বাংলাদেশ

সংসদে ৯ বিল পাস, গুম আইন বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত হলো

14974_IMG_9544.jpeg

জাতীয় সংসদে ৯টি বিল পাস হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সকালে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা অধ্যাদেশগুলোকে আইনে রূপ দিতে এসব বিল পাস করা হয়। বিলগুলোতে কোনো সংশোধনী প্রস্তাব না থাকায় এ বিষয়ে সংসদে কোনো আলোচনা হয়নি। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা উত্থাপনের পর বিলগুলো সরাসরি কণ্ঠভোটে পাস করা হয়।

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি হুবহু এবং ১৫টি সংশোধিত আকারে সংসদে অনুমোদনের সুপারিশ করেছিল জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি। বাকি ২০টির মধ্যে ৪টি রহিত করা এবং ১৬টি পরবর্তীতে আরও শক্তিশালী করে নতুন বিল আনার সুপারিশ করা হয়।

সকালে পাস হওয়া ৯টি বিলের বিষয়ে বিশেষ কমিটির সুপারিশ ছিল, এগুলো যেন হুবহু পাস করা হয়। পাস হওয়া বিলগুলোর মধ্যে ‘হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ বিল’ সংসদে পাসের জন্য প্রস্তাব করেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়।

এরপর পৃথকভাবে কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিওর (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ‘সিভিল কোর্টস (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস (ট্রাইব্যুনালস) (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল এবং রেজিস্ট্রেশন (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল সংসদে পাসের প্রস্তাব করেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান। পৃথকভাবে বিলগুলো কণ্ঠভোটে পাস হয়।

এর মধ্যে ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইম ট্রাইব্যুনাল-সংক্রান্ত বিলটি পাসের প্রস্তাব করতে গিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, এটি এমন একটি বিল, যেখানে মানবতাবিরোধী অপরাধের সংজ্ঞায় গুমকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যারা বলছেন সরকার গুমের আইন বাতিল করতে চাইছে, তাদের তিনি এ আইনটি ভালো করে দেখার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার গুমের বিচারে বদ্ধপরিকর এর বহিঃপ্রকাশ এই আইনে এসেছে।

বিলটি পাস হওয়ার পর পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়ান বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, আইনমন্ত্রী বিল পাসের প্রস্তাব করতে গিয়ে যা বলেছেন তা অনাহূত। এটি না বললেই ভালো হতো। নির্দিষ্ট সময় এলে এ বিষয়ে তারা কথা বলবেন।

জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, বাইরে অনেকে গুমের বিচার নিয়ে সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তোলার চেষ্টা করেছেন। সে কারণেই এ বিল উপস্থাপনের আগে তিনি পরিষ্কার করেছেন যে গুমের বিচারে সরকার কতটা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

এ বিষয়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বাইরে কে কী বলছে তা নয়, সংসদের আলোচনায় বক্তব্য সংসদ সদস্যদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা উচিত। তিনি আরও বলেন, আইনবিধি অনুযায়ী যা গৃহীত হবে, সেটি নিয়েই কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। পরে অন্য বিল পাসের কার্যক্রম শুরু করেন স্পিকার।

পাস হওয়া অন্য বিলগুলো স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত। মূলত নাম পরিবর্তনের জন্য আইন সংশোধন করে অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। সেগুলোকে অনুমোদন দিতে এসব বিল পাস করা হয়।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে তিনটি বিল সংসদে তোলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সেগুলো হলো ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) বিল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (সংশোধন) বিল এবং শেখ হাসিনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (সংশোধন) বিল। দ্বিতীয় বিলটি উত্থাপনের সময় সালাহউদ্দিন কিছুটা হেসে বলেন, খুব দুঃখের ব্যাপার, এতক্ষণ যা বললাম, এখন আবার শেখ হাসিনা বলতে হচ্ছে।

পরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ‘বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট (সংশোধন) বিল’ পাসের প্রস্তাব করেন। বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়।

সর্বাধিক পঠিত


ভিডিও