
ব্রিটেনে জিপি (জেনারেল প্র্যাকটিশনার) সার্ভিস নিয়ে নতুন এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক চিত্র। অভিযোগ উঠেছে, অনেক চিকিৎসাকেন্দ্র প্রবীণ রোগীদের অনলাইনে অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করতে বাধ্য করছে, যা এনএইচএসের নির্ধারিত নীতিমালার সরাসরি লঙ্ঘন।
দাতব্য সংস্থা রি-এনগেজ পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, ৭৫ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষকে চিকিৎসকের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য অনলাইন ফর্ম পূরণ করতে বাধ্য করা হয়েছে। অথচ এনএইচএসের নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি জিপি সার্জারিকে রোগীদের জন্য সরাসরি উপস্থিত হয়ে অথবা ফোনে অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
‘কেয়ার অন হোল্ড’ শীর্ষক এই প্রতিবেদনের জন্য ৯২৬ জন প্রবীণের ওপর জরিপ চালানো হয়। এতে দেখা যায়, ৭০ শতাংশ প্রবীণ জানিয়েছেন যে, অনলাইনে অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি বা জ্ঞান তাদের নেই। এছাড়া ৬২ শতাংশ বলেছেন, এ কাজে সহায়তা করার মতো কেউ তাদের পাশে নেই।
প্রতিবেদনে ৯৫ বছর বয়সী ডরিসের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে। তিনি জানান, তার কাছে ইন্টারনেট নেই এবং ফোন লাইন প্রায়ই ব্যস্ত থাকে। তাকে ক্লিনিকে যেতে বলা হলেও শারীরিকভাবে সেখানে পৌঁছানো তার পক্ষে সম্ভব নয়। একইভাবে ৮০ বছর বয়সী অ্যাডা জানান, তিনি নিজে হেঁটে ক্লিনিকে যেতে পারেন না এবং বন্ধুর সহায়তায় অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করতে হয়। অন্যথায় তাকে ট্যাক্সিতে যেতে হয়, যার খরচ বহন করাও তার জন্য কঠিন।
জরিপে অংশ নেওয়া ৭৭ শতাংশ প্রবীণ অনলাইন-নির্ভর সেবা চালু রাখার বিরোধিতা করেছেন। ৬৩ শতাংশ বলেছেন, এই পদ্ধতি তাদের মধ্যে একাকীত্ব ও বিচ্ছিন্নতার অনুভূতি বাড়িয়ে দিচ্ছে।
রি-এনগেজ জানিয়েছে, এই পরিস্থিতি নীতিমালা ও বাস্তবতার মধ্যে একটি বড় ফাঁক নির্দেশ করে। যদিও সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে যে তাদের অধীনস্থ সব জিপি সার্জারি ফোন, সরাসরি উপস্থিতি এবং অনলাইন—এই তিন ধরনের বুকিং সুবিধা প্রদান করে, তবুও বাস্তবে অনেক প্রবীণ রোগী এসব সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
এ ঘটনায় সমালোচকরা দাবি তুলেছেন, নিয়ম না মানা চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত, এমনকি তাদের অর্থায়ন বন্ধ করার কথাও বলা হয়েছে। রি-এনগেজ সরকারের কাছে চারটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে অফলাইন বুকিংয়ের অধিকার নিশ্চিত করা, প্রবীণদের মতামতকে ডিজিটাল স্বাস্থ্যনীতিতে অন্তর্ভুক্ত করা এবং বিভিন্ন সামাজিক গোষ্ঠীভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবার তথ্য প্রকাশ করা।
এদিকে, এনএইচএস তাদের ১০ বছরের পরিকল্পনায় স্বাস্থ্যসেবাকে ডিজিটাল রূপান্তরের দিকে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেছে। তবে বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যবস্থা না থাকলে এই পরিবর্তন প্রবীণদের আরও পিছিয়ে দেবে এবং স্বাস্থ্য বৈষম্য বাড়াবে।
এনএইচএসের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, অনলাইন বুকিং সুবিধা একটি অতিরিক্ত মাধ্যম মাত্র, এটি কখনোই প্রচলিত পদ্ধতির বিকল্প নয়। সব জিপি সার্জারিকে ফোন বা সরাসরি উপস্থিত হয়ে অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করার সুযোগ বজায় রাখতে হবে বলেও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।