
যুক্তরাজ্যে ভোট দিতে এখন ছবি-সংবলিত পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক। ২০টিরও বেশি ধরনের পরিচয়পত্র গ্রহণ করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স, পুরোনো বা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বাস পাস, Oyster 60+ কার্ড এবং Armed Forces Veteran Card। মেয়াদোত্তীর্ণ ছবি-সংবলিত পরিচয়পত্রও ব্যবহার করা যাবে, যদি ছবির সঙ্গে ভোটারের বর্তমান চেহারার মিল থাকে।
ভোটকেন্দ্রে কেউ মুখ ঢেকে রাখলে—যেমন চিকিৎসাজনিত মাস্ক বা ধর্মীয় কারণে ব্যবহৃত নেকাব—তাকে সাময়িকভাবে মুখ দেখাতে বলা হতে পারে, যাতে কর্মকর্তারা পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেন।
সরকার জানিয়েছে, পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনে ভোটাররা নিজেদের নামযুক্ত যুক্তরাজ্যে ইস্যুকৃত ব্যাংক কার্ড দিয়েও পরিচয় প্রমাণ করতে পারবেন। পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন ২০২৯ সালের মধ্যে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা, তবে তার আগেও হতে পারে।
গ্রহণযোগ্য পরিচয়পত্র না থাকলে কী করবেন?
ইংল্যান্ডে যাদের পরিচয়পত্র হারিয়ে গেছে বা চুরি হয়েছে, তারা ভোটের দিন বিকেল ৫টা পর্যন্ত জরুরি প্রক্সি ভোটের আবেদন করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে ভোটার ও তার মনোনীত প্রতিনিধি—উভয়েরই আগে থেকে ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত থাকতে হবে এবং প্রতিনিধির বৈধ পরিচয়পত্র থাকতে হবে।
ভবিষ্যৎ নির্বাচনের জন্য কাগজের ড্রাইভিং লাইসেন্স বদলে ছবি-সংবলিত কার্ড নেওয়া যেতে পারে। এছাড়া ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সী, প্রতিবন্ধী, অন্ধ বা আংশিক দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীরা ছবি-সংবলিত ভ্রমণ পাসের জন্য আবেদন করতে পারবেন।
সঠিক পরিচয়পত্র না থাকলে বা ছবির সঙ্গে বর্তমান চেহারার মিল না থাকলে ভোটাররা বিনামূল্যে “ভোটার অথরিটি সার্টিফিকেট”-এর জন্য আবেদন করতে পারেন।
পরিচয়পত্র ছাড়া গেলে কি ভোট দিতে পারবেন না?
ভোটকেন্দ্রে সঠিক পরিচয়পত্র ছাড়া গেলে ভোটারকে বৈধ পরিচয়পত্র নিয়ে আবার আসতে বলা হবে। কেউ যদি মনে করেন তার পরিচয়পত্র ভুলভাবে বাতিল করা হয়েছে, তাহলে তিনি ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করতে পারবেন। তাতেও সমাধান না হলে স্থানীয় কাউন্সিলের নির্বাচনী কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা যাবে।
নির্বাচনী কর্মীরা কতজন ভোটার পরিচয়পত্রের কারণে ফেরত গেছেন এবং পরে বৈধ পরিচয়পত্র নিয়ে ফিরে এসেছেন—সেসব তথ্য নথিভুক্ত করেন।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, মে ২০২৫ সালের স্থানীয় নির্বাচনে ভোট দিতে আসা ব্যক্তিদের মধ্যে ০.৪ শতাংশ ভোটার পরিচয়পত্র সংক্রান্ত কারণে ফেরত গিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে ৭১ শতাংশ পরে আবার এসে ভোট দেন।
কেন ছবি-সংবলিত পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক করা হয়েছে?
যুক্তরাজ্যের সব সাধারণ নির্বাচন ও পার্লামেন্টারি উপনির্বাচনে সরাসরি ভোট দিতে এখন ছবি-সংবলিত পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক। ইংল্যান্ড ও উত্তর আয়ারল্যান্ডে অন্যান্য নির্বাচনেও এই নিয়ম প্রযোজ্য। উত্তর আয়ারল্যান্ডে ২০০২ সাল থেকেই ভোটার পরিচয়পত্র চালু রয়েছে।
তবে স্কটিশ পার্লামেন্ট, Senedd Cymru এবং স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসের কাউন্সিল নির্বাচনে সরাসরি ভোট দিতে এখনো পরিচয়পত্র প্রয়োজন হয় না।
২০২৩ সালের মে মাসে পুরো যুক্তরাজ্যে এই নিয়ম সম্প্রসারণের সময় সরকার বলেছিল, এর মাধ্যমে ভোট জালিয়াতি রোধ করা সম্ভব হবে, যদিও দেশটিতে এ ধরনের ঘটনা তুলনামূলকভাবে বিরল।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, গত পাঁচ বছরে বড় ধরনের নির্বাচনী জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ১,৩১৮টি নির্বাচনী জালিয়াতির অভিযোগ পুলিশের কাছে জমা পড়ে। এর মধ্যে মাত্র আটটিতে দণ্ড হয়েছে এবং তিনটি ক্ষেত্রে পুলিশ সতর্কবার্তা দিয়েছে।
এদিকে নির্বাচন কমিশন সরকারের কাছে আহ্বান জানিয়েছে, যাতে আরেকজন নিবন্ধিত ভোটার পরিচয় নিশ্চিত করলে পরিচয়পত্র ছাড়াই ভোট দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়।