যুক্তরাজ্য

১২ মে ২০২৬, ১২:০৫
আরও খবর

কিয়ার স্টারমারকে ঘিরে লেবারে তীব্র নেতৃত্ব সংকট: এক নজরে পুরো পরিস্থিতি

15394__123172409_2a517859-5c11-478c-b849-e6fc3282a6b0.jpg

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার বর্তমানে নিজের রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম বড় সংকটের মুখোমুখি। লেবার পার্টির ভেতরে ক্রমবর্ধমান অসন্তোষ, মন্ত্রিসভার অভ্যন্তরীণ চাপ এবং সাম্প্রতিক স্থানীয় নির্বাচনে ভরাডুবির পর তাকে পদত্যাগ কিংবা সরে দাঁড়ানোর সময়সূচি ঘোষণা করার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

মঙ্গলবার ডাউনিং স্ট্রিটে অনুষ্ঠিত সাপ্তাহিক মন্ত্রিসভা বৈঠকে স্টারমার স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে তিনি প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়ার কোনো পরিকল্পনা করছেন না। একই সঙ্গে সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের উদ্দেশে তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, কেউ যদি নেতৃত্বে পরিবর্তন চান, তবে আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে চ্যালেঞ্জ করতে হবে। লেবার পার্টির নিয়ম অনুযায়ী, নেতৃত্বের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক চ্যালেঞ্জ আনতে হলে অন্তত ৮১ জন এমপির সমর্থন প্রয়োজন, যা দলটির সংসদীয় সদস্যদের ২০ শতাংশ।

তবে দলের অভ্যন্তরে অসন্তোষ থেমে নেই। হোম সেক্রেটারি শাবানা মাহমুদসহ একাধিক জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী স্টারমারকে তার বিদায়ের সম্ভাব্য সময়সূচি নির্ধারণের আহ্বান জানিয়েছেন বলে জানা গেছে। এদিকে কমিউনিটিজ মিনিস্টার মিয়াত্তা ফাহনবুলেহ সরকারের প্রথম সদস্য হিসেবে পদত্যাগ করেছেন, যা সংকটকে আরও গভীর করেছে।

মন্ত্রিসভা বৈঠকের পর স্টারমারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হাউজিং সেক্রেটারি স্টিভ রিড এবং ওয়ার্ক অ্যান্ড পেনশনস সেক্রেটারি প্যাট ম্যাকফ্যাডেন সাংবাদিকদের জানান, তারা এখনও প্রধানমন্ত্রীর প্রতি সমর্থন অব্যাহত রেখেছেন। তবে সম্ভাব্য নেতৃত্ব প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আলোচিত স্বাস্থ্য সচিব ওয়েস স্ট্রিটিং এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। অন্যদিকে ফরেন অফিস মন্ত্রী জেনি চ্যাপম্যান স্বীকার করেছেন যে স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে দলের মধ্যে “আলোচনা চলছে”, যদিও মন্ত্রিসভার বৈঠকে কেউ সরাসরি তাকে চ্যালেঞ্জ করেননি।

লেবার পার্টির প্রায় ৮০ জন এমপি ইতোমধ্যে প্রকাশ্যে স্টারমারের পদত্যাগ অথবা সরে দাঁড়ানোর সময়সূচি ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে স্বাস্থ্য সচিব ওয়েস স্ট্রিটিং এবং সাবেক ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেইনারের নাম আলোচনায় রয়েছে। এছাড়া গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহামের পক্ষেও সমর্থন বাড়ছে, যদিও নেতৃত্বের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অংশ নিতে হলে তাকে আগে সংসদ সদস্য হতে হবে।

সংকটের সূচনা হয় গত সপ্তাহের স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টির ভয়াবহ ফলাফলের পর। ইংল্যান্ডের স্থানীয় নির্বাচনে দলটি প্রায় দেড় হাজার কাউন্সিলর হারায়। একই সঙ্গে ওয়েলসে ক্ষমতা হারায় এবং স্কটিশ পার্লামেন্ট নির্বাচনে ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ ফল করে। নির্বাচনের ফলাফলকে স্টারমারের নেতৃত্বের ওপর গণরায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে সোমবার স্টারমার একটি জরুরি ভাষণ দেন। তবে সেই পদক্ষেপ উল্টো পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। ভাষণের পরপরই আরও বেশি সংখ্যক এমপি তার পদত্যাগ দাবি করেন। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত হিসেবে পিটার ম্যান্ডেলসনকে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও দলের ভেতরে প্রশ্ন উঠেছে। অনেক এমপি মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত স্টারমারের রাজনৈতিক বিচক্ষণতা নিয়ে নতুন করে সন্দেহ তৈরি করেছে।

সব মিলিয়ে লেবার পার্টির ভেতরে এখন অনিশ্চয়তা ও নেতৃত্ব সংকট স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। যদিও স্টারমার আপাতত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার সংকেত দিয়েছেন, তবুও তার নেতৃত্ব টিকিয়ে রাখা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।

সর্বাধিক পঠিত


আরও খবর
ভিডিও