যুক্তরাজ্য

২৯ মে ২০২৬, ১৬:০৫
আরও খবর

যুক্তরাজ্যে লাখো মানুষের ব্যবহৃত 'হে ফিভারের' ওষুধে বাড়তে পারে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি

15583_Thumbnail-16~9-(4).jpg

যুক্তরাজ্যে হে ফিভার বা মৌসুমি অ্যালার্জির প্রকোপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লাখো মানুষ প্রতিদিন পরিচিত অ্যালার্জির ওষুধের ওপর নির্ভর করছেন। তবে বহুল ব্যবহৃত একটি ওষুধ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে নির্দিষ্ট ধরনের অ্যান্টিহিস্টামিন গ্রহণ করলে ভবিষ্যতে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

আলোচনায় থাকা ওষুধটি হলো ‘বেনাড্রিল’, যা যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন ফার্মেসি ও সুপারমার্কেটে সহজলভ্য। সাধারণত হে ফিভার, অ্যালার্জি এবং পোকামাকড়ের কামড়ের উপসর্গ কমাতে এটি ব্যবহার করা হয়। তবে গবেষকরা বলছেন, এই ওষুধের কিছু উপাদান দীর্ঘমেয়াদে মস্তিষ্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

এনএইচএসের তথ্য অনুযায়ী, কিছু অ্যান্টিহিস্টামিন ঘুম ঘুম ভাব, মুখ শুকিয়ে যাওয়া, মাথা ঘোরা এবং মনোযোগে সমস্যা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে পুরোনো ধরনের অ্যান্টিহিস্টামিনে থাকা অ্যান্টিকোলিনার্জিক উপাদান নিয়ে উদ্বেগ বেশি। এই উপাদান শরীরে অ্যাসিটাইলকোলিন নামের একটি রাসায়নিকের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করে, যা স্মৃতি ও শেখার সঙ্গে সম্পর্কিত।

যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি হওয়া অনেক বেনাড্রিল পণ্যে ডিফেনহাইড্রামিন নামের উপাদান থাকে। অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের কিছু বেনাড্রিল পণ্যে অ্যাক্রিভাস্টিন বা সেটিরিজিন ব্যবহার করা হয়, যা পণ্যের ধরন অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে।

হার্ভার্ড হেলথের উদ্ধৃত এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা তিন বছর বা তার বেশি সময় ধরে শক্তিশালী অ্যান্টিকোলিনার্জিক ওষুধ ব্যবহার করেছেন, তাদের মধ্যে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি অন্যদের তুলনায় ৫৪ শতাংশ বেশি ছিল। ‘জামা ইন্টারনাল মেডিসিন’ সাময়িকীতে প্রকাশিত ওই গবেষণায় ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রায় ৩ হাজার ৫০০ জনের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়।

গবেষকরা জানিয়েছেন, ডিফেনহাইড্রামিনসহ কিছু ওষুধের সঙ্গে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকির সম্পর্ক পাওয়া গেলেও এটি সরাসরি রোগের কারণ প্রমাণ করে না। তবে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহার নিয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

এনএইচএস আরও জানিয়েছে, বয়স্ক ব্যক্তিরা অ্যান্টিহিস্টামিনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় বেশি সংবেদনশীল হতে পারেন। বিশেষ করে বিভ্রান্তি, অতিরিক্ত ঘুম ঘুম ভাব এবং স্মৃতিজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে। এছাড়া কিছু ওষুধ গ্লুকোমা বা মূত্রধারণজনিত সমস্যার মতো বিদ্যমান শারীরিক অবস্থাও জটিল করে তুলতে পারে।

হার্ভার্ড হেলথের আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একাধিক অ্যান্টিকোলিনার্জিক ওষুধ একসঙ্গে গ্রহণ করলে ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে, কারণ এসব ওষুধ মস্তিষ্কের স্মৃতি ও চিন্তাশক্তি নিয়ন্ত্রণকারী সংকেতের ওপর প্রভাব ফেলে।

আলঝেইমারস সোসাইটি জানিয়েছে, অ্যান্টিকোলিনার্জিক ওষুধ ও ডিমেনশিয়ার সম্পর্ক পুরোপুরি বুঝতে আরও গবেষণা প্রয়োজন। তবে ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে উদ্বিগ্ন ব্যক্তিদের চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টের সঙ্গে পরামর্শ করার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলেছেন, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া হঠাৎ করে কোনো প্রেসক্রাইব করা ওষুধ বন্ধ করা উচিত নয়। যারা নিয়মিত অ্যালার্জির ওষুধ ব্যবহার করেন, তারা চাইলে আধুনিক নন-ড্রাউজি অ্যান্টিহিস্টামিন বা বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কে চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করতে পারেন।

সর্বাধিক পঠিত


আরও খবর
ভিডিও