যুক্তরাজ্য

Metro
৩১ মে ২০২৬, ১৭:০৫
আরও খবর

ব্রিটিশ পাসপোর্ট না থাকায় নিজ দেশে ফিরতে বাধা, গ্রিসে আটকে গেলেন ৩৯ বছর ধরে যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী ব্যক্তি

15609_SEI_299354020-8edb.jpg

যুক্তরাজ্যে শৈশবকাল থেকে বসবাস করলেও ব্রিটিশ পাসপোর্ট না থাকায় নিজ দেশে ফিরতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন এক ব্যক্তি। নতুন ভ্রমণবিধির কারণে গ্রিস থেকে ফেরার সময় তাকে বিমানে উঠতে দেওয়া হয়নি।

৩৯ বছর বয়সী কাইল হ্যারিস, যিনি যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করেছিলেন, সম্প্রতি স্ত্রী রুথ হ্যারিস ও দুই সন্তানকে নিয়ে গ্রিসের কেফালোনিয়া দ্বীপে এক সপ্তাহের ছুটিতে যান। ছুটি শেষে যুক্তরাজ্যে ফেরার জন্য জেট২-এর ফ্লাইটে উঠতে গেলে কর্তৃপক্ষ জানতে পারে যে তার কাছে ব্রিটিশ পাসপোর্ট নেই। এরপর তাকে দেশে ফেরার অনুমতি দেওয়া হয়নি।

কাইল হ্যারিসের জন্ম যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডে হলেও এক বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার আগেই তিনি যুক্তরাজ্যে চলে আসেন। এরপর থেকে সাউথ ইয়র্কশায়ারের হুইটলিতে বসবাস করছেন। তিনি যুক্তরাজ্যের স্কুলে পড়াশোনা করেছেন, দীর্ঘ ২৪ বছর কর ও জাতীয় বিমা পরিশোধ করেছেন এবং সেখানেই নিজের পরিবার গড়ে তুলেছেন।

ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তার স্ত্রী রুথ হ্যারিস। তিনি লেখেন, “কল্পনা করুন, আপনার স্বামীকে নিজের দেশে ফিরতে দেওয়া হচ্ছে না, যদিও তিনি সেখানে ৩৯ বছর ধরে বসবাস করছেন, কর দিয়েছেন, সন্তানদের বড় করেছেন এবং পুরো জীবন সেখানেই কাটিয়েছেন।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ভ্রমণ বুকিং, যাত্রা বা চেক-ইনের কোনো পর্যায়েই তাদের এ বিষয়ে সতর্ক করা হয়নি। তার দাবি, নতুন নিয়ম সম্পর্কে পর্যাপ্ত জনসচেতনতাও তৈরি করা হয়নি।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দ্বৈত নাগরিকত্বধারী ব্রিটিশ নাগরিকরা অন্য দেশের পাসপোর্ট ব্যবহার করেই যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করতে পারতেন। তবে ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন (ইটিএ) ব্যবস্থা চালুর পর নিয়ম পরিবর্তন করা হয়েছে। বর্তমানে সব ব্রিটিশ নাগরিককে নিজ দেশের পাসপোর্ট ব্যবহার করেই যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করতে হবে।

নতুন বিধি অনুযায়ী, ভিসামুক্ত বিদেশি নাগরিকদের যুক্তরাজ্যে প্রবেশের আগে ইটিএ অনুমোদন নিতে হয়। কিন্তু ব্রিটিশ নাগরিকরা এই অনুমোদনের জন্য আবেদন করতে পারেন না। ফলে যাদের দ্বৈত নাগরিকত্ব রয়েছে কিন্তু ব্রিটিশ পাসপোর্ট নেই, তারা জটিল পরিস্থিতিতে পড়ছেন।

এ অবস্থায় বিদেশে আটকে পড়া দ্বৈত নাগরিকদের ব্রিটিশ পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে হয় অথবা প্রায় ৫৮৯ পাউন্ড ব্যয়ে ‘সার্টিফিকেট অব এন্টাইটেলমেন্ট’ সংগ্রহ করতে হয়, যা বিদেশি পাসপোর্ট ব্যবহার করে যুক্তরাজ্যে প্রবেশের অনুমতি দেয়। তবে সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এ সনদ পেতে সর্বোচ্চ আট সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

রুথ হ্যারিস জানান, তার স্বামী একটি পিটুইটারি টিউমারে আক্রান্ত এবং ছুটির সময়ের জন্য যতটুকু ওষুধ প্রয়োজন ছিল, কেবল ততটুকুই সঙ্গে নিয়েছিলেন। ফলে বিদেশে অতিরিক্ত সময় অবস্থান করতে বাধ্য হওয়ায় নতুন করে চিকিৎসা ও ওষুধের ব্যবস্থাও করতে হয়েছে।

অবশেষে ব্রিটিশ কনস্যুলেটের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহ না করা পর্যন্ত পরিবারটিকে গ্রিসেই অবস্থান করতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে জেট২ এক বিবৃতিতে জানায়, কাইল হ্যারিসের বিষয়ে তাদের কর্মীরা যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুসরণ করেছেন এবং সরকারি নিয়ম অনুযায়ীই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ভ্রমণের আগে পররাষ্ট্র দপ্তরের সর্বশেষ ভ্রমণবিধি যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছে বিমান সংস্থাটি।

সর্বাধিক পঠিত


আরও খবর
ভিডিও