যুক্তরাজ্য

BBC
১ জুন ২০২৬, ১৫:০৬
আরও খবর

রুয়ান্ডা আশ্রয় পরিকল্পনা নিয়ে আইনি জয় যুক্তরাজ্যের, শত মিলিয়ন পাউন্ড ক্ষতিপূরণ দাবি খারিজ

15628_af512530-5d9f-11f1-b199-9da46582c1b0.jpg

বিতর্কিত রুয়ান্ডা আশ্রয় পরিকল্পনা বাতিলকে কেন্দ্র করে রুয়ান্ডা সরকারের করা শত মিলিয়ন পাউন্ড ক্ষতিপূরণ দাবিতে বড় আইনি জয় পেয়েছে যুক্তরাজ্য। আন্তর্জাতিক একটি আদালত রায় দিয়েছে, এই চুক্তি ভেঙে যাওয়ার পর যুক্তরাজ্যকে কোনো অর্থ পরিশোধ করতে হবে না।

হেগের পার্মানেন্ট কোর্ট অব আরবিট্রেশন-এ অনুষ্ঠিত তিন দিনের শুনানির পর আদালত এই সিদ্ধান্ত দেয়। রুয়ান্ডা সরকার দাবি করেছিল, যুক্তরাজ্য পূর্ববর্তী চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করেছে এবং তাদের প্রায় ১০০ মিলিয়ন পাউন্ডের বেশি ক্ষতিপূরণ পাওয়া উচিত, কারণ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রস্তুতিতে তারা বড় অঙ্কের ব্যয় করেছে।

তবে যুক্তরাজ্যের আইনজীবীরা আদালতে যুক্তি দেন যে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর নীতিগতভাবে এই পরিকল্পনা বাতিল করা “সম্পূর্ণ যৌক্তিক” ছিল এবং এর ফলে আর কোনো অর্থ প্রদানের বাধ্যবাধকতা নেই। তারা আরও দাবি করেন, চুক্তির কোনো গুরুত্বপূর্ণ ধারা যুক্তরাজ্য লঙ্ঘন করেনি।

রুয়ান্ডা সরকার জানিয়েছে, তারা আদালতের রায়কে সম্মান জানায় এবং বিষয়টি এখন শেষ হয়েছে বলে মনে করছে। তবে তারা একটি ভিন্নমত উল্লেখ করে জানায়, কিছু আইনি ব্যাখ্যা অনুযায়ী বিষয়টি আরও জটিল ছিল এবং চুক্তির আর্থিক শর্ত পরিবর্তন নিয়ে ভিন্ন মতামতও রয়েছে।

এই বিতর্কিত পরিকল্পনাটি প্রথমে ২০২২ সালে তৎকালীন কনজারভেটিভ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ঘোষণা করেন এবং পরে ঋষি সুনাকের সরকারের সময় এটি আরও এগিয়ে নেওয়া হয়। পরিকল্পনার উদ্দেশ্য ছিল, অবৈধভাবে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে আসা আশ্রয়প্রার্থীদের রুয়ান্ডায় পাঠিয়ে সেখানে তাদের আশ্রয় আবেদন প্রক্রিয়া করা।

পরবর্তীতে ২০২৪ সালে ক্ষমতায় আসা লেবার সরকার এই প্রকল্পটি বাতিল করে দেয়। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিকে “কার্যত শেষ” ঘোষণা করা হয়।

এই পরিকল্পনা শুরু থেকেই ব্যাপক আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। এমনকি ২০২২ সালে প্রথম ফ্লাইট উড্ডয়নের আগ মুহূর্তে ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালতের হস্তক্ষেপে সেটি বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে বহু মামলা-মোকদ্দমার পর প্রকল্পটি পুরোপুরি স্থগিত হয়ে যায়।

রুয়ান্ডা সরকার অভিযোগ করেছিল, পরিকল্পনা বাতিলের আগে তাদের যথাযথভাবে অবহিত করা হয়নি এবং প্রস্তুতির সময় তারা উল্লেখযোগ্য আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। তবে যুক্তরাজ্য সরকার আদালতে জানায়, তারা আইনগতভাবে সঠিক অবস্থানেই ছিল এবং নীতিগত পরিবর্তনের কারণে অতিরিক্ত অর্থ প্রদানের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।

যুক্তরাজ্য সরকারের এক মুখপাত্র বলেন, সরকার আদালতে তাদের অবস্থান দৃঢ়ভাবে উপস্থাপন করেছে এবং এখন তারা সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ও অবৈধ অভিবাসন মোকাবিলায় নতুন সংস্কারের দিকে মনোযোগ দিচ্ছে।

বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টির এক মুখপাত্র রায়কে স্বাগত জানালেও লেবার সরকারের সিদ্ধান্তকে সমালোচনা করে বলেন, রুয়ান্ডা পরিকল্পনা বাতিল করাই বর্তমান সীমান্ত সংকটের একটি কারণ।

অন্যদিকে শরণার্থী অধিকার সংস্থাগুলো বলছে, এই পরিকল্পনা আশ্রয়প্রক্রিয়াকে দীর্ঘসূত্রতা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলেছিল এবং এর ফলে অনেক মানুষ অনিশ্চিত অবস্থায় আটকে পড়েছিল।

আন্তর্জাতিক এই রায়ের মাধ্যমে রুয়ান্ডা প্রকল্প নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্কের একটি বড় অধ্যায়ের অবসান ঘটলেও, অভিবাসন নীতি নিয়ে যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক বিতর্ক অব্যাহত থাকবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সর্বাধিক পঠিত


আরও খবর
ভিডিও