
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বের ওপর আস্থা হারানোর কথা জানিয়ে সরকার থেকে পদত্যাগ করেছেন দেশটির স্বাস্থ্য সচিব ওয়েস স্ট্রিটিং। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক পদত্যাগপত্রে তিনি বলেন, বর্তমান নেতৃত্বে লেবার পার্টি আগামী সাধারণ নির্বাচনে সফল হতে পারবে বলে তিনি আর বিশ্বাস করেন না।
স্ট্রিটিং তার চিঠিতে উল্লেখ করেন, “যেখানে দূরদর্শী নেতৃত্ব প্রয়োজন, সেখানে আমরা শূন্যতা দেখছি। যেখানে দিকনির্দেশনা প্রয়োজন, সেখানে দেখা যাচ্ছে অস্থিরতা।” তিনি আরও বলেন, দলের ভেতরে নতুন নেতৃত্ব নিয়ে “ব্যক্তিকেন্দ্রিক দ্বন্দ্ব নয়, বরং নীতিগত বিতর্ক” হওয়া প্রয়োজন।
এই পদত্যাগকে ব্রিটিশ রাজনীতিতে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, স্ট্রিটিং হলেন স্টারমারের মন্ত্রিসভার প্রথম জ্যেষ্ঠ সদস্য যিনি প্রকাশ্যে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিলেন। স্থানীয় ও আঞ্চলিক নির্বাচনে লেবার পার্টির সাম্প্রতিক ভরাডুবির পর থেকেই স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে দলের ভেতরে অসন্তোষ বাড়ছিল।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, স্ট্রিটিং নিজেও ভবিষ্যতে লেবার পার্টির নেতৃত্বের দৌড়ে নামতে পারেন। যদিও এখন পর্যন্ত তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থিতা ঘোষণা করেননি। দলীয় নিয়ম অনুযায়ী, নেতৃত্ব নির্বাচনে অংশ নিতে একজন প্রার্থীকে লেবার এমপিদের অন্তত ২০ শতাংশের সমর্থন প্রয়োজন।
এদিকে স্টারমারের ঘনিষ্ঠ মহল জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগের কোনো পরিকল্পনা করছেন না এবং তিনি নেতৃত্ব ধরে রাখার লড়াই চালিয়ে যাবেন। তবে ইতোমধ্যে কয়েকজন মন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন এবং বহু লেবার এমপি তাকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পদত্যাগ লেবার পার্টির অভ্যন্তরীণ সংকটকে আরও গভীর করতে পারে এবং আগামী কয়েক সপ্তাহ যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিতে পারে।