বাংলাদেশ

সংসদে আরও ৮ বিল পাশ

14981_IMG_9580.jpeg

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে আরও ৮টিকে আইনে পরিণত করতে জাতীয় সংসদে বিল আকারে পাস করা হয়েছে। বিলগুলোতে কোনো দফাওয়ারি সংশোধনী প্রস্তাব না থাকায় সংসদে এ নিয়ে আলোচনা হয়নি; সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা উত্থাপনের পর সরাসরি কণ্ঠভোটে বিলগুলো পাস হয়।

মঙ্গলবার (০৭ এপ্রিল) সকালে পাস হওয়া মোট ৯টি বিলের বিষয়ে সংসদের বিশেষ কমিটি সুপারিশ করেছিল, এগুলো যেন হুবহু অনুমোদন করা হয়।

বিলগুলোর ওপর ধারা অনুযায়ী কোনো সংশোধনী প্রস্তাব না থাকায় সংসদে এ বিষয়ে আলোচনা হয়নি। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা বিলগুলো উত্থাপন করলে কণ্ঠভোটে সরাসরি সেগুলো পাশ হয়। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

অন্তর্বর্তী সময়ে জারি করা মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে সংসদের বিশেষ কমিটি ৯৮টি অপরিবর্তিতভাবে এবং ১৫টি সংশোধনসহ পাসের সুপারিশ করে। বাকি ২০টির মধ্যে ৪টি বাতিল এবং ১৬টি আরও শক্তিশালী করে নতুন বিল আকারে আনার সুপারিশ করা হয়।

মঙ্গলবার পাশ হওয়া বিলগুলোর ক্ষেত্রে বিশেষ কমিটি এগুলোকে অপরিবর্তিতভাবে পাসের সুপারিশ করেছিল।

পাশ হওয়া বিলগুলোর মধ্যে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি ‘বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ বিল, ২০২৬’ সংসদে উত্থাপন করেন এবং তা কণ্ঠভোটে পাশ হয়।

এরপর আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান পৃথকভাবে ‘ফৌজদারি কার্যবিধি (সংশোধন) বিল, ২০২৬’, ‘দেওয়ানি আদালত (সংশোধন) বিল, ২০২৬’, ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ এবং ‘রেজিস্ট্রেশন (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ পাশের প্রস্তাব উত্থাপন করেন। বিলগুলো পৃথকভাবে কণ্ঠভোটে পাশ হয়।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সংক্রান্ত বিল উত্থাপনের সময় আইনমন্ত্রী বলেন, এ আইনে মানবতাবিরোধী অপরাধের সংজ্ঞায় গুম (বাধ্যতামূলক নিখোঁজ) অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, গুমের বিচার করতে সরকার বদ্ধপরিকর এবং এ আইন তার প্রতিফলন।

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, গুমের বিচার নিয়ে সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন। তাই বিলটি উপস্থাপনের আগে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করা হয়েছে।

পরে স্পিকার অন্যান্য বিল পাশের কার্যক্রম শুরু করেন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত আরও কয়েকটি বিল পাশ হয়। মূলত নাম পরিবর্তনের মাধ্যমে আইন সংশোধনের জন্য জারি করা অধ্যাদেশ অনুমোদনের লক্ষ্যে এসব বিল আনা হয়।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ এবং ‘শেখ হাসিনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ সংসদে উত্থাপন করেন। এছাড়া ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) বিল’ সংসদে উপস্থাপন করা হয়।

পরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ‘বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে পাশ হয়।

সর্বাধিক পঠিত


ভিডিও