যুক্তরাজ্য

৯ মে ২০২৬, ১০:০৫
আরও খবর

১৪ বছরের নেতৃত্বের পর বার্মিংহাম সিটি কাউন্সিলের নিয়ন্ত্রণ হারালো লেবার পার্টি

15351_IMG_2652.jpeg

ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর বার্মিংহামে ১৪ বছরের লেবার পার্টির নেতৃত্বের অবসান ঘটেছে। স্থানীয় নির্বাচনে রিফর্ম ইউকে, গ্রিন পার্টি এবং গাজাপন্থী স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বড় ধরনের সাফল্যের ফলে শহরের রাজনৈতিক চিত্রে বড় পরিবর্তন এসেছে।

এখন পর্যন্ত বার্মিংহাম সিটি কাউন্সিলে কোনো দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। ইউরোপের অন্যতম বৃহৎ এই স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্বাচনী ফলাফল ইংল্যান্ডজুড়ে রাজনৈতিক বিভক্তির প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইংল্যান্ডের বিভিন্ন এলাকায় লেবার পার্টি শত শত কাউন্সিল আসন হারিয়েছে। এর বড় অংশ গেছে নাইজেল ফারাজের নেতৃত্বাধীন রিফর্ম ইউকের দখলে। দলটি মিডল্যান্ডস ও উত্তরাঞ্চলে বড় অগ্রগতি অর্জন করেছে এবং দক্ষিণাঞ্চলেও কনজারভেটিভদের কাছ থেকে আসন ছিনিয়ে নিয়েছে।

বার্মিংহামে এবার ১০১টি কাউন্সিল আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ধারণা করা হচ্ছিল, শহরটিতে লেবার বড় ধরনের ধাক্কা খাবে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বার্মিংহাম সিটি কাউন্সিল নানা সংকটে জর্জরিত ছিল। ২০২৩ সালে দেউলিয়া ঘোষণা, স্থানীয় সেবায় কাটছাঁট এবং চলমান ময়লা সংগ্রহ ধর্মঘটের কারণে শহরের রাস্তায় আবর্জনার স্তূপ জমে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও শিরোনাম হয়।

৪.৪ বিলিয়ন পাউন্ড বাজেটের এই স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে ৩০টির বেশি লেবার কাউন্সিলর হারিয়েছে। অন্যদিকে রিফর্ম ইউকে পেয়েছে ২১টি এবং গ্রিন পার্টি ১১টি নতুন আসন।

বিদায়ী লেবার নেতা জন কটন বলেন, ভোটারদের বার্তাকে গুরুত্ব দিয়ে শুনতে হবে দলকে। তিনি বলেন,
“মধ্যমেয়াদি নির্বাচন ক্ষমতাসীন দলের জন্য সবসময় কঠিন হয়। সরকার যে ভালো কাজ করছে, তা আরও সুসংগঠিতভাবে জনগণের কাছে তুলে ধরতে হবে।”

নিজের দায়িত্বকাল নিয়ে কটন বলেন, কাউন্সিলের আর্থিক ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা এবং দীর্ঘদিনের সমান বেতনসংক্রান্ত সমস্যার সমাধানে তাকে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।

২৫ বছর ধরে বার্মিংহামের কাউন্সিলর থাকা কটন সতর্ক করে বলেন, রিফর্ম, গ্রিন ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের উত্থানে শহরটি “অকার্যকরভাবে পরিচালিত” হওয়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এর আগে এক লিবারেল ডেমোক্র্যাট কাউন্সিলর, যিনি রিফর্মের কাছে নিজের আসন হারান, পরিস্থিতিকে “একটি বিশৃঙ্খল জট” বলে মন্তব্য করেছিলেন।

অ্যালাম রক ওয়ার্ড থেকে নির্বাচিত স্বতন্ত্র প্রার্থী নোশিন খালিদ বলেন,
“মানুষ লেবার পার্টিতে বিরক্ত হয়ে গেছে। অনেকের কাছে এটি আর রাজনৈতিক আশ্রয়স্থল নয়।”

তিনি অভিযোগ করেন, বার্মিংহামের দেউলিয়াত্ব এবং যুবসেবায় কাটছাঁটের মাধ্যমে লেবার শহরের অনেক ক্ষতি করেছে।

শহর পরিচালনা আরও অচল হয়ে পড়বে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে খালিদ বলেন,
“বার্মিংহাম অনেক দিন ধরেই কার্যকরভাবে পরিচালিত হয়নি। এখন তৃণমূলভিত্তিক প্রতিনিধিরা আসায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে না, বরং উন্নতির সুযোগ আছে।”

কাউন্সিলে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা মোট ১০টি আসন পেয়েছেন, যাদের কয়েকজন গাজা ইস্যুকে প্রচারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে ব্যবহার করেছেন। জেরেমি করবিন সমর্থিত “ইওর পার্টি”-র সমর্থন পাওয়া খালিদ স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তিনি রিফর্ম ইউকের সঙ্গে কাজ করবেন না। তার ভাষায়, দলটি “বিভাজন সৃষ্টি করে”।

এলজিবিটিকিউ+ ও গাজা ইস্যুতে কিছু স্বতন্ত্র প্রার্থীর অবস্থান নিয়ে সমালোচনার বিষয়ে খালিদ বলেন,
“আমি অন্য প্রার্থীদের হয়ে কথা বলতে পারি না। তবে আমরা বিশ্বাস করি, প্রত্যেক মানুষের মর্যাদা ও সম্মানের সঙ্গে বাঁচার অধিকার আছে এবং সমাজে সবার জায়গা রয়েছে।”

তিনি জানান, নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে শিশুদারিদ্র্য, অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপ এবং যুবকেন্দ্রের অভাবের মতো বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেবেন।

সর্বাধিক পঠিত


আরও খবর
ভিডিও