
ব্রিটেন সফরে এসে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট Volodymyr Zelensky মঙ্গলবার বিকেলে Buckingham Palace-এ উষ্ণ অভ্যর্থনা পেয়েছেন ব্রিটেনের রাজা King Charles III-এর কাছ থেকে। গুরুত্বপূর্ণ একটি নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তি চূড়ান্ত করতেই তার এই সফর।
সাক্ষাতের শুরুতে দুই নেতা করমর্দন করেন এবং একসঙ্গে ছবি তোলেন। পরে প্রাসাদের প্রথম তলার ড্রয়িংরুমে আনুষ্ঠানিক ছবি তোলার পর প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কিকে রাজা চার্লসের ব্যক্তিগত কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে প্রায় ২৫ মিনিটের একটি বৈঠকে তারা চা পান করেন।
রাশিয়ার আগ্রাসনের পর থেকেই রাজা চার্লস ইউক্রেনের প্রতি তার সমর্থন ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করে আসছেন। চলতি বছরের জানুয়ারির শেষ দিকে দেওয়া এক বার্তায় তিনি ইউক্রেনীয় জনগণের “অসাধারণ সাহস, দৃঢ়তা ও সহনশীলতা”-র প্রশংসা করেন।
এই সফরের মূল লক্ষ্য হলো ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী Keir Starmer-এর সঙ্গে একটি নতুন প্রতিরক্ষা ঘোষণা স্বাক্ষর করা। এই চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা আরও জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নতুন অংশীদারিত্বের আওতায় ইউক্রেনের প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং ব্রিটেনের শিল্প সক্ষমতাকে একত্র করে ড্রোনসহ বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ প্রতিরক্ষা সম্পর্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এই চুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ইউক্রেনের রাজধানীতে একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কেন্দ্র স্থাপন, যেখানে ব্রিটেন প্রায় পাঁচ লাখ পাউন্ড সহায়তা দেবে। এই “এআই সেন্টার অব এক্সেলেন্স”-এ বিশেষজ্ঞরা যুদ্ধক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে কীভাবে রাশিয়ার বিরুদ্ধে কৌশলগত সুবিধা অর্জন করা যায়, তা নিয়ে কাজ করবেন।
এছাড়া ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ড্রোন উৎপাদন ও সরবরাহেও দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করবে। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা জোরদারে তৃতীয় দেশগুলোর সঙ্গেও প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেন, বৈশ্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করা জরুরি। তিনি জানান, ড্রোন, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ব্যবস্থা এবং দ্রুত উদ্ভাবন এখন জাতীয় নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এই বৈঠকটি এমন সময় অনুষ্ঠিত হলো, যখন গত বছর দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত ১০০ বছরের অংশীদারিত্ব চুক্তির ধারাবাহিকতায় সহযোগিতা আরও জোরদার করা হচ্ছে। ওই চুক্তির মাধ্যমে ইউক্রেনের প্রতি আর্থিক সহায়তা ও দীর্ঘমেয়াদি সমর্থনের ভিত্তি তৈরি হয়েছিল।