
জীবনের মোড় ঘুরে গেছে এক লটারি জয়ের মাধ্যমে। ৫.২ মিলিয়ন পাউন্ড (প্রায় ৫২ লাখ পাউন্ড) জেতার পর ডেলিভারি চালকের চাকরি ছেড়ে দিলেও বহু বছরের সহকর্মীদের ভুলে যাননি গ্যারি ম্যাকডোনাল্ড। বরং এক বছর পর তিনি ফিরে এসে তাদের জন্য নিয়ে যান ফুল, লটারি টিকিট এবং নানা উপহারে ভরা একটি হ্যাম্পার, যা উপস্থিত সবাইকে আবেগাপ্লুত করে।
৬১ বছর বয়সী গ্যারি ম্যাকডোনাল্ড তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে ইংল্যান্ডের এসেক্সের থারক এলাকায় অবস্থিত লেকসাইড শপিং সেন্টারের বিভিন্ন দোকানে পার্সেল সরবরাহের কাজ করতেন। প্রতিদিনের ডেলিভারির মাধ্যমে তিনি দোকানগুলোর কর্মীদের সঙ্গে গড়ে তুলেছিলেন ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। গত বছর জাতীয় লটারির জ্যাকপট জিতে রাতারাতি ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটলেও তিনি সেই পুরোনো সম্পর্কগুলোর কথা ভুলে যাননি।
লটারি জয়ের পর গ্যারি তার দীর্ঘদিনের সঙ্গী অনিতাকে বিয়ে করেন এবং পূর্ব লন্ডনের বার্কিং এলাকা ছেড়ে এসেক্সে একটি চার শয়নকক্ষের বাড়িতে বসবাস শুরু করেন। চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর ব্যস্ততার কারণে পুরোনো সহকর্মীদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ না হলেও তিনি মনে মনে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, একদিন অবশ্যই তাদের কাছে ফিরে যাবেন।
সম্প্রতি সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতেই তিনি আবার লেকসাইড শপিং সেন্টারে হাজির হন। সঙ্গে ছিল ফুলের তোড়া, লটোর লাকি ডিপ টিকিট এবং বিভিন্ন খাবার ও উপহারে সাজানো একটি হ্যাম্পার। হঠাৎ করে গ্যারিকে সামনে পেয়ে অনেকেই বিস্মিত ও আনন্দিত হয়ে পড়েন।
গ্যারি বলেন, “গত এক বছর আমার জীবনে অবিশ্বাস্য সব ঘটনা ঘটেছে। ৫.২ মিলিয়ন পাউন্ডের লটারি জয়, লটারির টেলিভিশন বিজ্ঞাপনে অংশ নেওয়া, বিয়ে করা এবং নতুন বাড়িতে ওঠা—সব মিলিয়ে সময়টা ছিল খুবই ব্যস্ত। তবে আমি সবসময় চেয়েছিলাম আমার পুরোনো সহকর্মীদের কাছে ফিরে আসতে। আজ সেই সুযোগ পেয়ে আমি আনন্দিত।”
তিনি জানান, লটারি জয়ের পর তার প্রথম কেনাকাটা ছিল একটি শার্ক ভ্যাকুয়াম ক্লিনার। তবে জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি অর্থ নয়, বরং দীর্ঘদিনের কর্মজীবনে গড়ে ওঠা মানবিক সম্পর্কগুলো বলে তিনি মনে করেন।
লেকসাইডের বেবিইজি দোকানের ব্যবস্থাপক ডোনা স্যামুয়েলস গ্যারির এই উদ্যোগকে “অবিশ্বাস্য চমক” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, “গ্যারি এমন কিছু করার কোনো বাধ্যবাধকতা ছিল না। কিন্তু তিনি আমাদের কথা মনে রেখেছেন, এটাই সবচেয়ে বড় বিষয়। তিনি সবসময় হাসিখুশি মানুষ ছিলেন। প্রতিদিন একটি রসিকতা বা হাসিমুখ নিয়ে আসতেন। হঠাৎ তাকে আর দেখতে না পেয়ে আমরা চিন্তিত হয়ে পড়েছিলাম। পরে যখন জানতে পারি তিনি লটারি জিতেছেন, তখন সত্যিই খুব খুশি হয়েছিলাম। এমন সৌভাগ্য তার মতো একজন ভালো মানুষেরই প্রাপ্য।”
গ্যারি বলেন, “প্রতিদিনের কাজের সময় একটি হাসি, কয়েকটি কথা কিংবা কখনও এক কাপ চায়ের মাধ্যমে আমাদের মধ্যে যে সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল, তা আমার কাছে খুব মূল্যবান। তাই লটারি জয়ের পর থেকেই এই মানুষগুলো আমার পরিকল্পনার অংশ ছিল। এখানে ফিরে এসে সবার মুখে হাসি দেখতে পেয়ে মনে হচ্ছে অপেক্ষাটা সার্থক হয়েছে।”
অর্থসম্পদ মানুষের জীবন বদলে দিতে পারে, তবে গ্যারি ম্যাকডোনাল্ডের এই উদ্যোগ প্রমাণ করেছে যে সত্যিকারের মানবিকতা ও কৃতজ্ঞতাবোধ কখনও বদলে যায় না। তার এই হৃদয়ছোঁয়া উপহার এবং পুরোনো সহকর্মীদের প্রতি ভালোবাসা স্থানীয় মানুষের প্রশংসা কুড়িয়েছে।