
যুক্তরাজ্যের প্লাইমাউথে ভয়াবহ অ্যাসিড হামলার শিকার হয়ে মৃত্যুবরণ করা দুই সন্তানের বাবা ড্যানি কাহালানে হত্যাকাণ্ডে তার সাবেক প্রেমিকা ও একদল গ্যাং সদস্যের বিরুদ্ধে আদালত রায় দিয়েছেন। এই ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
৩৮ বছর বয়সী ড্যানি কাহালানে গত ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ গভীর রাতে নিজ বাসায় নির্মম হামলার শিকার হন। আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ভোররাত প্রায় ৩টা ৫৫ মিনিটে তিনি দরজা খুলতেই তার মুখে ও ঘাড়ে সালফিউরিক অ্যাসিড নিক্ষেপ করা হয়। সে সময় বাড়ির ভেতরে তার ছোট মেয়ে ঘুমিয়ে ছিল।
গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। দীর্ঘ প্রায় তিন মাস ধরে একাধিক অস্ত্রোপচার ও চিকিৎসার পরও শেষ পর্যন্ত গত ৩ মে তিনি মারা যান। তবে মৃত্যুর আগে পুলিশকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়ে যান ড্যানি, যা পরবর্তীতে হামলাকারীদের বিচারের মুখোমুখি করতে সহায়তা করে।
উইনচেস্টার ক্রাউন কোর্টে ড্যানির সাবেক প্রেমিকা ৩৫ বছর বয়সী প্যারিস উইলসনকে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে লন্ডনের রামার্নি বাকাস-সিথোল, আবদুলরশিদ আদেদোজা এবং ইসরায়েল অগাস্টাসকেও দোষী ঘোষণা করা হয়। আদালত জানায়, উইলসন হামলার পরিকল্পনায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন এবং ঘটনাটি অত্যন্ত সুপরিকল্পিত ছিল।
এ মামলায় আরও কয়েকজনকে বিভিন্ন অপরাধে সাজা দেওয়া হয়েছে। জিন মুকুনা নামে ২৪ বছর বয়সী এক যুবককে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ড্যানিকে অপহরণের চেষ্টায় অংশ নেওয়ার দায়ে ৫২ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মাদক সরবরাহের অভিযোগও প্রমাণিত হয় তার বিরুদ্ধে। তার ভাই অ্যারোন মুকুনাকে ১৬ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আদালতে বিচারক মিস জাস্টিস নর্টন বলেন, “এই অপরাধ অত্যন্ত পরিকল্পিত ছিল এবং প্রত্যেককে নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট স্থানে উপস্থিত রাখার জন্য সুসমন্বয় করা হয়েছিল।”
মামলার শুনানিতে প্রসিকিউশন জানায়, ড্যানি কাহালানে একটি মাদক চক্রের সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং তার ওপর প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার পাউন্ড ঋণের চাপ ছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, ‘ফ্রস্ট’ নামে পরিচিত রায়ান কেনেডি নামের এক মাদক চক্রের নেতা এই হামলার নির্দেশ দেন। তিনি থাইল্যান্ড, স্পেন ও দুবাই থেকে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করতেন এবং বর্তমানে দুবাইয়ে অবস্থান করছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রসিকিউটর জো মার্টিন কেসি আদালতকে জানান, ঋণের টাকা ফেরত দিতে দেরি করায় রায়ান কেনেডি ক্ষুব্ধ হয়ে প্রথমে অপহরণের চেষ্টা এবং পরে প্রাণঘাতী অ্যাসিড হামলার পরিকল্পনা করেন। ড্যানি পুলিশকে জানিয়েছিলেন, তার এক সহযোগী টাকা নিয়ে পালিয়ে যাওয়ায় তিনি ঋণের মধ্যে পড়েন এবং কিছু অর্থ জুয়ার মাধ্যমেও হারান।
এদিকে, মামলায় জুড হিল নামের এক নারীকে গাঁজা সরবরাহের দায়ে ৩২ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আদালত জানায়, তিনি যুক্তরাজ্যে থাইল্যান্ড থেকে মাদক সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন।
ড্যানির মৃত্যুর পর তার পরিবার এক বিবৃতিতে জানায়, “ড্যানি ছিলেন একজন অসাধারণ বাবা ও সন্তান। তার মৃত্যু আমাদের পরিবারকে চিরতরে ভেঙে দিয়েছে।”