
লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ (বীর বিক্রম) বলেছেন, সংসদীয় ক্যু করে আমাকে প্রধানমন্ত্রী বানানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু আমি রাজি হয়নি।
পাবলিক ইনভেস্টিগেশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।
কর্নেল অলি আহমদ বলেন, ‘১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের ১৪৩ এমপি, বিএনপির ৪০ জন মিলে মোট ১৮৩ জন একটি সংসদীয় ক্যু করতে চেয়েছিল। তারা আমাকে প্রধানমন্ত্রী বানানোর প্রস্তাব দিয়েছিল। আমি প্রথম দুই দিন রাজি হয়েছিলাম, কিন্তু তৃতীয় দিনে আর রাজি হইনি। সেদিন আমি বলেছিলাম, এমন বেইমানি, মুনাফেকি আমি বেগম জিয়ার সাথে করতে পারব না।’
কর্নেল অলি আহমদ ছয়বার এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। তিনবার মন্ত্রী হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘সেই সময় ওই এমপিরা সংসদে একটি বিল আনতে চেয়েছিল। সেই বিলের মাধ্যমে মূলত ক্যু করতে চেয়েছিল।’
এলডিপির চেয়ারম্যান বলেন, ‘জিয়াউর রহমান আমাকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বানাতে চেয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, নির্বাচন করে ক্ষমতায় এলে আমাকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বানাবেন। কিন্তু অনেক মন্ত্রী তার কান ভারী করেছিলেন তাই আর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়া হয়নি।’
তিনি বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রীকে তার এমপিদের সামাল দেওয়ার অনুরোধ করব। তিনি যদি সামাল দিতে না পারেন, তাহলে প্রধানমন্ত্রীই বিপদে পড়বেন। এমপিদের কাজ হচ্ছে আইন প্রণয়ন করা। কিন্তু এখন এমপিদের সঙ্গে ডিসি-এসপিদের থাকতে হয়। রাজনৈতিক মিটিংয়ে তাদের রাখা কোনোভাবেই ঠিক না। প্রশাসনকে সব সময়ই এমপিদের কাছ থেকে দূরে রাখতে হবে। তাহলেই মানুষ ন্যায়বিচার পাবে। প্রধানমন্ত্রীর কাছে একাধিক সোর্স আছে। সেইগুলোকে কাজে লাগিয়ে তার রিপোর্ট নেওয়া উচিত। স্বশিক্ষিত লোকেরা এলাকায় কী ধরনের অত্যাচার করছে, কী ধরনের চাঁদাবাজি করছে, এটা তো প্রধানমন্ত্রীরই দায়িত্ব। তারই এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। এ ধরনের ৫-১০টা এমপিকে জেলে দিলে বিএনপির কোনো ক্ষতি হবে না ‘