানির দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার পর তিনি তেল ও গ্যাস কোম্পানিগুলোর ওপর অতিরিক্ত কর আরোপের দাবি করেছিলেন। বর্তমানে সরকার সেই কর কার্যকর করেছে, যাতে কোম্পানিগুলো অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি থেকে অতিরিক্ত মুনাফা করতে না পারে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলো সাধারণ মানুষের পকেটে আরও অর্থ ফিরিয়ে দেওয়া এবং বাজারে অযৌক্তিক মুনাফা বন্ধ করা।
সরকার পূর্বে ঘোষণা দিয়েছিল যে আগামী সেপ্টেম্বর থেকে ধীরে ধীরে প্রতি লিটার জ্বালানিতে ৫ পেন্স শুল্কছাড় প্রত্যাহার করা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী সেপ্টেম্বর মাসে ১ পেন্স, ডিসেম্বর মাসে আরও ২ পেন্স এবং পরবর্তী বছরের মার্চে বাকি ২ পেন্স ধাপে ধাপে সমন্বয় করা হবে। এর মাধ্যমে একসঙ্গে বড় মূল্যবৃদ্ধির চাপ থেকে চালকদের রক্ষা করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে ২০২৭ সালের মার্চ থেকে মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জ্বালানি শুল্ক বাড়ানোর সম্ভাবনাও রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নতুন ফুয়েল ফাইন্ডার ব্যবস্থা চালু হলে জ্বালানি বিক্রেতাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা বাড়বে। এতে চালকরা প্রতি লিটারে ১ থেকে ৬ পেন্স পর্যন্ত সাশ্রয় করতে পারবেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় পেট্রোল ও ডিজেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। কিছু অঞ্চলে পেট্রোলের দাম প্রতি লিটার ১৮৫ পেন্সের কাছাকাছি পৌঁছেছে, আর ডিজেলের দাম ২০৪ পেন্স পর্যন্ত উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে জ্বালানি ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে দেশটির চালকদের মধ্যে।