
বাকিংহাম প্যালেস ২০২০ সালেই এমন একটি বিশাল ইমেইল সংকলন পেয়েছিল, যেখানে প্রিন্স অ্যান্ড্রুর সরকারি বাণিজ্য দূত হিসেবে কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তোলার মতো তথ্য ছিল। সম্প্রতি প্রকাশিত আদালতের নথি থেকে জানা গেছে, প্রায় ৩০ হাজার ইমেইলসম্বলিত এই আর্কাইভ রাজপ্রাসাদের শীর্ষ প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছেছিল, কিন্তু এরপর কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল তা এখনও স্পষ্ট নয়।
ইমেইলগুলো মূলত প্রিন্স অ্যান্ড্রুর ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়িক সহযোগী জনাথন রোল্যান্ডের যোগাযোগের নথি থেকে সংগৃহীত হয়েছিল। এসব বার্তায় অ্যান্ড্রুর সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগের বিবরণ পাওয়া যায়। সমালোচকদের দাবি, কিছু ইমেইল ইঙ্গিত দেয় যে তিনি সরকারি দায়িত্ব থেকে পাওয়া সংবেদনশীল তথ্য ব্যক্তিগত যোগাযোগদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছিলেন।
বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ২০১০ সালের কয়েকটি ইমেইল। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রিন্স অ্যান্ড্রু যুক্তরাজ্যের ট্রেজারি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে আইসল্যান্ডের ব্যাংকিং সংকট সম্পর্কিত একটি গোপন ব্রিফিং পেয়েছিলেন। পরে তিনি সেই তথ্য জনাথন রোল্যান্ডকে পাঠান বলে দাবি করা হচ্ছে। সে সময় রোল্যান্ড পরিবারের ব্যবসায়িক স্বার্থ আইসল্যান্ডের আর্থিক খাতের সঙ্গে যুক্ত ছিল। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, সরকারি দায়িত্ব থেকে পাওয়া তথ্য ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছিল কি না।
হাই কোর্টের নথি অনুযায়ী, ২০২০ সালের মে মাসে ইমেইল আর্কাইভের একটি কপি লর্ড চেম্বারলেইনের কার্যালয়ে পাঠানো হয়। লর্ড চেম্বারলেইন রাজপরিবারের প্রশাসনিক ব্যবস্থার অন্যতম শীর্ষ কর্মকর্তা। পরে নথিগুলো বাকিংহাম প্যালেসেও পৌঁছায়। তবে রাজপ্রাসাদ এই ইমেইলগুলো পর্যালোচনা করেছিল কি না, কিংবা কোনো তদন্ত শুরু হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
এদিকে পুলিশ প্রিন্স অ্যান্ড্রুর বিরুদ্ধে উত্থাপিত বিভিন্ন অভিযোগের তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। তদন্তে অসদাচরণ, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অন্যান্য সম্ভাব্য অপরাধসংক্রান্ত বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ নতুন তথ্য ও সাক্ষ্য আহ্বান করেছে। তবে প্রিন্স অ্যান্ড্রু বরাবরই সব ধরনের অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তার বক্তব্য, তিনি কখনও সরকারি পদ ব্যবহার করে ব্যক্তিগত সুবিধা নেননি।
নতুন এই তথ্য প্রকাশের পর আবারও প্রশ্ন উঠেছে—যদি ২০২০ সালেই বাকিংহাম প্যালেসের হাতে এসব ইমেইল এসে থাকে, তাহলে রাজপরিবারের কর্মকর্তারা ঠিক কী জানতেন এবং তারা কেন কোনো প্রকাশ্য পদক্ষেপ নেননি। বিষয়টি নিয়ে জনমনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।