যুক্তরাজ্য

২২ মে ২০২৬, ১০:০৫
আরও খবর

যুক্তরাজ্যে রেকর্ড উচ্চতায় মেলানোমা ত্বক ক্যানসার

15519_IMG_3692.jpeg

যুক্তরাজ্যে মেলানোমা ধরনের ত্বক ক্যানসারের রোগীর সংখ্যা রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে নতুন এক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিরিক্ত সূর্যালোকের সংস্পর্শ, ট্যানিং সংস্কৃতির বিস্তার এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে আগামী বছরগুলোতে পরিস্থিতি আরও গুরুতর হতে পারে।

বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বর্তমানে যুক্তরাজ্যে প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক মানুষ নতুন করে মেলানোমায় আক্রান্ত হচ্ছেন। গবেষকরা জানিয়েছেন, গত এক দশকে রোগীর সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে এবং এখন তা ইতিহাসের সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছে। বিশেষ করে বয়স্ক জনগোষ্ঠীর মধ্যে আক্রান্তের হার বেশি হলেও তরুণদের মধ্যেও এ রোগের প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, মেলানোমা হলো ত্বকের সবচেয়ে বিপজ্জনক ধরনের ক্যানসার। এটি ত্বকের রঙ উৎপাদনকারী কোষ ‘মেলানোসাইট’-এ তৈরি হয় এবং দ্রুত শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়তে পারে। সময়মতো শনাক্ত করা না গেলে এটি প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিবেগুনি বা UV রশ্মির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব মেলানোমার প্রধান কারণ। দীর্ঘ সময় রোদে থাকা, বারবার সানবার্ন হওয়া এবং কৃত্রিম ট্যানিং বেড ব্যবহার করার ফলে ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। এছাড়া বিদেশে উষ্ণ আবহাওয়ায় ছুটি কাটানোর সময় পর্যাপ্ত সুরক্ষা না নেওয়াও বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, যাদের ত্বক ফর্সা, শরীরে অনেক তিল রয়েছে অথবা পরিবারে ত্বক ক্যানসারের ইতিহাস আছে, তারা তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা ত্বকে নতুন তিল দেখা দেওয়া, পুরনো তিলের আকার বা রঙ পরিবর্তন, চুলকানি কিংবা রক্তপাতের মতো লক্ষণকে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞরা “ABCDE” পদ্ধতিতে ত্বকের তিল পর্যবেক্ষণের কথা বলছেন। এর মধ্যে রয়েছে তিলের অসম আকৃতি, অস্পষ্ট কিনারা, রঙের পরিবর্তন, আকার বৃদ্ধি এবং সময়ের সঙ্গে পরিবর্তন হওয়া। এ ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

চিকিৎসকরা বলছেন, প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা গেলে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মেলানোমা সফলভাবে চিকিৎসা করা সম্ভব। তবে দেরিতে শনাক্ত হলে ক্যানসার শরীরের অন্যান্য অঙ্গে ছড়িয়ে পড়তে পারে, তখন ইমিউনোথেরাপি, রেডিওথেরাপি বা অন্যান্য জটিল চিকিৎসার প্রয়োজন হয়।

রোগের বাড়তি ঝুঁকি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জনগণকে কিছু সতর্কতা মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে উচ্চমাত্রার SPF সানস্ক্রিন ব্যবহার, দুপুরের তীব্র রোদ এড়িয়ে চলা, শরীর ঢেকে রাখে এমন পোশাক পরা এবং ট্যানিং বেড ব্যবহার থেকে বিরত থাকা।

বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, সচেতনতা বৃদ্ধি ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার না করা হলে আগামী বছরগুলোতে যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর আরও চাপ তৈরি হতে পারে। তাই ত্বক ক্যানসার প্রতিরোধে এখনই কার্যকর জনসচেতনতামূলক পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।


 

সর্বাধিক পঠিত


আরও খবর
ভিডিও