
ব্রিটেনের রাজপরিবারের সদস্য ক্যাথরিন, প্রিন্সেস অব ওয়েলস আগামী সপ্তাহে ইতালিতে তার প্রথম আনুষ্ঠানিক বিদেশ সফরে যাচ্ছেন, যা তার ক্যানসার চিকিৎসার পর প্রথম আন্তর্জাতিক দায়িত্ব পালন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
১৩ ও ১৪ মে তিনি ইতালির রেজ্জিও এমিলিয়া শহরে একক সফরে অংশ নেবেন। এই সফরের মূল লক্ষ্য তার প্রারম্ভিক শৈশব শিক্ষাবিষয়ক উদ্যোগকে এগিয়ে নেওয়া। সেখানে তিনি শিশুদের বিকাশে ব্যবহৃত বিশেষ “রেজ্জিও এমিলিয়া পদ্ধতি” সম্পর্কে সরাসরি জানবেন।
কেনসিংটন প্যালেসের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, রাজকুমারী এই সফর নিয়ে “খুবই আগ্রহী” এবং তিনি দেখতে চান কীভাবে এই শিক্ষাপদ্ধতিতে প্রকৃতি ও মানবিক সম্পর্ক একসঙ্গে শিশুদের বিকাশে সহায়তা করে।
রেজ্জিও এমিলিয়া পদ্ধতি শিশুদের নিজস্ব আগ্রহ, খেলাধুলাভিত্তিক শিক্ষা এবং সম্পর্কভিত্তিক শেখার ওপর গুরুত্ব দেয়। সফরের সময় তিনি শিক্ষক, অভিভাবক, শিশু, স্থানীয় প্রতিনিধি এবং ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।
এই সফর তার রাজকীয় দায়িত্বে পূর্ণ প্রত্যাবর্তনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। অজ্ঞাত ধরনের ক্যানসারের চিকিৎসার পর তিনি ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে জানান যে তিনি রোগমুক্ত (রেমিশন)। তবে তিনি তার সুস্থ হয়ে ওঠার পথে “ভালো দিন ও খারাপ দিন”-এর অভিজ্ঞতার কথাও উল্লেখ করেছেন।
তার শেষ বিদেশ সফর ছিল ২০২২ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে, যখন তিনি প্রিন্স উইলিয়ামের সঙ্গে বোস্টনে গিয়েছিলেন। এরপর কিছু ব্যক্তিগত সফর থাকলেও এটি প্রায় সাড়ে তিন বছরের মধ্যে তার প্রথম আনুষ্ঠানিক বিদেশ সফর।
এই ইতালি সফর তার প্রতিষ্ঠিত রয়্যাল ফাউন্ডেশন সেন্টার ফর আর্লি চাইল্ডহুড-এর আন্তর্জাতিক কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত করবে। ২০২১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কেন্দ্রটি শিশুদের প্রাথমিক জীবনের অভিজ্ঞতা কীভাবে ভবিষ্যতের মানসিক স্বাস্থ্য ও সামাজিক সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত তা নিয়ে কাজ করে।
এছাড়া, বুধবার কেন্দ্রটি “ফাউন্ডেশনস ফর লাইফ” নামে একটি নতুন গাইড প্রকাশ করবে ইউনিভার্সিটি অব ইস্ট লন্ডনে। এই গাইডে শিশু ও পরিবারের সঙ্গে কাজ করা ব্যক্তিদের জন্য সামাজিক ও মানসিক বিকাশের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।
গাইডটির ভূমিকায় ক্যাথরিন লিখেছেন, “আমাদের সম্পর্কের মান—নিজের সঙ্গে, অন্যদের সঙ্গে এবং আমাদের চারপাশের বিশ্বের সঙ্গে—নির্ধারণ করে আমরা কতটা নিরাপদ বোধ করি, কীভাবে সম্পর্ক গড়ি এবং জীবনের অভিজ্ঞতাগুলো কীভাবে গ্রহণ করি।”
জনমত জরিপ অনুযায়ী, তিনি রাজপরিবারের সবচেয়ে জনপ্রিয় সদস্যদের একজন, ফলে তার এই সফর নিয়ে গণমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের আগ্রহ অনেক বেশি থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।