যুক্তরাজ্য

১২ মে ২০২৬, ১৯:০৫
আরও খবর

"দেশকে ধ্বংস করছেন" - স্টারমারের সমালোচনায় ট্রাম্প!

15401_TELEMMGLPICT000456456541_17687311397500_trans_NvBQzQNjv4BqpVlberWd9EgFPZtcLiMQf0Rf_Wk3V23H2268P_XkPxc Medium.jpeg

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের জ্বালানি ও অভিবাসন নীতির তীব্র সমালোচনা করেছেন। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প দাবি করেন, স্টারমার অতিরিক্তভাবে উইন্ড এনার্জির ওপর নির্ভর করে যুক্তরাজ্যকে ক্ষতির মুখে ঠেলে দিচ্ছেন।

চীনে রওনা হওয়ার আগে ট্রাম্প বলেন, “আমি শুরু থেকেই তাকে বলেছি, নর্থ সিতে থাকা তেল সম্পদ ব্যবহার করুন। বিশ্বের অন্যতম সেরা তেলের উৎস সেখানে রয়েছে, অথচ তারা তা ব্যবহার করছে না। তাদের ব্যবহার করতে দেওয়া হচ্ছে না।”

তিনি আরও বলেন, “নর্থ সির তেল উত্তোলন শুরু করুন এবং অভিবাসন ইস্যুতে কঠোর হন। পুরো ইউরোপই ব্যাপক অভিবাসনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”

স্টারমারের পদত্যাগ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প সরাসরি কোনো মন্তব্য না করে বলেন, “এটা সম্পূর্ণ তার সিদ্ধান্ত। তবে আমি তাকে প্রথম দিন থেকেই বলে আসছি, জ্বালানি নীতির কারণে তিনি বড় ক্ষতির মুখে পড়ছেন।”

এ সময় ট্রাম্প কটাক্ষ করে বলেন, “আপনারা উইন্ডমিল দিয়ে দেশটাকে ধ্বংস করে ফেলছেন। নর্থ সি খুলে দিন। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জ্বালানি উৎস আপনাদের হাতের কাছেই রয়েছে।”

ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে উইন্ড টারবাইনের বিরোধিতা করে আসছেন। তার মতে, বায়ু বিদ্যুৎ নির্ভরযোগ্য নয়, কারণ বাতাস না থাকলে বিদ্যুৎ উৎপাদনও বন্ধ হয়ে যায়। ট্রাম্প বরাবরই তেল, গ্যাস ও কয়লার মতো প্রচলিত জ্বালানিকে বেশি কার্যকর এবং অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক বলে দাবি করে আসছেন।

উইন্ড টারবাইনের অর্থনৈতিক ব্যয় নিয়েও সমালোচনা করেছেন ট্রাম্প। তার অভিযোগ, এসব প্রকল্পে বিপুল সরকারি ভর্তুকি প্রয়োজন হয় এবং এগুলো তুলনামূলকভাবে ব্যয়বহুল। পাশাপাশি পরিবেশ ও সৌন্দর্যগত বিষয়ও তুলে ধরেন তিনি। বিশেষ করে স্কটল্যান্ডে তার গলফ রিসোর্টের কাছে অফশোর উইন্ড ফার্ম নির্মাণের বিরোধিতা করেছিলেন ট্রাম্প। সে সময় তিনি বলেছিলেন, সমুদ্রের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নষ্ট করছে এসব টারবাইন এবং এতে পর্যটন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

এ ছাড়া ট্রাম্প মাঝে মাঝে দাবি করেছেন, উইন্ড টারবাইন পাখির ক্ষতি করে এবং শব্দদূষণ সৃষ্টি করে। যদিও বিজ্ঞানীদের একাংশ তার এসব বক্তব্যকে অতিরঞ্জিত বা বিতর্কিত বলে মনে করেন।

রাজনৈতিকভাবেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাম্প “এনার্জি ডমিন্যান্স” নীতির সমর্থক। এই নীতির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলোকে নিজেদের তেল ও গ্যাস সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে আসছেন তিনি। অন্যদিকে কিয়ার স্টারমারের সরকার জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো এবং নতুন তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে সীমাবদ্ধতার নীতি অনুসরণ করছে। ফলে দুই নেতার জ্বালানি নীতির মধ্যে স্পষ্ট মতপার্থক্য আবারও সামনে এলো।

সর্বাধিক পঠিত


আরও খবর
ভিডিও