যুক্তরাজ্য

৬ মে ২০২৬, ১৬:০৫
আরও খবর

হোম-অফিসের বিরুদ্ধে এসাইলামপ্রার্থীর মামলা; জাতিসংঘের উদ্বেগ

15315_GettyImages-2242428414.jpg

যুক্তরাজ্যে শরণার্থীদের জন্য প্রযোজ্য নতুন নীতির বিরুদ্ধে আইনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন দুই সুদানি আশ্রয়প্রার্থী। তারা সরকারের পরিকল্পিত পরিবর্তনকে বৈষম্যমূলক ও অকার্যকর দাবি করেছেন। এই নীতির মাধ্যমে শরণার্থীদের যুক্তরাজ্যে থাকার অনুমতির মেয়াদ পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে আড়াই বছর করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যা ইতিমধ্যেই দেশ-বিদেশে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

হোম সেক্রেটারি শাবানা মাহমুদ সম্প্রতি ঘোষণা করেন, নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী শরণার্থীদের স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য আগে যেখানে পাঁচ বছর অপেক্ষা করতে হতো, এখন সেখানে তাদের প্রায় ২০ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। অর্থাৎ প্রতি ৩০ মাস পরপর তাদের থাকার অনুমতি নবায়ন করতে হবে, যা প্রশাসনিক জটিলতা ও অনিশ্চয়তা বাড়াবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রথম আইনি চ্যালেঞ্জ হিসেবে সামনে আসা দুই সুদানি আশ্রয়প্রার্থী জানান, তারা নিজ দেশে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং এখনো মানসিক আঘাত বহন করছেন। তাদের দাবি, এই নীতি শরণার্থীদের জন্য বাড়তি মানসিক চাপ সৃষ্টি করবে এবং বাস্তবে এটি নতুন আশ্রয়প্রার্থীদের নিরুৎসাহিত করতেও সক্ষম হবে না। উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২৫ সালে সুদান থেকে আসা আশ্রয়প্রার্থীদের ৯৬ শতাংশই সুরক্ষা পেয়েছেন।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই পরিবর্তনের মাধ্যমে অভিবাসন ব্যবস্থায় নিয়ন্ত্রণ আনা সম্ভব হবে। তবে মাহমুদ তার এক নীতিপত্রে এমনও মন্তব্য করেন যে, অনেক “প্রকৃত শরণার্থী” ইউরোপজুড়ে বিভিন্ন দেশে ঘুরে সবচেয়ে সুবিধাজনক আশ্রয়ের খোঁজ করেন। এই মন্তব্যও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

এদিকে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর এই নীতির কঠোর সমালোচনা করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, শরণার্থীদের থাকার মেয়াদ কমিয়ে দিলে তাদের নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও সমাজে একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। একই সঙ্গে এটি প্রশাসনিক ব্যয় ও জটিলতা বাড়াবে।

নতুন পরিকল্পনায় শরণার্থীদের পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাজ্যে আনার ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। এখন থেকে স্বামী-স্ত্রী বা অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের আনতে হলে আবেদনকারীকে আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ দিতে হবে।

আইনজীবী মানিনি মেনন, যিনি এই দুই সুদানি আশ্রয়প্রার্থীর পক্ষে লড়ছেন, বলেন এই নীতি শরণার্থীদের জন্য ক্ষতিকর এবং বৈষম্যমূলক। তার মতে, ডেনমার্ক ও অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশে অস্থায়ী সুরক্ষা দেওয়ার অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, এতে শরণার্থীদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটে এবং তারা আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, একবার শরণার্থী মর্যাদা দেওয়া হলে তা খুব কম ক্ষেত্রেই প্রত্যাহার করা হয়, কারণ যেসব কারণে তারা নিজ দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়, সেসব পরিস্থিতি দীর্ঘ সময় ধরে বহাল থাকে। ফলে নতুন এই নীতি শরণার্থীদের জীবনে অনিশ্চয়তা বাড়াবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

এই বিতর্কিত নীতির বিষয়ে হোম অফিসের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

সর্বাধিক পঠিত


আরও খবর
ভিডিও