বাংলাদেশ

সংসদে ‘সাউন্ড বিভ্রাটের’ কারণ জানাল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান

15086_IMG_0473.jpeg

গণঅভ্যুত্থানের সময় জাতীয় সংসদ ভবনের তার ঢিলা (লুজ) হয়ে যাওয়ায় অধিবেশনে টেবিল চাপড়ানোর সময় সাউন্ড সিস্টেমে বিভ্রাট ঘটে— এমন দাবি করেছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কমিউনিকেশন টেকনোলজি লিমিটেডের সিইও জাহিদুর রহিম জোয়ারদার।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রধান কার্যালয়ে প্রায় দুই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এ দাবি করেন। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত দুদকের জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হন তিনি। দুদকের সহকারী পরিচালক প্রবীর কুমার দাস তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

জাহিদুর রহিম বলেন, গণঅভ্যুত্থানের সময় ক্ষতিগ্রস্ত সংসদ ভবনের তার ঢিলা হয়ে থাকায় অধিবেশনে টেবিল চাপড়ানোর সময় সাউন্ড সিস্টেমে বিভ্রাট দেখা দেয়। তিনি জানান, সংস্কার কাজের প্রথম অংশ সম্পন্ন করেছিল আমানত এন্টারপ্রাইজ। তবে তাদের কারিগরি সক্ষমতার ঘাটতি থাকায় শেষ পর্যায়ের কাজ তার প্রতিষ্ঠানকে করতে হয়েছে।

অন্যদিকে দুদকের উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম বলেন, দুর্নীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে পর্যায়ক্রমে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এ বিষয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং অনুসন্ধান কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

দুদকের অভিযোগে বলা হয়েছে, জাহিদুর রহিম জোয়ারদার রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জাতীয় সংসদ ভবনের প্ল্যানারি হলে স্থাপিত ‘এসআইএস’ সিস্টেমের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ দীর্ঘদিন এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করেছেন। এ উন্নয়ন কাজের আড়ালে ‘ওভার ইনভয়েসিং’ বা অতিরিক্ত মূল্য দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ বিদেশে পাচারের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

এছাড়া স্বাস্থ্য খাতে চিকিৎসা সরঞ্জাম ও মেডিকেল যন্ত্রপাতি ক্রয়ের ক্ষেত্রেও একই কৌশলে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছে দুদক।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর জাতীয় সংসদ ভবনের প্ল্যানারি হলে স্থাপিত সাউন্ড সিস্টেম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরবর্তীতে এটি মেরামতের উদ্যোগ নেয় গণপূর্ত অধিদপ্তর।

অভিযোগ রয়েছে, কেবল সিস্টেম পরীক্ষা বাবদ প্রকৌশলীদের যাতায়াত, আবাসন ও সম্মানী হিসেবে প্রায় ১১ লাখ ২৫ হাজার টাকা দাবি করেছিল সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটি। এছাড়া পুরো সিস্টেমের মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজে উচ্চমূল্যের প্রাক্কলন তৈরির অভিযোগও খতিয়ে দেখছে দুদক।

সর্বাধিক পঠিত


ভিডিও