যুক্তরাজ্য

৬ মে ২০২৬, ১১:০৫
আরও খবর

ভোটের প্রাক্কালে ব্রিটেনে প্রচারণার চূড়ান্ত তৎপরতা

15308_IMG_2263.jpeg

যুক্তরাজ্যে দুই বছর আগে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনের পর এবার সবচেয়ে বড় আকারের নির্বাচনী লড়াইয়ের দ্বারপ্রান্তে দেশ। আগামীকাল সকাল থেকেই স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসের বিভিন্ন এলাকায় ভোটকেন্দ্র খুলে যাবে, যেখানে ভোটাররা তাদের স্বায়ত্তশাসিত সরকার পরিচালনার জন্য প্রতিনিধি নির্বাচন করবেন। একইসঙ্গে ইংল্যান্ডের অনেক এলাকায়ও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে ১৩৬টি কাউন্সিলে ৫,০০০-এর বেশি আসন এবং ছয়টি মেয়র পদে ভোট গ্রহণ হবে।

ইতিমধ্যেই ডাকযোগে ভোট দেওয়া শুরু হয়েছে, আর রাজনৈতিক দলগুলো এখন শেষ মুহূর্তের প্রচারে ব্যস্ত।

ওয়েলসে, স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নেওয়া প্লাইড কাম্রি নতুন সম্প্রসারিত সেনেড (ওয়েলশ পার্লামেন্ট)-এ সবচেয়ে বড় দল হওয়ার লড়াইয়ে রিফর্ম ইউকে-এর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। প্লাইড কাম্রি দাবি করছে, তারাই একমাত্র দল যারা রিফর্ম ইউকে-কে হারাতে পারে। অন্যদিকে রিফর্ম ইউকে আত্মবিশ্বাসী যে তারা শীর্ষ দল হয়ে উঠবে।

স্কটল্যান্ডে স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টি টানা পঞ্চমবারের মতো জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। প্লাইড-এর মতো তারাও নিজেদেরকে রিফর্ম ইউকে-কে ঠেকানোর সবচেয়ে কার্যকর বিকল্প হিসেবে তুলে ধরছে।

এদিকে, যুক্তরাজ্যের প্রধান দুই দল—লেবার ও কনজারভেটিভ—চাপে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টার্মার ২০২৬ সালে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দিয়েছেন—যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরান যুদ্ধের সঙ্গে সরাসরি জড়িত না হওয়া দেশের স্বার্থে ছিল বলে তিনি মনে করেন। একইসঙ্গে লেবার স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন ও শ্রমিক অধিকার বৃদ্ধির কথা বলছে।

কনজারভেটিভ নেতা কেমি বাডেনক ও কঠিন নির্বাচনের আশঙ্কা করছেন, তবে তিনি ছোট ব্যবসা ও পাবের জন্য ব্যবসায়িক কর বাতিলের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

লিবারেল ডেমোক্র্যাট নেতা এড ডেভি দাবি করছেন, অনেক এলাকায় তার দলই রিফর্ম ইউকে-এর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী এবং স্থানীয় ইস্যুতে তারা বেশি মনোযোগী।

অন্যদিকে রিফর্ম ইউকে-এর নেতা নাইজেল ফারাজ নিজেকে ‘ব্যবস্থা বদলের নেতা’ হিসেবে তুলে ধরছেন। তবে তিনি ৫ মিলিয়ন পাউন্ড অনুদান সংক্রান্ত বিতর্কের মুখোমুখি, যা নিয়ে তদন্ত চলছে।

গ্রিন পার্টি, যার নেতৃত্বে রয়েছেন জ্যাক পোলানস্কি তারা শহরাঞ্চলে লেবারের ভোট কেটে নেওয়ার আশা করছে এবং নিজেদেরকে প্রকৃত বামপন্থী বিকল্প হিসেবে তুলে ধরছে।

সব মিলিয়ে, স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও ইংল্যান্ড জুড়ে এই নির্বাচন একটি জটিল ও উত্তেজনাপূর্ণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি করেছে। ভোটের ফলাফল শুক্রবার ভোর থেকে শুরু করে শনিবার পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে প্রকাশিত হবে।

সর্বাধিক পঠিত


আরও খবর
ভিডিও