
যুক্তরাজ্যে অভিবাসনের হার গত এক বছরে প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে বলে জানিয়েছে দেশটির জাতীয় পরিসংখ্যান দপ্তর (ONS)। নতুন প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ১২ মাসে যুক্তরাজ্যের নেট মাইগ্রেশন দাঁড়িয়েছে আনুমানিক ১ লাখ ৭১ হাজারে, যা আগের বছরের ৩ লাখ ৩১ হাজার থেকে ৪৮ শতাংশ কম।
এই পরিসংখ্যানকে বড় রাজনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখছে ক্ষমতাসীন লেবার সরকার। তারা দাবি করছে, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ও অভিবাসন নীতিতে কঠোর পদক্ষেপের ফলেই এই পতন সম্ভব হয়েছে।
ONS-এর তথ্যে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত এক বছরে প্রায় ৮ লাখ ১৩ হাজার মানুষ দীর্ঘমেয়াদে যুক্তরাজ্যে এসেছে, আর দেশ ছেড়েছে প্রায় ৬ লাখ ৪২ হাজার মানুষ। বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের দেশগুলো থেকে কাজের উদ্দেশ্যে আগমন কমে যাওয়াই নেট মাইগ্রেশন কমার প্রধান কারণ।
একই সঙ্গে আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যাও কমেছে। ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত ১২ মাসে আশ্রয় আবেদনকারীর সংখ্যা ছিল ২০ হাজার ৮৮৫, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১২ শতাংশ কম।
হোম অফিসের তথ্য অনুযায়ী, আশ্রয়প্রার্থীদের অস্থায়ীভাবে হোটেলে রাখার সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। মার্চ ২০২৬ শেষে এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার ৮৮৫-এ, যা আগের বছরের তুলনায় ৩৫ শতাংশ কম। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের তুলনায় প্রায় ১০ হাজার কম মানুষ এখন হোটেলে অবস্থান করছে।
এর আগে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কনজারভেটিভ সরকারের আমলে আশ্রয় আবেদনকারীর সংখ্যা সর্বোচ্চ ৫৬ হাজারে পৌঁছেছিল।
লেবার সরকার বলছে, এই পরিবর্তন প্রমাণ করছে যে তারা সীমান্তে “শৃঙ্খলা ও নিয়ন্ত্রণ” ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম X-এ লিখেছেন, “মাত্র তিন বছরে নেট মাইগ্রেশন ৮২ শতাংশ কমেছে। যারা এই দেশে অবদান রাখতে চায় এবং ভালো জীবন গড়তে চায়, তাদের আমরা স্বাগত জানাই। তবে সীমান্তে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা জরুরি।”
তিনি আরও জানান, সরকার নতুন একটি “দক্ষতাভিত্তিক অভিবাসন ব্যবস্থা” চালু করতে যাচ্ছে, যার মাধ্যমে কম দক্ষ বিদেশি শ্রমিকের ওপর যুক্তরাজ্যের নির্ভরতা কমানো হবে।
অন্যদিকে, এই পরিসংখ্যান প্রকাশের পর অভিবাসন ইস্যুতে কড়া অবস্থান নেওয়া ডানপন্থী দল Reform UK-এর বক্তব্য নিয়েও নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। সমালোচকদের দাবি, দলটি দীর্ঘদিন ধরে “অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে” বলে যে প্রচার চালিয়ে আসছিল, নতুন তথ্য তার বিপরীত চিত্র তুলে ধরেছে।