যুক্তরাজ্য

১০ মে ২০২৬, ২১:০৫
আরও খবর

লন্ডনে ইহুদিবিদ্বেষের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে হাজারো মানুষের সমাবেশ

15371_IMG_2760.jpeg

লন্ডনের ডাউনিং স্ট্রিটের বাইরে রবিবার হাজারো মানুষ ইহুদিবিদ্বেষের বিরুদ্ধে এক বিক্ষোভ সমাবেশে অংশ নেন। প্রধান ইহুদি সম্প্রদায়ের সংগঠনগুলোর নেতৃত্বে আয়োজিত এই সমাবেশে বক্তারা দাবি করেন, দেশে বর্তমানে “ইহুদিবিদ্বেষের মহামারি” ছড়িয়ে পড়েছে।

গত কয়েক মাসে বিভিন্ন সিনাগগ ও ইহুদি স্থাপনায় একের পর এক হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে দুই সপ্তাহ আগে উত্তর লন্ডনের গোল্ডার্স গ্রিনে দুই ইহুদি ব্যক্তিকে ছুরিকাঘাতের ঘটনাও রয়েছে।

সমাবেশের আগে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন ধর্মীয় নেতা একটি খোলা চিঠিতে স্বাক্ষর করেন। সেখানে বলা হয়, “ইহুদিবিদ্বেষ শুধু ইহুদিদের সমস্যা নয়, এটি আমাদের সবার সমাধান করার বিষয়।”

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া জোই কর্সনার বিবিসিকে বলেন,
“আমরা চাই না ইহুদি হিসেবে ভয় নিয়ে বাঁচতে। এখন মনে হয় নিজের পরিচয় লুকিয়ে রাখতে হয়, যেন এটা লজ্জার কিছু।”

অন্যদিকে, অ-ইহুদি অংশগ্রহণকারী মেরি রেন্ডল জানান, তিনি তার স্বামীর ইহুদি পরিবারের প্রতি সংহতি জানাতে এসেছেন। তিনি বলেন,
“আমার সৎ-মেয়েকে নিজের স্টার অব ডেভিড লুকিয়ে রাখতে হয়—এটা আমি ঘৃণা করি। আমরা তার নিরাপত্তা নিয়ে ভীত।”

প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের উপস্থিতিতে ধর্মীয় নেতা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন। তবে সরকারের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগে ক্ষোভও প্রকাশ পায়।

ব্রিটিশ কর্ম ও পেনশনমন্ত্রী প্যাট ম্যাকফ্যাডেন যখন বলেন, “আমি আপনাদের সঙ্গে আছি, আমি ইহুদিবিদ্বেষের বিরুদ্ধে লড়তে চাই,” তখন তাকে দুয়ো ও বাধার মুখে পড়তে হয়।

অন্যদিকে কনজারভেটিভ নেতা কেমি ব্যাডেনক বলেন,
“আমি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম যে আমি আপনাদের পাশে থাকব,”
এবং তিনি জোর দিয়ে বলেন, “ব্রিটেন সবসময় ইহুদিদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়স্থল হওয়া উচিত।”

রিফর্ম ইউকের উপনেতা রিচার্ড টাইসও করতালি পান। তবে লিবারেল ডেমোক্র্যাট নেতা স্যার এড ডেভি শুরুতে কটূক্তির শিকার হলেও পরে পরিস্থিতি শান্ত হয়, যখন তাকে ইহুদি সম্প্রদায়ের বন্ধু হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়।

প্রধান রাব্বি স্যার এফ্রাইম মিরভিস বলেন, উগ্রবাদ ও ঘৃণার বিস্তার পুরো সমাজের জন্য হুমকি এবং এর মোকাবিলা করা “জাতীয় দায়িত্ব”।

সম্প্রতি কয়েকটি অগ্নিসংযোগ হামলায় সম্ভাব্য ইরানি সংশ্লিষ্টতার তদন্ত চলছে উল্লেখ করে তিনি যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কার এবং ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (IRGC) নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানান।

মেট্রোপলিটন পুলিশ জানায়, সমাবেশে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে ত্রিশোর্ধ্ব এক ব্যক্তির কাছে তল্লাশি চৌকিতে ছুরি পাওয়া যায়। এছাড়া ষাটোর্ধ্ব আরও দুই ব্যক্তিকে ব্যাটন বহনের সন্দেহে আটক করা হয়।

খোলা চিঠিতে খ্রিস্টান, মুসলিম, হিন্দু, শিখ ও জরথুস্ত্রী সম্প্রদায়ের নেতারাও স্বাক্ষর করেন। চিঠিতে বলা হয়:
“এই দেশ আপনাদেরও, যেমন আমাদের সবার।”

ব্যবসা, ক্রীড়া ও গণমাধ্যমের শীর্ষ ব্যক্তিরাও এতে স্বাক্ষর করেন। চিঠিতে সাম্প্রতিক হামলাগুলোর উল্লেখ করে বলা হয়,
“ইহুদিদের রাস্তায় এলোমেলোভাবে ছুরিকাঘাত করা, সিনাগগ রক্ষায় নিহত হওয়া কিংবা ইহুদি অবকাঠামোয় অগ্নিসংযোগ—এসব যেন অন্য এক অন্ধকার সময়ের দুঃস্বপ্ন।”

সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর মধ্যে রয়েছে:

* গত অক্টোবরে ম্যানচেস্টারের একটি সিনাগগের বাইরে গাড়ি চাপা ও ছুরিকাঘাত হামলায় দুই ইহুদি নিহত হন এবং তিনজন গুরুতর আহত হন।
* মার্চে গোল্ডার্স গ্রিনের একটি সিনাগগের পার্কিংয়ে চারটি ইহুদি দাতব্য সংস্থার অ্যাম্বুলেন্সে আগুন দেওয়া হয়।
* ফিঞ্চলি রিফর্ম সিনাগগ ও কেন্টন ইউনাইটেড সিনাগগেও হামলার ঘটনা ঘটে।
* গোল্ডার্স গ্রিনে শ্লইমে র্যান্ড (৩৪) ও মোশে শাইন (৭৬)-এর ওপর হামলার ঘটনায় এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে।
* সালফোর্ডে এক ব্যক্তি ইহুদিদের গলা কাটার হুমকি দিয়ে দোষ স্বীকার করেছেন।
* উত্তর-পূর্ব লন্ডনে এক ইহুদি ব্যক্তিকে অপমান করার ভিডিও ধারণ করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানোর ঘটনায় দুই ব্যক্তি দোষ স্বীকার করেছেন।
* উত্তর লন্ডনে ইহুদি শিশুদের হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে আরেকজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

এদিকে, ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিসের প্রধান জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক ইহুদিবিদ্বেষমূলক ঘটনার পর ঘৃণাজনিত অপরাধের মামলাগুলো দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ায় নেওয়া হবে।

সর্বাধিক পঠিত


আরও খবর
ভিডিও