বাংলাদেশ

অট্রেলিয়ায় পাঠানোর নামে ৬০ লাখ টাকা আত্মসাৎ, গ্রেপ্তারের পর ২ প্রতারকের স্বীকারোক্তি

15484_f24ecc223d7b7667f58632f278bbd337 Medium.jpeg

অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ৬০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আন্তর্জাতিক সাইবার প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গ্রেপ্তারের পর তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৯ মে) পিবিআই সদরদপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। রোববার (১৭ মে) নীলফামারীর সৈয়দপুর থেকে মো. খাইরুল ইসলাম (২৪) ও মো. জাবেদুল ইসলাম (৩৮) নামের দুইজনকে গ্রেপ্তার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পিবিআই।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার শচীন চাকমা জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একটি সংঘবদ্ধ আন্তর্জাতিক প্রতারক চক্র অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ইমো অ্যাপের মাধ্যমে ভুক্তভোগী মোহাম্মদ সামালের সঙ্গে যোগাযোগ করে। অস্ট্রেলিয়ান মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে চক্রটি ২০২৫ সালের ১ নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ১ মার্চ পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে ভুক্তভোগী ও তার আত্মীয়স্বজনের ব্যবহৃত বিকাশ নম্বর থেকে প্রায় ৬০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মোহাম্মদ সামাল বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা কয়েকজনের বিরুদ্ধে সরাইল থানায় গত ১৫ মার্চ একটি মামলা করেন। পরে স্ব-উদ্যোগে মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে পিবিআই।

তিনি বলেন, মামলার এজাহারে উল্লেখিত সন্দেহভাজন বিকাশ নম্বরসমূহের কেওয়াইসি ও লেনদেনের স্টেটমেন্ট পর্যালোচনা করে প্রতারক চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করেন। পরে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় নীলফামারীর সৈয়দপুর থেকে সাইবার ও ভিসা প্রতারকচক্রের মূলহোতা মো. খাইরুল ইসলাম এবং বিকাশ ডিএসও মো. জাবেদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এসপি শচীন বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা মামলার ঘটনায় সাথে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করে। তারা আদালতে স্বেচ্ছায় ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

আসামিদের জবানবন্দি ও পিবিআইয়ের তদন্তে জানা যায়, তারা সংঘবদ্ধ একটি আন্তর্জাতিক সাইবার ও ভিসা প্রতারক চক্রের সক্রিয় সদস্য। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে প্রবাসীদের টার্গেট করে প্রতারণা চালায়।

গ্রেপ্তারকৃত খাইরুল ইসলামকে মূল পলাতক আসামি প্রাণ ইসলাম বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়ে ‘আরিফ মন্ডল’ ছদ্মনামে ভুয়া সফলতার ভিডিও তৈরি করায়। ওই ভিডিও ও পোস্ট ফেসবুকে বুস্ট করে অস্ট্রেলিয়ায় কম খরচে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলা হতো।

অপর আসামি জাবেদুল ইসলাম বিকাশ ডিএসও হিসেবে আত্মসাৎকৃত অর্থ ক্যাশ আউট ও অবৈধ লেনদেন গোপনে পরিচালনায় সহায়তা করে। তারা একই কায়দায় মামলার বাদী ও ভুক্তভোগী সামালের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা আত্নসাৎ করেছে।

সর্বাধিক পঠিত


ভিডিও